দীর্ঘ কয়েকমাস ধরে প্রযুক্তি অঙ্গনে একটি গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল বাংলাদেশের আইনি সেবাকে সম্পূর্ণ আধুনিকায়ন করার জন্য পর্দার আড়ালে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। তরুণ এআই গবেষক নাহিদ আলম এর নেতৃত্বে ‘লেক্সগ্লোবাল বিডি’ এমন এক প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করছে, যা ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের বিচার ব্যবস্থার চেহারা বদলে দিতে পারে।
জানা গেছে,লেক্সগ্লোবাল বিডি স্রেফ কোনো সাধারণ মোবাইল অ্যাপ নয়। এটি একটি বিশাল ইকোসিস্টেম। এ বিষয়ে নাহিদ আলম বলেন, নথিপত্র অনুযায়ী ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের অন্তত ১ লক্ষ আইনজীবীকে এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে । এটি কেবল একটি ডিরেক্টরি নয়, বরং আইনজীবীদের জন্য একটি ‘ডিজিটাল ফ্রিল্যান্সিং হাব’। এর মাধ্যমে একজন আইনজীবী দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে ভুক্তভোগীদের আইনি পরামর্শ দিতে পারবেন এবং সরাসরি আয়ের সুযোগ পাবেন।
সাধারণত বিদেশি ক্লাউড সার্ভারের ওপর নির্ভর করলেও,নাহিদ আলম সম্পূর্ণ বিপরীত পথে হাঁটছেন। ঢাকার একটি সুরক্ষিত জোনে এই প্রজেক্টের জন্য নিজস্ব উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন সার্ভার নির্মাণের কাজ চলছে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে। বিচারিক তথ্যের সংবেদনশীলতা এবং শত শত কোটি টাকার ট্রানজেকশন সিকিউরিটি নিশ্চিত করতেই এই নিজস্ব ডাটা সেন্টার তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশের আইনি তথ্য দেশের বাইরে যাওয়ার কোনো ঝুঁকি থাকবে না।
টেক বাজার টুয়েন্টিফোর এর প্রতিষ্ঠাতা রিফাত আহমেদ বলেন, লেক্সগ্লোবাল বিডি-র বর্তমান প্রজেক্ট ভ্যালুয়েশন ইতিমধ্যে ৩০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। প্রাথমিক হিসাবে দেখা গেছে, প্রতি ইউজার যদি মাসে ন্যূনতম ১০০ টাকা সাবস্ক্রিপশন ফি প্রদান করে এবং লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১ লক্ষ আইনজীবী ও সাধারণ ব্যবহারকারী যুক্ত হয়, তবে এই প্ল্যাটফর্মের মাসিক টার্নওভার হবে কয়েক কোটি টাকা।
এই পুরো প্রজেক্টের নকশা তৈরি করেছেন নাহিদ আলম, যাকে সহকর্মীরা "দ্য আর্টিস্ট" নামে ডাকেন। গত ৯ মাস ধরে তিনি লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে এই বিশাল অবকাঠামোটি গড়ে তুলেছেন।