একটি মানবিক প্রতিবেদন যে মানুষের জীবন কতটা বদলে দিতে পারে, তার অনন্য দৃষ্টান্ত তৈরি হলো চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে। দেশের জনপ্রিয় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘নিউজ টোয়েন্টিফোর’-এর ডিজিটাল বিভাগের জেলা প্রতিনিধি মোঃ সুমন আলীর একটি ভিডিও প্রতিবেদনের কল্যাণে রাতারাতি ভাগ্য বদলে গেছে উপজেলার তেলিয়াপাড়া গ্রামের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী (অন্ধ) মুখলেস মিয়ার।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে নগদ আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন অসহায় মুখলেস। আর এই মানবিক উদ্যোগের নেপথ্যে থাকা সাংবাদিক সুমন আলী এখন ভাসছেন ভোলাহাটবাসীর প্রশংসায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরম অভাব-অনটনে কাঠ কুড়িয়ে, সে কাঠ মুখলেসের মা বিক্রি করে যে টাকা পাচ্ছিলেন তা দিয়ে দিন কাটছিল ভোলাহাট উপজেলার তেলিপাড়ার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মুখলেসের। বিষয়টি নজরে আসে নিউজ টোয়েন্টিফোর-এর জেলা প্রতিনিধি (ডিজিটাল) মোঃ সুমন আলীর। তিনি মুখলেসের কষ্ট ও জীবনযুদ্ধের ওপর একটি হৃদয়স্পর্শী মাল্টিমিডিয়া প্রতিবেদন তৈরি করেন।
প্রতিবেদনটি নিউজ টোয়েন্টিফোর-এর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ হওয়ার পর মুহূর্তের মধ্যে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। দেশ-বিদেশে ব্যাপক সাড়া জাগায় মুখলেসের এই জীবনের গল্প।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর তা সরকারের উচ্চপর্যায়ের নজরে আসে। অসহায় এই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেরি করেননি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ে রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিন শওকত মুখলেসের কাছে পৌঁছে দেন নগদ অর্থ সহায়তা, যা তার অন্ধকার জীবনে এক নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে।
অর্থ সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত মুখলেসের মা বলেন, "আমি কোনোদিন ভাবিনি প্রধানমন্ত্রী আমাদের খোঁজ নেবেন। সুমন নামের সাংবাদিকের উসিলায় আজ আমার ভাগ্য বদলে গেল। আমি প্রধানমন্ত্রী ও সাংবাদিক সুমনের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।"
সাংবাদিকতার এই ইতিবাচক ভূমিকার পর থেকে পুরো ভোলাহাট উপজেলা জুড়ে বইছে আনন্দের বন্যা। সুমন আলীর এমন সততা ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার ভূয়সী প্রশংসা করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষ।
ভোলাহাটের সাধারণ মানুষ বলছেন, সাংবাদিকতা যে কেবল খবর পরিবেশন নয়, বরং সমাজের অবহেলিত মানুষের ভাগ্য বদলের হাতিয়ার হতে পারে—সুমন আলী সেটি প্রমাণ করে দিয়েছেন। তার এই সাহসী ও মানবিক নিউজের কারণেই আজ একটি অসহায় পরিবার নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছে।