
সেই চিরচেনা ছন্দ নিয়ে খেলতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ঠিক চেনা গেল না মহা তারকা লিওনেল মেসিকেও! তারপরও ঠিকই বাজিমাত বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। আজ কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে গেল আর্জেন্টিনা!
ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের অপেক্ষায় ইংল্যান্ড।
কানসাট সিটিতে ম্যাচের ১১৩ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচ ছিল ১–১ সমতা। এরপর অতিরিক্ত সময়ে আলভারাজের দুর্দান্ত গোল পাল্টে দেয় পুরো দৃশ্যপট। এরপর অতিরিক্ত সময়ের যোগ করা সময়ে আর্জেন্টিনার হয়ে তৃতীয় গোলটি করেছেন লাওতারো মার্তিনেজ।
৭২ মিনিটে ডাইভ দিয়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের পর লাল কার্ড দেখলেন ব্রিল এমবোলো! সুইজারল্যান্ড এখন ১০ জনের দল।
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে জয় সহজে আসেনি আর্জেন্টিনার। দীর্ঘ সময় সমতায় আটকে থাকার পর অতিরিক্ত সময়ে হুলিয়ান আলভারেস ও লাউতারো মার্তিনেসের জোড়া গোলে ৩-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কানসাস সিটিতে জয়ের পর এখন শেষ চারে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে লিওনেল স্কালোনির দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের নিয়ন্ত্রণ ছিল আর্জেন্টিনার হাতে। এরই ধারাবাহিকতায় ১০ মিনিটে লিওনেল মেসির কর্নার থেকে হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির রেকর্ড দশম অ্যাসিস্ট। গোলের পর কিছুটা ছন্দ হারালেও প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষকে সমতায় ফিরতে দেয়নি আর্জেন্টিনা।
বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠা সুইজারল্যান্ড ৬৭ মিনিটে সমতায় ফেরে। রিকার্দো রদ্রিগেসের পাস থেকে দান এনদোয়ে নিখুঁত ফিনিশে আর্জেন্টিনার জালে বল পাঠান। সমতায় ফেরার পর সুইসরা আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে শুরু করলেও ৭১ মিনিটে বড় ধাক্কা খায়। ভিএআরের পর্যালোচনার পর অভিনয়ের দায়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ব্রিল এমবোলো। ফলে শেষ সময়টা ১০ জন নিয়েই খেলতে হয় সুইজারল্যান্ডকে।
একজন বেশি নিয়ে খেললেও নির্ধারিত সময়ে গোলের দেখা পায়নি আর্জেন্টিনা। মেসিসহ একাধিক খেলোয়াড় সুযোগ তৈরি করলেও দুর্দান্ত গোলকিপিংয়ে দলকে ভরসা জুগিয়েছেন সুইস গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল। ম্যাচ যখন টাইব্রেকারের দিকেই এগোচ্ছিল, তখনই নায়ক হয়ে আবির্ভূত হন হুলিয়ান আলভারেস। ১১২ মিনিটে হোসে মানুয়েল লোপেসের বাড়ানো বল থেকে বক্সের বাঁ প্রান্তে অসাধারণ বাঁকানো শটে আর্জেন্টিনাকে আবারও এগিয়ে দেন তিনি।
গোল হজমের পর সব শক্তি দিয়ে আক্রমণে ওঠে সুইজারল্যান্ড। তবে অতিরিক্ত সময়ের যোগ করা মিনিটে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। আলভারেসের সূচনা করা আক্রমণে থিয়াগো আলমাদার শট কোবেল ফিরিয়ে দিলেও রিবাউন্ডে বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান ৩-১ করেন লাউতারো মার্তিনেস।
ম্যাচে গোল না পেলেও আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন লিওনেল মেসি। প্রথম গোলের অ্যাসিস্ট করার পাশাপাশি একাধিক সুযোগও তৈরি করেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত আলভারেস ও লাউতারোর কার্যকর ফিনিশিংয়েই সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
এর আগে মায়ামিতে জুড বেলিংহ্যামের জোড়া গোলে নরওয়েকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় ইংল্যান্ড। বাংলাদেশ সময় আগামী ১৬ জুলাই দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। আর ১৫ জুলাই প্রথম সেমিফাইনালে অল-ইউরোপীয় লড়াইয়ে মাঠে নামবে ফ্রান্স ও স্পেন।