
বাল্যবিবাহ ঠেকাতে গিয়ে মিথ্যা মামলা ও পুলিশি হয়রানির শিকার হওয়া এক তরুণের পক্ষে এবং ঘটনার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার অসহায় মা। শনিবার বিকাল ৫টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের বাতেন খাঁ মোড়ে একটি অফিসে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মা মোসাঃ ফুলেরা বলেন, “আমি একজন পিতা-হারা সন্তানের মা। আমার ছেলে মোঃ সোহেল রানা একজন সাহসী, মানবিক ও সমাজ সচেতন তরুণ। সে ‘জুলাই আন্দোলনের’ একজন সক্রিয় কর্মী।
তিনি জানান, গত ৩১ জুলাই, বৃহস্পতিবার, শহরের সরুপ নগর এলাকায় একটি বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে গিয়ে তার ছেলে হয়রানির শিকার হন। ঘটনার সূত্রপাত ঘটে যখন সোহেল রানা ঘটক মারফত বিয়ের খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে অবহিত করেন । এরপর ৩-৪ জন বন্ধুসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিয়েটি বন্ধে উদ্যোগ নেন তিনি।
তবে অভিযোগ অনুযায়ী, কনের বাবা অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা লিয়াকত আলী এবং তার আত্মীয়স্বজন উপস্থিত তরুণদের ওপর হামলা চালান। বন্ধুরা পালিয়ে গেলেও সোহেল রানাকে আটকে রাখা হয়। পরবর্তীতে লিয়াকত আলী ও তার হবু জামাই একজন এসআই তাদের প্রভাব খাটিয়ে সোহেলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
মোসাঃ ফুলেরা অভিযোগ করেন, “৯৯৯-এ কল করেও সহযোগিতা পায়নি আমার ছেলে। বরং এসআই হাই নামের একজন কর্মকর্তা ঘুষের বিনিময়ে মিথ্যা মামলা রুজু করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, থানার সেকেন্ড অফিসার রাজু দাবি করেছেন যে সোহেল গত বছর থানায় হামলা চালিয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সে সময় (৬ আগস্ট পর্যন্ত) সোহেল কারাগারে ছিল।
অসহায় এই মা প্রশাসন ও দেশের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্যে বলেন:“আইনের ঊর্ধ্বে কি অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা? ৯৯৯-এ কল দিয়েও যদি নিরাপত্তা না মেলে, তবে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? একজন নিরপরাধ ছেলেকে বারবার হয়রানি করে আমরা কীভাবে অপরাধ দমন করছি?”তিনি প্রধান উপদেষ্টা ও আইন উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে দাবি জানান:ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হোক,মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হোক,যেসব প্রভাবশালী ব্যক্তি এই ঘটনার পেছনে দায়ী, তাদের বিচার নিশ্চিত করা হোক।
তিনি বলেন, “আমার ছেলে অপরাধ করতে যায়নি, বরং একটি বাল্যবিবাহ ঠেকাতে গিয়েছিল। সে যেন এমন শিক্ষা না পায়—‘ভালো কাজ করলেই জেল হয়।’ একজন মা হিসেবে আমি ন্যায়বিচার চাই।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার রাজু আহমেদ জানান, সবগুলো অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) এ.এন.এম. ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, তাদের অভিযোগ গুলোর বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে কেউ যদি লিখিত অভিযোগ দেয় তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 














