সারাদেশে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৬৭৮ জন জাল সনদধারী শিক্ষক-কর্মচারীর তালিকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার রাজবাড়ি কলেজের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তাদের প্রায় এক কোটি টাকা বেতন-ভাতা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে বলা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের এক আদেশে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। আদেশটির কপি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে।
আদেশ অনুযায়ী, রাজবাড়ি কলেজের গণিত বিভাগের প্রভাষক মো. ইসাহাক আলী ২০১২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি কলেজে যোগদান করেন এবং ২০১৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি এমপিওভুক্ত হন। তার এমএসসি (গণিত) সনদ যাচাইয়ের জন্য ২০২২ সালের ৩ জানুয়ারি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়-এ চিঠি পাঠানো হয়।
পরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল পাঠানো এক মতামতে সনদটি অকৃতকার্য ও জাল বলে উল্লেখ করে। এ কারণে তার নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি বলে তদন্ত কমিটি নিশ্চিত করে। একই সঙ্গে ২০১৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নেওয়া ৩৪ লাখ ৪০ হাজার ৯৫৩ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, একই কলেজের যুক্তিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক মো. খলিলুর রহমান ২০০০ সালের ৬ জানুয়ারি কলেজে যোগদান করেন। নিয়োগের সময় তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল এমএ তৃতীয় বিভাগ। তবে ১৯৯৫ সালের ২৪ অক্টোবর জারি করা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী প্রভাষক পদে দ্বিতীয় বিভাগ বাধ্যতামূলক ছিল।
এ কারণে তার নিয়োগও বিধিসম্মত হয়নি বলে কর্তৃপক্ষ মত দেয়। তাঁর নেওয়া ৫৮ লাখ ৭৫ হাজার ৭০১ টাকা বেতন-ভাতা সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মো. ইসাহাক আলী বলেন, মন্ত্রণালয়ের চিঠির লিখিত জবাব দেওয়া হয়েছে। এখন মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
মো. খলিলুর রহমান বলেন, চিঠির জবাব দেওয়ার পাশাপাশি এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে রিট করা হয়েছে।
রাজবাড়ি কলেজের অধ্যক্ষ মো. সাদিকুল ইসলাম বলেন, মন্ত্রণালয়ের চিঠি কয়েক দিন আগে হাতে পেয়েছেন। অভিযুক্ত শিক্ষকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে এবং প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে।