চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় একটি মাদরাসার সংস্কার প্রকল্পকে কেন্দ্র করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের এক উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দাবি, প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানোর চেষ্টা করছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, নাচোল উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের আলীশাপুর দাখিল মাদরাসার ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত টিনের চালা সংস্কারের জন্য ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে উপজেলা পরিষদের রাজস্ব খাত থেকে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পটি পিআইসি কমিটির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয় এবং কারিগরি তদারকির দায়িত্বে ছিলেন এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী ফাহাদ আলী।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও আয়কর কর্তনের পর অবশিষ্ট প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে টিনের চালা পুনর্নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা হয়। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর মাদরাসার সুপার মাওলানা রবিউল ইসলাম কাজ সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রত্যয়নপত্র প্রদান করেন।
তবে সম্প্রতি প্রকল্পের সভাপতি ও ফতেপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য মোছা. ইসমোতারা গণমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে প্রকল্পের কাজ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন, তাকে যথাযথভাবে অবহিত না করেই প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে এবং কাজও সঠিকভাবে হয়নি। তবে তার বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের কোনো কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে কয়েকটি গণমাধ্যমে ইউএনও কার্যালয়ের উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তা রবিউল ইসলামের নাম জড়িয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সাদেকুল ইসলাম বলেন, “বরাদ্দের অর্থের বিধি অনুযায়ী কর ও ভ্যাট কর্তনের পর অবশিষ্ট অর্থে কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্প সভাপতি বিল-ভাউচার, চুক্তিপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। ফলে কাজ সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না—এমন দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।”
এলজিইডির দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলীও জানান, কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর প্রকল্প সভাপতি ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষর ও প্রত্যয়ন দিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, আমি শুধু প্রকল্পের চেক রেজিস্টারে এন্ট্রি করে ফাইল নোটের মাধ্যমে ইউএনওর কাছে উপস্থাপন করেছি। প্রকল্পের অর্থ লেনদেনের সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।
জানা গেছে, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জেলা ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা জাহিদ হাসান গত ২৭ এপ্রিল তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।