১৯৯৫ সালে নির্মিত সড়ক দিয়েই প্রায় ৩ দশক ধরে চলছে সোনামসজিদ স্থলবন্দর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী হয়ে সারা দেশের পণ্য আমদানি-রপ্তানি। শুধু স্থলবন্দর থেকেই ভারী পণ্য নিয়ে দৈনিক ৭০০-৮০০ পন্যবাহী ট্রাক যাতায়াত করে। ফলে সড়কের বিভিন্ন জায়গায় সড়কে গর্তসহ খালখন্দে পরিণত হয়েছে। ছোট সড়কে পণ্যবাহী ট্রাক ছাড়াও অন্যান্য যানবাহনের চাপে প্রতিনিয়ত ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। এমন অবস্থায় সড়ক সম্প্রসারণের দাবি জানান স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা।
দীর্ঘ ৩২ বছর পর অবশেষে সোনামসজিদ স্থলবন্দর-চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়কটি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গত বছরের মে-জুন মাসে শুরু হয়ে চলতি বছরে ফেব্রুয়ারীর মাঝামাঝি পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ প্রায় ৪৫ শতাংশ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে সড়ক বিভাগ।
এগিয়ে চলছে মাটি খনন করে বালু ও পাথর ভরাটের কাজ। নির্মাণ করা হচ্ছে ড্রেন কালভার্ট। ৬.২ মিটার সড়ক প্রসস্থ হয়ে এখন হবে ১০.৩ মিটার, বাড়বে ৪.১ মিটার। ৩১ কিলোমিটার সড়ক সম্প্রসারণের মধ্যে রানিহাটি বাজার ও ছত্রাজিতপুর বাজারে হচ্ছে ৪ লেন। এছাড়াও জমি অধিগ্রহণ করে কমানো হবে সড়কের বাঁক। সড়ক প্রশস্তকরণের আওতায় রসুলপুর মোড়, পাইলিং মোড়ে থাকবে ইন্টারসেকশন।
প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৮১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এরমধ্যে শুধু সড়ক নির্মাণেই ব্যয় হবে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা। দীর্ঘদিন পর সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হওয়ার সন্তুষ্ট স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও চালকরা।
তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়ক সম্প্রসারণের দাবি থাকলেও সোনামসজিদ স্থলবন্দরের এই সড়ক সম্প্রসারণের ফলে কমবে ভোগান্তি। এছাড়াও আমদানি-রপ্তানিতে বাড়বে গতি ও সড়ক দুর্ঘটনাও হ্রাস পাবে।
পথচারী সাজিদুর রহমান বলেন, পেশাগত কারণে এই সড়কটি আমি প্রতিদিন ব্যবহার করি। চোখের সামনে অনেক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটতে দেখি প্রতিনিয়ত। ৩০ বছর আগে তৈরি হওয়া সড়কে প্রত্যেক দিন যানবাহনের পরিমাণ বাড়ছে। সেই হিসেবে সড়কটি সম্প্রসারণ করা আমাদের প্রাণের দাবি। অবশেষে চার লেন না হলেও সড়ক সম্প্রসারণের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।
স্থানীয় বাসিন্দা হাসান আলী ডলার জানান, সড়ক সম্প্রসারনের কাজের গতি বেশ ভালো। কিন্তু বৈদ্যুতিক খুঁটির কারণে বেশ কিছু জায়গায় দেখলাম কাজ শুরুর পরেও তা আটকে আছে। বিদ্যুৎ বিভাগের উচিত দ্রুত সময়ে মধ্যে খুঁটিগুলো অপসারণ করে ফাঁকা করা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারী তারেক রহমান বলেন, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত। স্থলবন্দরের পণ্যবোঝাই করে বিভিন্ন পরিবহন দূরদূরান্তে যায়। প্রায় সময় দুর্ঘটনাও ঘটে। এতে প্রাণহানিসহ বহু মানুষ পঙ্গু হয়ে গেছেন। জনবহুল সড়কটি প্রশস্ত করার কোন বিকল্প ছিল না। এই দাবি পূরণ হওয়ায় আমরা খুশি।
স্থানীয় কলেজ শিক্ষক খলিল আহমেদ বলেন, সড়কটি চারলেন হওয়া উচিত। প্রশস্তের নামে কোটি কোটি টাকা ব্যয় না করে পরিকল্পিতভাবে একবারই চারলেনের জন্য টাকা খরচ করলে এখানকার মানুষ অনেক উপকৃত হবে। তবুও যে প্রশস্তকরণের কাজ হচ্ছে, তা অনেক উপকার হবে। কাজের গতিও ভালো।
প্রকল্পের প্রথম ৮ মাসে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়েছে জানিয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ হওয়ার আশা সড়ক বিভাগের।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়ক ও জনপদ বিভাগের প্রকৌশলী শাহ্ মোহাম্মদ আসিফ বলেন, জাতীয় সড়ক হিসেবে খুবই ব্যস্ততম একটি সড়ক সোনামসজিদ স্থলবন্দর-চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়কটি। বিপুল সংখ্যক পণ্য বাহী ট্রাক এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করে। সেই দিক থেকে এই কাজ সম্পন্ন হলে সড়কে যানবহন চলাচলে গতি ফিরবে, যানজট কমবে।
তিনি আরও বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ স্থলবন্দর পর্যন্ত সড়কটি প্রশস্ত ৬ দশমিক ২ মিটার। সড়কের গুরুত্ব বিবেচনা করে বারঘরিয়া বাজার থেকে সোনামসজিদ স্থলবন্দর পর্যন্ত ১০ দশমিক ৩ মিটার প্রশস্ত করা হবে। শিবগঞ্জে ছত্রাজিতপুর ইউনিয়নের বহালাবাড়ি মোড় ও পৌর এলাকার বেঁকির মোড়টির বাঁক সরলীকরণ করা হবে।
তিনি বলেন, সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩১ দশমিক ৩ কিলোমিটার পর্যন্ত। গোটা সড়কটি চারলেন হচ্ছে না। তবে আপাতত রানীহাটি ও ছত্রাজিতপুর বাজারের এলাকাটি শুধু চারলেন স্থাপন করা হবে। এরইমধ্যে বেশিরভাগ কাজ শেষ হয়েছে। এই সড়কের কাজের ফলে ভারতের সাথে আমদানি-রপ্তানিতে গতি ফিরবে বলেও মনে করেন তিনি।
৩১ কিলোমিটার সড়ক ছাড়াও প্রকল্পের আওতায় ৪২ মিটার কালভার্ট, ২২০০ মিটার ড্রেন নির্মাণ ও ৫.৫ কিলোমিটার জমি অধিগ্রহণ করা হবে। ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসে শেষ হবে প্রকল্পের মেয়াদ।