ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি থেকে গোলের সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি লিওনেল মেসি। সেই মুহূর্তে আর্জেন্টিনা তখন পিছিয়ে, আর অধিনায়কের মনে হয়েছিল তার সেই ব্যর্থতাই হয়তো দলের বিশ্বকাপ যাত্রা থামিয়ে দেবে। তবে শেষ পর্যন্ত নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে সব হতাশা বদলে যায় আনন্দে।
মিসরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে ১৯ মিনিটে পাওয়া স্পট কিক থেকে গোল করতে পারেননি মেসি। তার শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবের। সেই ব্যর্থতার পর দীর্ঘ সময় ম্যাচে পিছিয়েই ছিল আর্জেন্টিনা।
৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা শেষ মুহূর্তে অসাধারণ লড়াই করে ম্যাচে ফেরে। শেষ ১৩ মিনিটে তিনটি গোল করে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় আর্জেন্টিনা। এই প্রত্যাবর্তনে একটি গোল করেন মেসি, আরেকটি গোলে রাখেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পেনাল্টি মিসের প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাননি আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। তিনি বলেন, সেই মুহূর্তে নিজের ওপরই সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ ছিলেন। তার মনে হয়েছিল, ভুল সিদ্ধান্তের কারণে দলের জন্য বড় বিপদ ডেকে এনেছেন।
মেসি জানান, দুই গোলে পিছিয়ে থাকার পর ম্যাচে ফিরে আসা সহজ ছিল না। তবে দল যেভাবে ধৈর্য ধরে লড়াই চালিয়ে গেছে, সেটিই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। তার মতে, কঠিন পরিস্থিতি সামলে জয় তুলে নেওয়ার অনুভূতি সব সময়ই বিশেষ।
এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নতুন একটি অধ্যায়ও লিখেছে আর্জেন্টিনা। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দুই বা তার বেশি গোলে পিছিয়ে থেকেও জয় তুলে নিয়েছে দলটি।
সতীর্থদের প্রশংসা করে মেসি বলেন, এই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার মানসিকতা। তিনি বিশ্বাস করেন, এই দল কখনো আশা হারায় না এবং যে কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্য রাখে। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই তারা শিরোপা ধরে রাখার লড়াই চালিয়ে যেতে চায়।