চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহানন্দা সেতু টোলমুক্ত করার দাবিতে সড়ক ভবন ঘেরাও ও মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। সোমবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা নাগরিক অধিকার আদায় কমিটির ব্যানারে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জেলা কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
জানা গেছে, সোমবার ছিল ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতুর (মহানন্দা সেতু) টোল আদায়ের জন্য নতুন করে দরপত্র (কোটেশন) জমার শেষ দিন। এই খবর পেয়ে সকাল থেকেই সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা সওজ কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা কার্যালয়টি ঘেরাও করেন এবং পাশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় দুই শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
অবরোধ চলাকালে অনুষ্ঠিত সমাবেশে জেলা নাগরিক অধিকার আদায় কমিটির আহ্বায়ক তরিকুল আলম মোল্লা, ছাত্র-জনতা মঞ্চের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট নূরে আলম সিদ্দিকী আসাদ এবং জেলা সিএনজি ও অটোবাইক সমিতির সভাপতি আজগর আলীসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, জনগণের দাবি উপেক্ষা করে এখন আবার নতুন করে সেতু ইজারা দেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই সমস্যা সমাধানের জন্য এর আগে জেলা প্রশাসক ও সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে কয়েক দফা বৈঠক করা হলেও প্রশাসন কোনো সুষ্ঠু সমাধান দেয়নি। বাধ্য হয়েই দরপত্র জমার শেষ দিনে তারা রাজপথে নেমেছেন। অবিলম্বে এই সেতুটি সম্পূর্ণ টোলমুক্ত ঘোষণা করা না হলে আগামীতে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, শাহ্ নেয়ামতুল্লাহ কলেজের অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম নয়ন, জেলা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর পৌর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মনিরুল ইসলাম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা সাব্বির আহমেদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রায়হানুল ইসলাম লুনা এবং জেলা শিক্ষক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ফিরোজ কবিরসহ আরও অনেকেই।
এদিকে মহাসড়ক অবরোধের কারণে কিছুক্ষণের জন্য সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে পরবর্তীতে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নিলে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয় এবং যানবাহন চলাচল শুরু হয়।