মানুষের জীবনের শেষ অধ্যায়ে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় ভালোবাসা, সম্মান এবং আপনজনের সান্নিধ্য। কিন্তু নানা বাস্তবতায় অনেক প্রবীণ মানুষকে জীবনের এই সময়টুকু কাটাতে হয় বৃদ্ধাশ্রমে। তাদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং খোঁজখবর নিতে পুঠিয়ার সাধনপুরে অবস্থিত একটি বৃদ্ধাশ্রম পরিদর্শন করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাশ।
পরিদর্শনকালে তিনি আশ্রমে অবস্থানরত প্রবীণ নারী-পুরুষদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটান, তাদের সুখ-দুঃখের গল্প শোনেন এবং খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি তাদের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা, স্মৃতি এবং অনুভূতির কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন।
শিবু দাশ বলেন, “সেখানে অবস্থানরত প্রবীণ মানুষগুলোর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অনুভব করলাম—বয়স বাড়লেও ভালোবাসা, সঙ্গ আর আন্তরিকতার চাহিদা কখনো ফুরিয়ে যায় না। তাদের অনেক না-বলা গল্প, স্মৃতি আর মনের গভীরে জমে থাকা আবেগের সাক্ষী হওয়ার সুযোগ হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, আশ্রমে থাকা প্রবীণদের কয়েকটি ছোট্ট আবদার তার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। তাদের সেই চাওয়াগুলো পূরণে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলেও আশ্বাস দেন।
বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দারা জানান, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের খোঁজখবর নিতে এলে তারা মানসিকভাবে অনেক অনুপ্রাণিত হন। তাদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো কারও আন্তরিক সময় এবং ভালোবাসা।
সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি উল্লেখ করে শিবু দাশ বলেন, “আমাদের প্রবীণরা সমাজ ও পরিবারের জন্য জীবনের দীর্ঘ সময় ব্যয় করেছেন। তাই তাদের প্রতি সম্মান, যত্ন এবং ভালোবাসা দেখানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সুযোগ হলে সবাই যেন তাদের পাশে দাঁড়ান।”
সমাজসেবকরা মনে করেন, প্রবীণদের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রবীণদের জীবন আরও আনন্দময় ও মর্যাদাপূর্ণ করা সম্ভব।
একটি ছোট্ট হাসি, কিছু আন্তরিক কথা কিংবা কিছুটা সময়—এসবই হয়তো একজন প্রবীণ মানুষের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালাতে পারে। আর সেই মানবিক বার্তাই যেন নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিল পুঠিয়ার সাধনপুরের এই বৃদ্ধাশ্রম পরিদর্শন।