
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ দিন ধরে তারা প্রতি টন পাথর সর্বোচ্চ ১৩ ডলার অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু বা শুল্কায়ন মূল্যে আমদানি করে আসছিলেন। মূলত এ মূল্যের ওপর ভিত্তি করেই কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আমদানি করা পণ্যের শুল্ক নির্ধারণ করে থাকে। কিন্তু ভারতীয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ হঠাৎ করেই এ পাথরের অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু টনপ্রতি দুই ডলার বাড়িয়ে ১৫ ডলার নির্ধারণ করেছে।
আমদানিকারকদের দাবি, আমদানি করা পাথরের ২০ থেকে ৩০ শতাংশই নিম্নমানের থাকে, যা ব্যবসায়িক কোনো কাজে আসে না। এমন পরিস্থিতিতে বাড়তি দুই ডলার শুল্কায়ন মূল্য পরিশোধ করে পাথর আমদানি করলে তাদের বড় ধরনের লোকসান গুণতে হবে।
আরিশা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আলমগীর জুয়েল জানান, লোকসান দিয়ে ব্যবসায়ীরা পাথর আনতে ইচ্ছুক নন এবং এ বর্ধিত ভ্যালু প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তারা আমদানি কার্যক্রমে ফিরবেন না।
পাথর আমদানিকারক সাঈদি ইসলাম জানিয়েছেন, তারা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ১৩ ডলারের বিপরীতে ঋণপত্র বা এলসি সম্পন্ন করেছেন, এ অবস্থায় ভারতের পক্ষ থেকে বাড়তি মূল্য দাবি করায় তারা বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
এদিকে আমদানি বন্ধের এ নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি আছড়ে পড়েছে বন্দরের সাধারণ শ্রমিকদের ওপর। বিশেষ করে, দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করেন- এমন হাজারো শ্রমিক কাজ না পেয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন পার করছেন।
দীর্ঘদিন ধরে বন্দরে পাথর লোড-আনলোডের শ্রমিক রহমত আলী তার দুশ্চিন্তার কথা জানিয়ে বলেন, তারা দিন আনেন দিন খান, কিন্তু গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বন্দরে ভারতীয় পাথর বোঝাই কোনো ট্রাক না আসায় তাদের আয় একবারে বন্ধ হয়ে গেছে। ঘরে জমানো টাকা ফুরিয়ে আসছে এবং এভাবে আর কয়েক দিন চললে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।
আরেক শ্রমিক কলিমুদ্দিন জানান, বন্দরটি মূলত পাথর আমদানির ওপর ভিত্তি করেই চলে এবং পাথর না এলে তাদের আর কোনো কাজ থাকে না। সারাদিন বন্দরের শেডের নিচে অলস বসে থেকে দিন শেষে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে তাদের, যা তাদের মতো খেটে খাওয়া মানুষের জন্য অত্যন্ত কষ্টের।
মঙ্গলবার (১২ মে) বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপক মাঈনুল ইসলাম বলেন, ১১ দিন ধরে ভারত থেকে পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে। আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে শুল্কায়ন মূল্যের এ জটিলতা সমাধান না হলে বন্দরের রাজস্ব আদায়ে যেমন ধস নামবে, তেমনি শ্রমিকদের জীবনযাত্রা আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।
অন্যান্য বন্দরের মতো ফল আমদানিতে সুবিধা না থাকার অভিযোগে দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে সব ধরনের ফল আমদানি বন্ধ রয়েছে।