প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ৪:২৮ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ৯:৩০ অপরাহ্ণ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় পাপিয়া ও শুচি

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী হতে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিএনপির পাঁচ নেত্রী। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেত্রী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক মাসউদা আফরোজ হক শুচি।
স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা জানান, পাঁচজন নেত্রী মনোনয়ন জমা দিলেও আলোচনায় পাপিয়া ও শুচির মধ্যে কেউ একজন সংসদে যেতে পারেন। সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হলে এই জেলা থেকে একজন শক্তিশালী নারী নেত্রীকে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন দেওয়া প্রয়োজন। এই দাবি ঘিরেই বিএনপির একাধিক নারী নেত্রী ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে যোগাযোগ ও তৎপরতা শুরু করেছেন।
জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। তখনই সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও তৎপরতা। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণায় ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ প্রেক্ষাপটে দেশের অন্যান্য জেলার মতো সীমান্তবর্তী চাঁপাইনবাবগঞ্জেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে চলছে জোর লবিং ও রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ। জেলার তিনটি সংসদীয় আসনেই প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা বিজয়ী হওয়ায় বিএনপির মধ্যে এক ধরনের কৌশলগত ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে সংরক্ষিত নারী আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সৈয়দা আশিফা আশরাফি পাপিয়া এবং জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক মাসউদা আফরোজা হক শুচি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসন শুধু প্রতিনিধিত্বের বিষয় নয়, বরং দলীয় ভারসাম্য, তৃণমূলের সন্তুষ্টি এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএনপির প্রার্থীরা সরাসরি নির্বাচনে জয়ী না হওয়ায় এই আসনকে ঘিরে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে। সব মিলিয়ে, কেন্দ্রীয় মনোনয়ন ঘোষণার আগ পর্যন্ত জেলায় রাজনৈতিক তৎপরতা ও আলোচনা আরও বাড়বে বলেই ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপি নেতা জানান বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরা বিপুল সংখ্যক ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন, সেক্ষেত্রে সরকারি দল হিসেবে জেলায় বিএনপির নেতৃত্ব নাই বললেই চলে। বর্তমান জেলায় আলোচিত নেত্রী হচ্ছেন সাবেক এমপি সৈয়দা আশিফা আশরাফী পাপিয়া ও জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক মাসউদা আফরোজ হক শুচি। এ দুজনেই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও সংগ্রাম করেছেন জেল খেটেছেন ও দলীয় নেতা কর্মীদের আইনি সহায়তা করেছেন। দুজনেই শিক্ষিত ও কর্মীবান্ধব নেতা।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫