ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাঙ্গাবাড়ি ঘুঘিয়া আনারপুর সীমান্তে ২৮ জনকে পুশইনের পর সীমান্তের শূণ্য রেখায় মানবেতর জীবনযাপন করছে ১২ পুরুষ ১০ নারী ও ৬ শিশু।
বৃহস্পতিবার রাত ৮টা পর্যন্ত সরেজমিন ঘটনাস্থল অমানবিক এই পরিস্থিতি দেখা গেছে। এদিকে দুপুরে পর প্রচন্ড বজ্রপাত ঝড় বৃষ্টির মধ্যে তারা আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ২০৩/৬-আর এর শূণ্য রেখায় অবস্থা করছিল। ভয়াবহ এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত নারী ও শিশুদের আর্তনাদ শোনা গেছে।
৪ জুন বৃহস্পতিবার গভীর রাত ৩টার সময় বাংলাদেশের বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ২৮ জনকে পুশইন করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী’র ১২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের আশরাফপুর ক্যাম্পের সদস্যরা। তবে ১৬ নওগাঁ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সদস্য ও স্থানীয় নাগরিকদের বাঁধায় বিএসএফ’র বেআইনি পুশইন সফল হয়নি।
এঘটনায় বিজিবি ও বিএসএফ’র কোম্পানি ও ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে দুই দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। শূন্য রেখায় অবস্থানকারীরা চরম অমানবিক পরিস্থিতিতে পড়েছেন। তারা খোলা আকাশের নিচে তীব্র গরম এবং দুপুরের পর বজ্রপাত ঝড়-বৃষ্টিতে অবর্ণনীয় দুভোগ পোহাতে দেখা গেছে। রাতের অন্ধকারের জঙ্গলের ভেতর চরম ঝুঁকির মধ্যে অবস্থা করছে। তবে দুপুরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফকে দুপুরের খাবার খেতে নিয়ে যেতে দেখা গেছে।
স্থানীয়রা জানায়, গভীর রাতে বিএসএফ জোর করে ২৮ জনকে পুশ ইন করার চেষ্টা করে। পরে বিজিবি তাদেরকে বাধা দেয়। সীমান্তের শূন্য লাইনে তারা মানবেতর সময় পার করছে। তারা শুধু মুসলমান হওয়ার কারণে ভারতে তাদেরকে নির্যাতন করা হচ্ছে। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা বিজিবির সাথে সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থায় আছি। কোনোভাবেই বিএসএফ'র এধরণের মানবতাবিরোধী অমানবিক আচরণ মেনে নেয়া হবে না বলে জানান তারা।
১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, বৃহস্পতিবার ভোর আনুমানিক ৩টার দিকে ভারতের ১২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের আশরাফপুর ক্যাম্পের সদস্যরা ২৮ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। ঘটনার পরপরই বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক বিজিবি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে, কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইন বাংলাদেশের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বাংলাদেশি নাগরিক হয়ে থাকেন, তবে প্রচলিত আইন ও দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।
বিজিবি দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বাহিনী সর্বদা তৎপর রয়েছে এবং সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম কঠোরভাবে প্রতিহত করবে।
বিজিবি’র রাজশাহী সেক্টর কমান্ডার কর্নেল সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং দুঃখজনক। সীমান্তের জন্য আন্তর্জাতিক আইন রয়েছে। অথচ বিএসএফ তা অনুসরণ না করে অবৈধভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশইন করেছে। এবিষয়ে আমাদের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ আলোচনার পর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সাথে অবৈধভাবে পুশইন করা ২৮ জন ব্যক্তিকে পুনরায় ভারতীয় ভূখণ্ডে ফেরত পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।