চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার বারোঘরিয়া পেট্রোলপাম্পে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক তেল নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি আব্দুল্লাহ মেম্বার। তার দাপটের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছেন ‘আলী’জ ড্রিম ফিলিং স্টেশন’-এর কর্মচারীরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ওই ফিলিং স্টেশনে এসে আব্দুল্লাহ মেম্বার কর্মচারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। তিনি নিয়ম বহির্ভূতভাবে অন্যের মোটরসাইকেলে তেল দিতে বাধ্য করেন এবং টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন। এ সময় এক কর্মচারী আপত্তি জানালে তাকে থাপ্পড় মারার অভিযোগও উঠেছে।
পেট্রোলপাম্পের একাধিক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মেম্বারের প্রভাবের কারণে তারা ভয়ে কিছু বলতে পারছেন না। এমন ঘটনা নতুন নয় বলেও দাবি করেন তারা। প্রায়ই তিনি এসে নিজের ইচ্ছামতো তেল নেন এবং নিয়ম ভঙ্গ করেন।
ঘটনার পর থেকে কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
এ বিষয়ে আব্দুল্লাহ মেম্বারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আলী'জ ড্রিম ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী ইঞ্জিনিয়ার সুমন আলী বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানে সবসময় নিয়ম মেনেই তেল বিক্রি করা হয়। কিন্তু আজকে যে ঘটনাটি ঘটেছে অত্যন্ত দুঃখজনক। কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং জোরপূর্বক তেল নেওয়ার বিষয়টি আমরা মেনে নিতে পারি না। কেউ যদি প্রভাব খাটিয়ে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করি।
এবিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফ আফজাল রাজন বলেন, বারোঘরিয়ার একটি ফিলিং স্টেশনে জোরপূর্বক তেল নেওয়া ও কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণের যে অভিযোগ উঠেছে, বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। ইতোমধ্যে অভিযোগ পেয়েছি ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া শুরু হয়েছে। তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।