শিরোনামঃ
News Title :

নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থতার দায় সরকার ও প্রশাসনকে বহন করতে হবে: জামায়াত

১৮ কোটি মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারের হলেও সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা তাদের নিজেদের ঘরে বা পরিচিত পরিবেশেও নিরাপদ নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের নেতৃরা।

 

তারা বলেন, জনগণের নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং এই নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ার দায় সরকার ও প্রশাসনকে বহন করতে হবে।

 

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নারী ও শিশু নির্যাতন ও সহিংসতার প্রতিবাদে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে এক মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি মুছাম্মত রুকসিনা সিদ্দিকা বলেন, যদি পূর্ববর্তী রায়গুলো সঠিকভাবে কার্যকর হতো, তবে তাহিয়া আমিনা বা অন্যান্য নারী ও শিশুদের জীবন দিতে হতো না। আইন কেবল কিতাবে বা বইয়ে থাকলেই হবে না, বাস্তব জীবনে তার প্রয়োগ না থাকলে সেই আইনের কোনো মূল্য নেই।

 

মানববন্ধনে জামায়াতের মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আমেনা বেগম বলেন, যেখানে রমজান মাস আমাদের জন্য শান্তি সুরক্ষার মাস সেখানে আমাদের রাস্তায় নামতে হয়েছে। সারাদেশে বিভিন্ন জায়গায় শিশুদের উপর নির্যাতন করা হচ্ছে। শিশু নারীদের নির্যাতন বন্ধে পরিবারের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

 

তিনি বলেন, আজকে দেখতে পাচ্ছি আইয়েমে জাহেলিয়াত যুগের মতো নব্য আইয়েমে জাহেলিয়া। যেখানে শিশুদের উপর জাহেলিয়াত যুগের ন্যায় অত্যাচার করা হচ্ছে।

 

কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মার্জিয়া বেগম বলেন, নারী ও শিশুদের ওপর নির্যাতন, সহিংসতা ও ধর্ষণের ঘটনা জাতিকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে। এসব অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

 

এসময় মানববন্ধনে ১০ দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। প্রস্তাবনাগুলো হলো- ১. সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব থেকে রাষ্ট্রকে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ২. অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ৩. বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। ৪. রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। ৫. নিরপেক্ষ ও দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে। ৬. নারী ও শিশুর নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ৭. গ্রেপ্তারকৃত অপরাধীদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ৮. প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে অপরাধীদের রক্ষার চেষ্টা বন্ধ করে ব্যবস্থা নিতে হবে। ৯. মামলা গ্রহণে পুলিশের গাফিলতি হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। ১০. শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণ প্রতিরোধে কার্যকর, কঠোর ও যুগোপযোগী নীতি গ্রহণ করতে হবে।

 

বক্তারা বলেন, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং অপরাধ দমনে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

 

মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন জামায়াতের মহিলা বিভাগের মানবসম্পদ ও আইন বিষয়ক সম্পাদক ডা. সাকিবুন্নাহার মুন্নী, ঢাকা মহানগরে দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটার জান্নাতুল কারীম, ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি আমেনা বেগম ও রাজনীতি বিষয়ক সম্পাদক ডাক্তার হাবিবা চৌধুরী সুইট প্রমুখ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সাড়ে ৪ ঘণ্টা ধরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ, ১৫ কিলোমিটার যানজট

নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থতার দায় সরকার ও প্রশাসনকে বহন করতে হবে: জামায়াত

Update Time : ১২:২৩:২৩ অপরাহ্ণ, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

১৮ কোটি মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারের হলেও সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা তাদের নিজেদের ঘরে বা পরিচিত পরিবেশেও নিরাপদ নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের নেতৃরা।

 

তারা বলেন, জনগণের নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং এই নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ার দায় সরকার ও প্রশাসনকে বহন করতে হবে।

 

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নারী ও শিশু নির্যাতন ও সহিংসতার প্রতিবাদে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে এক মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি মুছাম্মত রুকসিনা সিদ্দিকা বলেন, যদি পূর্ববর্তী রায়গুলো সঠিকভাবে কার্যকর হতো, তবে তাহিয়া আমিনা বা অন্যান্য নারী ও শিশুদের জীবন দিতে হতো না। আইন কেবল কিতাবে বা বইয়ে থাকলেই হবে না, বাস্তব জীবনে তার প্রয়োগ না থাকলে সেই আইনের কোনো মূল্য নেই।

 

মানববন্ধনে জামায়াতের মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আমেনা বেগম বলেন, যেখানে রমজান মাস আমাদের জন্য শান্তি সুরক্ষার মাস সেখানে আমাদের রাস্তায় নামতে হয়েছে। সারাদেশে বিভিন্ন জায়গায় শিশুদের উপর নির্যাতন করা হচ্ছে। শিশু নারীদের নির্যাতন বন্ধে পরিবারের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

 

তিনি বলেন, আজকে দেখতে পাচ্ছি আইয়েমে জাহেলিয়াত যুগের মতো নব্য আইয়েমে জাহেলিয়া। যেখানে শিশুদের উপর জাহেলিয়াত যুগের ন্যায় অত্যাচার করা হচ্ছে।

 

কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মার্জিয়া বেগম বলেন, নারী ও শিশুদের ওপর নির্যাতন, সহিংসতা ও ধর্ষণের ঘটনা জাতিকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে। এসব অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

 

এসময় মানববন্ধনে ১০ দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। প্রস্তাবনাগুলো হলো- ১. সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব থেকে রাষ্ট্রকে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ২. অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ৩. বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। ৪. রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। ৫. নিরপেক্ষ ও দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে। ৬. নারী ও শিশুর নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ৭. গ্রেপ্তারকৃত অপরাধীদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ৮. প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে অপরাধীদের রক্ষার চেষ্টা বন্ধ করে ব্যবস্থা নিতে হবে। ৯. মামলা গ্রহণে পুলিশের গাফিলতি হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। ১০. শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণ প্রতিরোধে কার্যকর, কঠোর ও যুগোপযোগী নীতি গ্রহণ করতে হবে।

 

বক্তারা বলেন, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং অপরাধ দমনে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

 

মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন জামায়াতের মহিলা বিভাগের মানবসম্পদ ও আইন বিষয়ক সম্পাদক ডা. সাকিবুন্নাহার মুন্নী, ঢাকা মহানগরে দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটার জান্নাতুল কারীম, ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি আমেনা বেগম ও রাজনীতি বিষয়ক সম্পাদক ডাক্তার হাবিবা চৌধুরী সুইট প্রমুখ।