বইমেলায় দর্শনার্থী বেশি, ক্রেতা কম

শুরু হয়েছে বাঙালির প্রাণের স্পন্দন অমর একুশে বইমেলা। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুরু হওয়া এই মেলা চলবে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত। এবারের মেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মেলাপ্রাঙ্গণে দেখা যায়, মানুষের উপস্থিতি কম; এখনও সেভাবে জমে ওঠেনি বেচাকেনা। এমনকি এদিনও কিছু স্টল তৈরির কাজ চলতে দেখা যায়। সকালের তুলনায় বিকেলে কিছুটা বাড়ে দর্শনার্থীর সমাগম। মেলা শুরুর তিন দিন পরও কাঠামো নির্মাণ, রং করা এবং বই সাজানোর কাজ করতে দেখা গেছে মেলাপ্রাঙ্গণে।

 

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণের অংশে বিকেলে বইমেলাকে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বাংলা গানে মাতেন শিল্পী-শ্রোতা ও লেখক-পাঠকেরা।

মেলায় আগতদের বেশিরভাগই দর্শনার্থী উল্লেখ করে বিক্রেতারা বলছেন, আরও কয়েক দিন পর বই বিক্রির চাপ বাড়বে। শুরুর দিকে শিশু-কিশোর ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে।

 

হাবিব নামে এক বিক্রয়কর্মী জানান, এবারের মেলায় দোকান বরাদ্দ ও সময়সূচি নিয়ে জটিলতা থাকায় প্রস্তুতি নিতেও ঝামেলা হয়েছে। যে কারণে মেলা শুরুর দুই দিন পরও অনেককে দোকান গুছাতে হচ্ছে।

 

সমৃদ্ধ কর্মকার ও সম্পূর্ণা কর্মকার নামের দুই শিশু বলে, আমরা বাবা-মায়ের সঙ্গে বইমেলায় এসেছি। গল্পের বই কিনব। গল্পের বই নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করতে ভালো লাগে।

 

কলেজপড়ুয়া আকাশ বলেন, এবারের মেলায় প্রথম আসলাম। স্টলগুলো এখনও সম্পূর্ণ হয়নি; অনেকে বই গুছানোর কাজ করছেন। সব মিলিয়ে এখনও বইমেলা তার পূর্ণ রূপ পায়নি। হয়তো আরও কিছুদিন সময় লাগবে।

 

বাংলা একাডেমির তথ্য অনুযায়ী, ২৭ ফেব্রুয়ারি মেলায় নতুন ১৬টি বই প্রকাশ পেয়েছে।

 

এবারের মেলায় মোট প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ৫৭৯টি- এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮২টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৪৯৭টি। মোট ইউনিট ১,০৬৬টি। মোট প্যাভিলিয়নের সংখ্যা ৩টি- বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ২টি। লিটল ম্যাগাজিন চত্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চের কাছে; সেখানে ৮৭টি লিটল ম্যাগাজিনকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শিশুচত্বরে মোট প্রতিষ্ঠান ৬৩টি এবং ইউনিট ১১১টি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

বইমেলায় দর্শনার্থী বেশি, ক্রেতা কম

Update Time : ০৭:৫৫:০৮ অপরাহ্ণ, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

শুরু হয়েছে বাঙালির প্রাণের স্পন্দন অমর একুশে বইমেলা। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুরু হওয়া এই মেলা চলবে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত। এবারের মেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মেলাপ্রাঙ্গণে দেখা যায়, মানুষের উপস্থিতি কম; এখনও সেভাবে জমে ওঠেনি বেচাকেনা। এমনকি এদিনও কিছু স্টল তৈরির কাজ চলতে দেখা যায়। সকালের তুলনায় বিকেলে কিছুটা বাড়ে দর্শনার্থীর সমাগম। মেলা শুরুর তিন দিন পরও কাঠামো নির্মাণ, রং করা এবং বই সাজানোর কাজ করতে দেখা গেছে মেলাপ্রাঙ্গণে।

 

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণের অংশে বিকেলে বইমেলাকে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বাংলা গানে মাতেন শিল্পী-শ্রোতা ও লেখক-পাঠকেরা।

মেলায় আগতদের বেশিরভাগই দর্শনার্থী উল্লেখ করে বিক্রেতারা বলছেন, আরও কয়েক দিন পর বই বিক্রির চাপ বাড়বে। শুরুর দিকে শিশু-কিশোর ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে।

 

হাবিব নামে এক বিক্রয়কর্মী জানান, এবারের মেলায় দোকান বরাদ্দ ও সময়সূচি নিয়ে জটিলতা থাকায় প্রস্তুতি নিতেও ঝামেলা হয়েছে। যে কারণে মেলা শুরুর দুই দিন পরও অনেককে দোকান গুছাতে হচ্ছে।

 

সমৃদ্ধ কর্মকার ও সম্পূর্ণা কর্মকার নামের দুই শিশু বলে, আমরা বাবা-মায়ের সঙ্গে বইমেলায় এসেছি। গল্পের বই কিনব। গল্পের বই নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করতে ভালো লাগে।

 

কলেজপড়ুয়া আকাশ বলেন, এবারের মেলায় প্রথম আসলাম। স্টলগুলো এখনও সম্পূর্ণ হয়নি; অনেকে বই গুছানোর কাজ করছেন। সব মিলিয়ে এখনও বইমেলা তার পূর্ণ রূপ পায়নি। হয়তো আরও কিছুদিন সময় লাগবে।

 

বাংলা একাডেমির তথ্য অনুযায়ী, ২৭ ফেব্রুয়ারি মেলায় নতুন ১৬টি বই প্রকাশ পেয়েছে।

 

এবারের মেলায় মোট প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ৫৭৯টি- এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮২টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৪৯৭টি। মোট ইউনিট ১,০৬৬টি। মোট প্যাভিলিয়নের সংখ্যা ৩টি- বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ২টি। লিটল ম্যাগাজিন চত্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চের কাছে; সেখানে ৮৭টি লিটল ম্যাগাজিনকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শিশুচত্বরে মোট প্রতিষ্ঠান ৬৩টি এবং ইউনিট ১১১টি।