চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে একটি সালিশে বিরোধকে কেন্দ্র করে আটকে রেখে আইনজীবীদের হামলায় ৭ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে পুলিশ। হামলার ৮ ঘন্টা পর রাত ১২টার দিকে আইনজীবী সমিতির ভবন থেকে আরও দুই আহতকে অবরুদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। এনিয়ে মোট ৭ জনকে উদ্বার করেছে পুলিশ।
আহতদের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। রবিবার (১৭ মে) বিকেল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত আটকে রেখে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ আইনজীবী ও তাদের সহকারীদের বিরুদ্ধে৷
প্রত্যক্ষদর্শী, হামলার শিকার আহত ব্যক্তি ও স্বজন, হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিকেলে একটি সালিসকে কেন্দ্র করে বিরোধের এক পর্যায়ে ইমাম হাসান বারু নামের এক ব্যক্তিকে আটকে মারধর করে আইনজীবী ও তাদের সহকারীরা। এসময় বারুর দুই ছেলে ও পরিচিত কয়েকজন তাদেরকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাদেরকেও ঘরে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে পুলিশ তাদেরকে দফায় দফায় উদ্বার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এসময় স্টার নিউজের জেলা প্রতিনিধি মাহমুদুল হাসান তুষার সংবাদ সংগ্রহে গেলে তাকেও আইনজীবী সমিতির সামনে থেকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে তুলে নিয়ে দোতলায় আটকে অপরুদ্ধ করে রাখা হয় এবং তার মুঠোফোন ও আইডি কার্ড কেড়ে লাঞ্চিত করা হয়। এমনকি পুলিশের বিশেষ শাখার এক সদস্যদের মুঠোফোন কেড়ে হুমকি ও গালিগালাজ করা হয়। অবরুদ্ধ সাংবাদিক তুষারকে ছুটিয়ে আনতে কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গেলে তাদেরকেও মারধর করতে এগিয়ে আসে আইনজীবীরা।
এ ঘটনায় আহত ৭ জনের মধ্যে বেশিরভাগই স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে যাওয়ার সময় আটকে রেখে ব্যাপক মারধর করা হয়েছে বলে জানান মধ্যরাতে উদ্বার হওয়া দুই তরুণ সিফাত ও পরশ। আহতদের সবাইকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। তবে একাধিকবার যোগাযোগ করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি আইনজীবীদের।
আহতরা হলেন, জেলা শহরের বালুবাগান এলাকার ইমাম হাসান বারু (৪৬), তার ছেলে রেদওয়ান আহমেদ (২২), আরেক ছেলে ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র হাসানুল বান্না আকিব (১৪), একই এলাকার মমিন আলীর ছেলে জিদান (১৯), সিফাত আলী (১৮), রাইহান মন্ডলের ছেলে পরশ (১৬) ও সদর উপজেলার মহারাজপুর এলাকার কুইক (১৯)।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ জানান, এ ঘটনায় আহত হয়েছে মোট ৭ জন। তাদেরকে সকলকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। কিন্তু গুরুতর আহত রয়েছে তিন জন। রাত ১টা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোন মামলা হয়নি বলেও জানান তিনি।