চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার আলোচিত একটি ধর্ষণ মামলায় শিশুর জৈবিক পিতৃত্ব নির্ধারণ এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামি, ভুক্তভোগী নারী ও শিশুর ফরেনসিক ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পর আদালত বাংলাদেশ পুলিশ সিআইডির ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরিতে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।
আদালতের আদেশ এবং মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও গোমস্তাপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন মন্ডলের জামাই সাকিব আলীর বিরুদ্ধে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়। একপর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লেও অভিযুক্ত তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার চলমান অবস্থায় একটি সন্তানের জন্ম হলে শিশুটির প্রকৃত পিতৃত্ব নির্ধারণ মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে দাখিল করা আবেদনে উল্লেখ করেন, মামলার প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে আসামি, ভুক্তভোগী ও শিশুর ডিএনএ পরীক্ষা অত্যন্ত প্রয়োজন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ফরেনসিক ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে নমুনা সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন মামলার বিচারিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এর ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম পরিচালিত হতে পারে।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৩ আগস্ট গোমস্তাপুর উপজেলার রাজারামপুর গ্রামে প্রবাস থেকে দেশে ফিরে বাবুল হক নিজ বাড়িতে তার স্ত্রী ও সাকিব আলীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের আটক করলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, প্রবাসে থাকা অবস্থায় বাবুল হকের স্ত্রী আক্তারা খাতুনের সঙ্গে সাকিব আলীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি নিয়ে থানায় উভয় পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে একাধিকবার সমঝোতার চেষ্টা হলেও তা সফল হয়নি বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
ঘটনার পর শিশুর পিতৃত্ব নিয়ে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের আলোচনা শুরু হয়। তবে এ বিষয়ে আদালতের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা বৈজ্ঞানিক প্রমাণ না থাকায় প্রকৃত সত্য উদঘাটনের লক্ষ্যে আদালত ফরেনসিক ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন।
এ ছাড়া প্রবাসী বাবুল হক অভিযোগ করেন, বিদেশে উপার্জিত প্রায় ১০ লাখ টাকা তার স্ত্রীর কাছে রয়েছে। এ বিষয়টি নিয়েও দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অভিযুক্ত সাকিব আলী বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় এখনো হয়নি। ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মামলার পরবর্তী অগ্রগতি নির্ধারিত হবে।