দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেছে অস্ট্রিয়া জাতীয় ফুটবল দল। প্রত্যাবর্তনের শুরুটাও হয়েছে দারুণভাবে। জর্ডানের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানে জয়ের মাধ্যমে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে রালফ রাংনিকের দল। এবার ‘জে’ গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে তাদের সামনে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল।
সোমবার (২১ জুন) ডালাসে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে এ ম্যাচ। এই ম্যাচের জয়ী দলই নিশ্চিত করবে নকআউট পর্ব। তাই ম্যাচটি দুই দলের জন্যই হয়ে উঠেছে গ্রুপের ভাগ্য নির্ধারণী লড়াই।
অস্ট্রিয়া এবারই প্রথম নয়, এর আগে সাতবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে তারা। শেষবার খেলেছিল ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স বিশ্বকাপে। এবার মিলিয়ে এটি তাদের অষ্টম বিশ্বকাপ। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ২৩ নম্বরে থাকা দলটি ইউরোপিয়ান ফুটবলের ধারাবাহিক এক শক্তি হিসেবেই পরিচিত।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে অস্ট্রিয়া
কনফেডারেশন: UEFA সেরা অর্জন: তৃতীয় স্থান (১৯৫৪) সর্বশেষ অংশগ্রহণ: ১৯৯৮ (গ্রুপ পর্ব) প্রথম বিশ্বকাপ: ১৯৩৪ মোট অংশগ্রহণ: ৮ বার রেকর্ড: ৩০ ম্যাচ, ১৩ জয়, ৪ ড্র, ১৩ হার গোল: ৪৬ (স্কোর), ৪৮ (কনসিড)
১৯৩৪ সালে প্রথমবার বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়ায় অস্ট্রিয়া। তখন তারা ছিল ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল, ‘ওয়ান্ডার টিম’ নামে পরিচিত। টানা ম্যাচ জয়ের ধারাবাহিকতায় তারা সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছালেও শেষ পর্যন্ত তৃতীয় স্থানই ছিল তাদের সেরা অর্জন।
১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপ ছিল তাদের শেষ উপস্থিতি। হার্বার্ট প্রোশকা’র অধীনে সেই আসরে নাটকীয়তার শেষ ছিল না—তিন ম্যাচেই ইনজুরি টাইমে গোল করে আলোচনায় আসে দলটি। তবে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয় তাদের।
১৯৫৪ বিশ্বকাপেই আসে অস্ট্রিয়ার সবচেয়ে বড় জয়। চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে ৫-০ গোলের সেই ম্যাচটি আজও তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয় হিসেবে বিবেচিত। একই আসরে উরুগুয়েকে হারিয়ে তারা অর্জন করে তৃতীয় স্থান।
অস্ট্রিয়ার বিশ্বকাপ স্কোয়াড:
গোলকিপার: প্যাট্রিক পেনৎস, আলেকজান্ডার শ্লাগার, ফ্লোরিয়ান উইগেলে।
ডিফেন্ডার: ডেভিড আফেনগ্রুবার, ডেভিড আলাবা, কেভিন ডানসো, মার্কো ফ্রিডল, ফিলিপ লিনহার্ট, ফিলিপ মভেনে, স্টেফান পসখ, আলেকজান্ডার প্রাস, মাইকেল সভোবোদা।
মিডফিল্ডার: ক্রিস্টফ বাউমগার্টনার, কার্নি চুকুয়েমেকা, ফ্লোরিয়ান গ্রিলিচ, কনরাড লাইমার, মার্সেল সাবিৎসার, জাভের শ্লাগার, রোমানো শ্মিড, আলেসান্দ্রো শপফ, নিকোলাস সাইভাল্ড, পল ভানার, প্যাট্রিক ভিমার।
ফরোয়ার্ড: মার্কো আরনাউটোভিচ, মাইকেল গ্রেগোরিচ, সাশা কালাইডজিচ।