হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) রাত ১টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের হাম আইসোলেশন কর্নারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আধা ঘণ্টা আগে দেড় বছর বয়সী ওই শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করে স্বজনরা। মৃত শিশু চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের বিরাহিমপুর গ্রামের রনির মেয়ে লামিয়া খাতুন।
জানা যায়, রাতে তীব্র শ্বাসকষ্ট ও জ্বর নিয়ে জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ওই শিশুকে নিয়ে আসেন স্বজনরা। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর হাম আইসোলেশন কর্নারে তাকে ভর্তি করা হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হলেও সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত শিশুর জ্বর, তীব্র শ্বাসকষ্ট ছাড়াও শরীরের বিভিন্ন অংশে দাগের চিহ্নসহ হামের বিভিন্ন উপসর্গ ছিল বলে জানান চিকিৎসকরা।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মোসফিকুর রহমান বলেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া হামে আক্রান্ত হওয়ার কথা বলা যাবে না। তবে মৃত শিশুটির হামের বিভিন্ন উপসর্গ ছিল। তিনি আরও বলেন, তীব্র শ্বাসকষ্ট ও জ্বর নিয়ে হাসপাতালে আসার পর শিশুটির প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা শুরু করার কিছু সময় পরেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। তার পরিবারকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হলেও তারা সেই সক্ষমতায় ছিল না।
হাম আইসোলেশন কর্নারে চিকিৎসাধীন রোগীর স্বজনরা জানান, মৃত শিশুটি তীব্র শ্বাসকষ্টে ভুগছিল। অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক ছিল। সেই শিশুর মতো অনেকেরই অবস্থা ভয়াবহ খারাপ। এক রুমের মেঝেতেই অর্ধশতাধিক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন গাদাগাদি ঠাসাঠাসি করে। চিকিৎসক ও নার্সদের সেবা এবং ওষুধপত্র ঠিকমতো না পাওয়ার অভিযোগ করেন রোগীর স্বজনরা।
এদিকে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে বুধবার (১৫ এপ্রিল) পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ৭০২ জন রোগী এবং হামের উপসর্গ নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলা হাসপাতালের হাম আইসোলেশন কর্নারে ভর্তি হয়েছে ৩৯ জন রোগী এবং ছাড়পত্র নিয়েছে ৫ জন।