বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বিবৃতিতে নবনিযুক্ত শীর্ষ নেতা মোজতবা খামেনি এই কঠোর অবস্থান নিশ্চিত করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানবিরোধী কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালির মাধ্যমে কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না। এছাড়া ইরানজুড়ে নিহত ইরানিদের রক্তের বদলা নেয়ার ‘চরম প্রতিশোধ’ নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
মোজতবা খামেনিকে এখনও জনসমক্ষে দেখা যায়নি, তবে তার নামের মাধ্যমে এই বার্তা প্রচার করা হয়েছে। শীর্ষ নেতার এই ঘোষণার পর পারস্য উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার মাত্রা বেড়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এবং সিবিএস জানিয়েছে, ইরাক উপকূলের কাছে দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত সংলগ্ন এলাকায় একটি কন্টেইনার জাহাজে নতুন হামলা চালানো হয়েছে। ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম অন্তত একটি হামলায় সরাসরি ইরানি বাহিনীর সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ইতোমধ্যেই ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বাজার বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, হরমুজ প্রণালি দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ থাকলে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।
যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প তেলের দাম কমানোর দাবি করেছেন, তবে যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতা ভিন্ন দিকে মোড় নিচ্ছে। হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র বা তাদের মিত্ররা কি সামরিক পদক্ষেপ নেবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।