এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের ৬ ও ৭ দুটি ভুল প্রশ্নে পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে তিনি এ কথা জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা দায়িত্ব পেয়েছি মাত্র ৪ মাস। প্রশ্ন মডারেশনের কাজ দুই বছর আগে থেকেই শুরু হয়। ফলে এই প্রশ্নপত্র আগের সরকারের দায়িত্বে থাকা মডারেটররা প্রস্তুত করেছিলেন। তবুও আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘোষণা দিয়েছি যে পদার্থবিজ্ঞানের ৬ এবং ৭ দুইটি প্রশ্নে ভুল হয়েছে সেটাকে আমরা ফুল ক্রেডিট দিয়ে দেব।
তিনি আরও বলেন, সারা দেশে পরীক্ষার জন্য প্রায় ২ হাজার ৭০০টি কেন্দ্র রয়েছে, যা ৬৪টি জেলায় একযোগে পরিচালিত হয়। এদিকে, চট্টগ্রাম অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির কারণে পর্যায়ক্রমে প্রথমে রাঙামাটি, পরে বান্দরবান, এরপর খাগড়াছড়ি এবং সর্বশেষ পুরো চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল।
তিনি জানান, পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। এ সময় ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি), ৮ বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, ইউএনও এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হয়। আবহাওয়া অধিদফতর থেকে জানানো হয়েছিল, বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। বিকেল ৫টা পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সংশ্লিষ্ট সবার মতামতের ভিত্তিতেই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
তিনি বলেন, সকালে দেখা যায় কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের মাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে মেয়র, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও জেলা প্রশাসককে কেন্দ্র স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে কলেজের ৫তলা ভবনে নিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়। তিনি বলেন, পরীক্ষার্থীদের সেই দুর্ভোগ সরকার দেখেছে।
এসময় শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ ছাড়া দেশের অন্য কোথাও পরীক্ষায় কোনো রকম দুর্যোগ ঘটেনি বলে জেলা প্রশাসক ও ইউএনওরা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, পরীক্ষা পরিচালনার বিদ্যমান ব্যবস্থায় স্থানীয় প্রশাসন-জেলা প্রশাসক, ইউএনও, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন কোনো কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব কি না। যদি তারা মনে করেন দুর্যোগ, তারা পরীক্ষা বন্ধও করতে পারেন। সরকার সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে।