শিরোনামঃ
এস আলমের প্রতিষ্ঠানকে ফের কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি বিটিআরসির নবনিযুক্ত ৪২ জেলা পরিষদ প্রশাসকের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হরমুজ প্রণালি না খুললেও যুদ্ধ শেষ করতে চান ট্রাম্প চাঁপাইনবাবগঞ্জে ট্রাস্কফোর্স অভিযানে ইয়াবাসহ দম্পতি গ্রেফতার সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি শুরু চাঁপাইনবাবগঞ্জে বৈধ কাগজ ছাড়া মিলছে না জ্বালানি তেল পেট্রোল পাম্পে অভিযান, ২০ হাজার টাকা জরিমানা; মালিকদের কড়া সতর্ক ইউএনওর অসহায়দের চিকিৎসায় মা ফার্মেসীর মানবিক উদ্যোগ; বিশেষ ছাড়ে মিলছে ঔষধ। কেয়া’র বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ: শিক্ষার মানোন্নয়নে ধারাবাহিক অগ্রযাত্রা চাঁপাইনবাবগঞ্জে এনসিপির জেলা আহ্বায়কসহ চার নেতার পদত্যাগ
News Title :
এস আলমের প্রতিষ্ঠানকে ফের কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি বিটিআরসির নবনিযুক্ত ৪২ জেলা পরিষদ প্রশাসকের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হরমুজ প্রণালি না খুললেও যুদ্ধ শেষ করতে চান ট্রাম্প চাঁপাইনবাবগঞ্জে ট্রাস্কফোর্স অভিযানে ইয়াবাসহ দম্পতি গ্রেফতার সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি শুরু চাঁপাইনবাবগঞ্জে বৈধ কাগজ ছাড়া মিলছে না জ্বালানি তেল পেট্রোল পাম্পে অভিযান, ২০ হাজার টাকা জরিমানা; মালিকদের কড়া সতর্ক ইউএনওর অসহায়দের চিকিৎসায় মা ফার্মেসীর মানবিক উদ্যোগ; বিশেষ ছাড়ে মিলছে ঔষধ। কেয়া’র বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ: শিক্ষার মানোন্নয়নে ধারাবাহিক অগ্রযাত্রা চাঁপাইনবাবগঞ্জে এনসিপির জেলা আহ্বায়কসহ চার নেতার পদত্যাগ

ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং: বিএনপির ওপর চাপ বাড়াতে চায় জামায়াত

নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ক্ষমতাসীন বিএনপিকে চাপে রাখতে নানা কৌশল অবলম্বন করছে সংসদের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ইতোমধ্যে ৩২টি আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছে। পাশাপাশি অন্তত ১৩টি আসনের ফল চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন জোটের প্রার্থীরা।

জামায়াত একই সঙ্গে নির্বাচন ঘিরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক দুই উপদেষ্টার ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ ও বিচারের দাবি তুলে বিষয়টিকে রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত করার চেষ্টা চলছে। দলটি সংসদের ভেতর ও বাইরেও এসব ইস্যুতে সরব থাকার পরিকল্পনা করছে, যা তাদের রাজনৈতিক অবস্থান জোরদারের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে। দলটি এককভাবে ২০৯টি এবং জোটগতভাবে ২১২টি আসনে জয়লাভ করে। অন্যদিকে জামায়াত এককভাবে ৬৮টি এবং জোটগতভাবে ৭৭টি আসন পায়।

নির্বাচনের দুই দিন পর, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ৩২টি আসনে পুনর্গণনার দাবিতে ইসিতে আবেদন করে ১১ দলীয় জোট। এসব আসনের বেশিরভাগেই জামায়াতের প্রার্থী ছিলেন। জোটের দাবি, এসব আসনে ভোটের ব্যবধান তুলনামূলক কম এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়ম ঘটেছে।

তাদের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে- ফলাফল ঘোষণায় বিলম্ব, পোলিং এজেন্টের স্বাক্ষর ছাড়াই ফল প্রকাশ, ভুয়া স্বাক্ষরের ব্যবহার এবং কোথাও কোথাও পেনসিলে ফলাফল লেখা। এসব অনিয়মের কারণে ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ বলে দাবি তাদের।

ইসিতে অভিযোগ জানানোর পর থেকেই একের পর এক প্রার্থী আদালতে যাচ্ছেন। ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে এখন পর্যন্ত জামায়াতের একাধিক প্রার্থী ফলাফল চ্যালেঞ্জ করেছেন। এর মধ্যে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারও রয়েছেন।

এ ছাড়া ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, বরগুনা, পিরোজপুর ও কক্সবাজারসহ বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরাও আদালতে আবেদন করেছেন। একইভাবে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-১৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা খেলাফত মজলিসের আমিরও আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।

তবে যে ৩২টি আসনে পুনর্গণনার দাবি করা হয়েছে, তার বাইরেও কিছু আসনে মামলা হয়েছে—যেখানে ভোটের ব্যবধান তুলনামূলক বেশি। এ কারণে বিতর্ক উঠেছে, অভিযোগ কি শেষ পর্যন্ত নির্দিষ্ট কিছু আসনে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি আরও বিস্তৃত হবে।

জামায়াত নেতারা বলছেন, যেখানে তথ্য-উপাত্তে অসঙ্গতি পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও আসনের ফলাফল আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হতে পারে।

জামায়াতের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছেন, নির্বাচন সংক্রান্ত ইস্যুগুলো সক্রিয় রাখতে তারা আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে চান।

এদিকে, সাবেক দুই উপদেষ্টার ভূমিকা নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি করছে দলটি। একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারা। পাশাপাশি ওই সময়ের একজন উপদেষ্টাকে বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করাকেও তারা রাজনৈতিকভাবে ব্যাখ্যা করছে।

গত ৫ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত ওই দুই সাবেক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে তদন্ত, জিজ্ঞাসাবাদ ও বিচারের দাবি তোলে। তাদের বিরুদ্ধে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অভিযোগও আনা হয়। এরপর দলটির নেতারা বিভিন্ন সময়ে একই ইস্যুতে বক্তব্য দিয়েছেন।

দলটির শীর্ষ নেতারাও নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, ভোটের অধিকার পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি এবং ভোট গণনার পর্যায়ে অনিয়ম হয়েছে।

তবে আপাতত দলটি নিয়মতান্ত্রিক পথেই এগোতে চায়। আদালত ও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তারা তাদের অবস্থান তুলে ধরছে। এখনই মাঠে বড় ধরনের কর্মসূচিতে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই বলেই জানিয়েছেন নেতারা।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

Categories

এস আলমের প্রতিষ্ঠানকে ফের কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি বিটিআরসির

ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং: বিএনপির ওপর চাপ বাড়াতে চায় জামায়াত

Update Time : ১০:৩৩:২২ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ক্ষমতাসীন বিএনপিকে চাপে রাখতে নানা কৌশল অবলম্বন করছে সংসদের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ইতোমধ্যে ৩২টি আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছে। পাশাপাশি অন্তত ১৩টি আসনের ফল চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন জোটের প্রার্থীরা।

জামায়াত একই সঙ্গে নির্বাচন ঘিরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক দুই উপদেষ্টার ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ ও বিচারের দাবি তুলে বিষয়টিকে রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত করার চেষ্টা চলছে। দলটি সংসদের ভেতর ও বাইরেও এসব ইস্যুতে সরব থাকার পরিকল্পনা করছে, যা তাদের রাজনৈতিক অবস্থান জোরদারের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে। দলটি এককভাবে ২০৯টি এবং জোটগতভাবে ২১২টি আসনে জয়লাভ করে। অন্যদিকে জামায়াত এককভাবে ৬৮টি এবং জোটগতভাবে ৭৭টি আসন পায়।

নির্বাচনের দুই দিন পর, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ৩২টি আসনে পুনর্গণনার দাবিতে ইসিতে আবেদন করে ১১ দলীয় জোট। এসব আসনের বেশিরভাগেই জামায়াতের প্রার্থী ছিলেন। জোটের দাবি, এসব আসনে ভোটের ব্যবধান তুলনামূলক কম এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়ম ঘটেছে।

তাদের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে- ফলাফল ঘোষণায় বিলম্ব, পোলিং এজেন্টের স্বাক্ষর ছাড়াই ফল প্রকাশ, ভুয়া স্বাক্ষরের ব্যবহার এবং কোথাও কোথাও পেনসিলে ফলাফল লেখা। এসব অনিয়মের কারণে ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ বলে দাবি তাদের।

ইসিতে অভিযোগ জানানোর পর থেকেই একের পর এক প্রার্থী আদালতে যাচ্ছেন। ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে এখন পর্যন্ত জামায়াতের একাধিক প্রার্থী ফলাফল চ্যালেঞ্জ করেছেন। এর মধ্যে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারও রয়েছেন।

এ ছাড়া ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, বরগুনা, পিরোজপুর ও কক্সবাজারসহ বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরাও আদালতে আবেদন করেছেন। একইভাবে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-১৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা খেলাফত মজলিসের আমিরও আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।

তবে যে ৩২টি আসনে পুনর্গণনার দাবি করা হয়েছে, তার বাইরেও কিছু আসনে মামলা হয়েছে—যেখানে ভোটের ব্যবধান তুলনামূলক বেশি। এ কারণে বিতর্ক উঠেছে, অভিযোগ কি শেষ পর্যন্ত নির্দিষ্ট কিছু আসনে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি আরও বিস্তৃত হবে।

জামায়াত নেতারা বলছেন, যেখানে তথ্য-উপাত্তে অসঙ্গতি পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও আসনের ফলাফল আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হতে পারে।

জামায়াতের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছেন, নির্বাচন সংক্রান্ত ইস্যুগুলো সক্রিয় রাখতে তারা আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে চান।

এদিকে, সাবেক দুই উপদেষ্টার ভূমিকা নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি করছে দলটি। একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারা। পাশাপাশি ওই সময়ের একজন উপদেষ্টাকে বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করাকেও তারা রাজনৈতিকভাবে ব্যাখ্যা করছে।

গত ৫ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত ওই দুই সাবেক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে তদন্ত, জিজ্ঞাসাবাদ ও বিচারের দাবি তোলে। তাদের বিরুদ্ধে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অভিযোগও আনা হয়। এরপর দলটির নেতারা বিভিন্ন সময়ে একই ইস্যুতে বক্তব্য দিয়েছেন।

দলটির শীর্ষ নেতারাও নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, ভোটের অধিকার পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি এবং ভোট গণনার পর্যায়ে অনিয়ম হয়েছে।

তবে আপাতত দলটি নিয়মতান্ত্রিক পথেই এগোতে চায়। আদালত ও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তারা তাদের অবস্থান তুলে ধরছে। এখনই মাঠে বড় ধরনের কর্মসূচিতে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই বলেই জানিয়েছেন নেতারা।