চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার হাকিমপুর সীমান্ত সংলগ্ন পদ্মা নদীর চর থেকে শওকত আলী (৩৫) নামে এক বাংলাদেশির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার দিবাগত রাতে নৌ-পুলিশ ও শিবগঞ্জ থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত শওকত আলী শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের তারাপুর ঠুঁঠাপাড়া গ্রামের মৃত মো. মিজানের ছেলে। তিনি গত ১০ মে থেকে নিখোঁজ ছিলেন বলে জানিয়েছে পরিবার।
নৌ পুলিশের গোদাগাড়ী ইউনিটের ওসি জীবন রায় জানান, স্থানীয়দের দেওয়া সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাত প্রায় ২টার দিকে পদ্মা নদীর চর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, মরদেহটি নদীতে ভাসতে ভাসতে চরে এসে আটকে যায়। উদ্ধারকালে মরদেহটি অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে গুলির কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানান তিনি।
শিবগঞ্জ থানার ওসি মতিউর রহমান বলেন, “গত ১০ মে থেকে শওকত নিখোঁজ ছিলেন। স্থানীয়দের তথ্যমতে তিনি সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।”
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “হাকিমপুর সীমান্তের পদ্মার চর এলাকায় দুই দেশের জিরো লাইন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মরদেহটি ভারতীয় অংশে ছিল। পরে নিহতের স্বজনরা সেটি বাংলাদেশ ভূখণ্ডে নিয়ে আসে। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।”
তিনি আরও জানান, গত ১০ মে রাতে শওকতসহ কয়েকজন চোরাচালানের উদ্দেশ্যে ভারতে গিয়েছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যরা ফিরে এলেও শওকত নিখোঁজ ছিলেন। তবে তার মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে বিজিবির কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি।