প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ১:১৭ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ৩, ২০২৬, ১০:৩৯ অপরাহ্ণ
দেশের বৃহত্তম আমের বাজার চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট বাজারে বিভিন্ন জাতের আম উঠতে শুরু করেছে। ঈদের পর জেলার বিখ্যাত ক্ষীরশাপাতি, গোপালভোগ, লক্ষণভোগসহ গুটি জাতের আমের দেখা মিলছে বাজারে। তবে মৌসুমের শুরুতে বাজার পুরোপুরি জমে ওঠেনি। দাম নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে অনেক আমচাষির মধ্যে।
সরেজমিনে কানসাট আম বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারের প্রবেশপথে সারি সারি আমভর্তি টুকরি নিয়ে ভ্যানগাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। চাষিরা বিক্রির জন্য এসব আম বাজারে এনেছেন। তবে পর্যাপ্ত আমের সরবরাহ থাকলেও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ব্যাপারীদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম।
বর্তমানে বাজারে গুটি জাতের লখনা আম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, ল্যাংড়া আম ১ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার টাকা এবং ক্ষীরশাপাতি আম ১ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। আমের আকার ও ওজনভেদে দাম নির্ধারিত হচ্ছে।
চাষিদের দাবি, গত বছরের তুলনায় এবার আম উৎপাদনের খরচ বেড়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় আমের আকারও কিছুটা ছোট হয়েছে। বাজারে আমের দাম গতবারের তুলনায় কম।
তাদের মতে, পর্যাপ্ত আম সরবরাহ থাকলেও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যাপারী বাজারে আসেননি। সপ্তাহের শেষ দিকে ব্যাপারীদের উপস্থিতি বাড়লে দামও বাড়তে পারে বলে আশা করছেন তারা।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৯১২ মেট্রিক টন।
আমচাষি আমিনুল ইসলাম বলেন, বাজারে আম পর্যাপ্ত থাকলেও ক্রেতা কম। এ কারণে আমরা লোকসানের মধ্যে আছি। সামনে কী হবে বলতে পারছি না। তবে ক্রেতা বাড়লে ভালো দাম পাওয়া যাবে। আম চাষে প্রচুর খরচ হয়। ইতোমধ্যে ৭ থেকে ৮ বার স্প্রে করা হয়েছে। কীটনাশক ও শ্রমিক খরচও অনেক। পর্যাপ্ত দাম না পেলে আমরা ক্ষতির মুখে পড়বো।
আরেক আমচাষি মনিরুল ইসলাম বলেন, এ বছর আমের দাম খুবই কম। বাগান পরিচর্যায় যে পরিমাণ খরচ হয়েছে, বর্তমান দামে তা উঠবে না। কৃষক ও আমচাষিরা হতাশ। আমরা আমের ন্যায্য মূল্য চাই।
ফরিদপুর থেকে আসা আম ব্যবসায়ী রিপন বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার আমের দাম কম। বাজারে আমের সরবরাহ বেশি, কিন্তু ক্রেতা কম। তাই চাষিরা কম দাম পাচ্ছেন। পাইকার বেশি এলে দামও বাড়বে। আমি গত ২৪ বছর ধরে এই বাজার থেকে আম কিনছি এবং সন্তুষ্ট।
মাগুরা থেকে আসা ব্যবসায়ী শাহিন বলেন, প্রায় তিন বছর ধরে এখানে আমের ব্যবসা করছি। গতবারের তুলনায় এবার আমের সরবরাহ বেশি। দামও মোটামুটি ভালো। আমের মানও খারাপ নয়। ভালো মানের আম পাওয়া যায় বলেই প্রতিবছর এখানে আসি।
কানসাট আম বাজার আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রিয়াল বলেন, কোনো আমচাষি বাজারে এসে সমস্যায় পড়েন না। তবে বাজারজুড়ে যানজট রয়েছে। প্রশাসনের কাছে পর্যাপ্ত ট্রাফিক ব্যবস্থার অনুরোধ জানাচ্ছি।
কানসাট বাজারের ইজারাদার আমিনুল ইসলাম বলেন, এবার আমের উৎপাদন মোটামুটি ভালো হয়েছে। তিন-চার দিন হলো বাজার শুরু হয়েছে। উৎপাদন খরচের তুলনায় চাষিরা কম দাম পাচ্ছেন। এতে তাদের কিছুটা ক্ষতি হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবসায়ীরা আম কিনতে আসছেন। এখন পর্যন্ত কেনাবেচায় কোনো সমস্যা হয়নি। জাল টাকা শনাক্ত হয়নি। বাজারে ছিনতাই বা অপ্রীতিকর কোনো ঘটনাও ঘটেনি। এসব বিষয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি।
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম বলেন, কানসাটের আমের হাট বাংলাদেশের বৃহত্তম আমের হাট। যানজট নিরসনে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ট্রাফিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হাট ইজারাদাররাও নিজস্ব লোক নিয়োগ দিয়েছেন। হাটের কিছু সংস্কারকাজ চলছে, যা দ্রুত শেষ হবে বলে আশা করছি। জাল টাকা শনাক্তের মেশিনের প্রয়োজন হলে ইজারাদারদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।