
জিলহজ মাসের বরকতময় দিনগুলো মুসলিম উম্মাহর জন্য ইবাদত, ত্যাগ ও আল্লাহর স্মরণে ভরপুর। এই দিনগুলোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো- ‘তাকবিরে তাশরিক।’ অনেকেই এর সময়, বিধান ও করণীয় সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকায় বিভ্রান্ত হন। তাই এ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা প্রয়োজন।
জিলহজ মাসের ৯ থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত সময়কে বলা হয় ‘আইয়ামে তাশরিক।’ এই দিনগুলো ইসলামি বিধানে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই সময়ে প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর নির্দিষ্ট বাক্যে আল্লাহতায়ালার বড়ত্ব ঘোষণা করা ওয়াজিব, যা ‘তাকবিরে তাশরিক’ নামে পরিচিত।
তাকবিরে তাশরিকের বাক্যগুলোর উৎস সম্পর্কে আল্লামা বদরুদ্দিন আইনি (রহ.)-সহ একাধিক আলেম একটি বর্ণনা উল্লেখ করেছেন-
হজরত ইবরাহিম (আ.) যখন তার পুত্র হজরত ইসমাঈল (আ.)-কে কোরবানি করতে উদ্যত হলেন, তখন হজরত জিবরাঈল (আ.) আকাশ থেকে দুম্বা নিয়ে আসছিলেন। পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে দেখে তিনি বলে উঠলেন, ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার।’ হজরত ইবরাহিম (আ.) সাড়া দিয়ে বললেন, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার।’ আর হজরত ইসমাঈল (আ.) বললেন, ‘আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।’ এই বর্ণনা মারফু হাদিস নয়, তবে ইসলামি স্কলাররা এটি উল্লেখ করেছেন তাকবিরের শব্দাবলির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট হিসেবে। -ফতোয়ায়ে শামি: ২/১৭৮