সাড়ে ৪ ঘণ্টা ধরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ, ১৫ কিলোমিটার যানজট

বকেয়া বেতন ভাতা শ্রমিক ছাঁটাই ও শ্রমিক নির্যাতনের প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বি-ব্রাদারস নামে একটি রপ্তানি মুক্তি পোশাক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

 

উত্তেজিত শ্রমিকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা অবরোধ করে রেখেছেন । এতে সড়কের উভয় পাশে প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়।

 

ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী সাধারণ থেকে পথচারীরা। আটকা পরে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স।

 

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টায় উপজেলার মইকুলি এলাকার বি ব্রাদার্স কোম্পানি লিমিটেড নামে পোশাক কারখানায় এ শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়।

ভুক্তভোগী শ্রমিকরা জানান, মইকুলি এলাকার বি ব্রাদার্স কোম্পানি লিমিটেড নামে পোশাক কারখানায় প্রায় তিন হাজার শ্রমিক কর্মচারী কাজ করেন।

গত ২০২৫ সালের ডিসেম্বর ও ২০২৬ সালের জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি মাসের বকেয়া বেতন ভাতার দাবি জানিয়ে আসছেন শ্রমিকরা।

মালিকপক্ষ দেয় দিচ্ছি করে বেশ কয়েকদিন ধরে তাদের ঘুরাচ্ছেন। যারা প্রতিবাদ করছেন তাদের আটকে রেখে নির্যাতন চালাচ্ছেন এবং শ্রমিক ছাঁটাই করছেন। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই শ্রমিক এবং মালিকপক্ষ বিরোধ চলে আসছে।

শনিবার সকাল ৭টায় শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে কাজে যোগদান না করে তাদের দাবি দাওয়া নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে কিছু শ্রমিক কারখানার সামনে অবস্থান নেন। বাকি শ্রমিক কারখানা কর্তৃপক্ষ ভেতরেই আটকে রাখেন।

এ নিয়ে কারখানার ভিতরে এবং বাইরের শ্রমিকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বাহিরে থাকা শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। উত্তেজিত শ্রমিকা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে সড়কের উভয় পাশের সকল ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

কারখানার ভেতরে এবং বাইরে শ্রমিকদের বিক্ষোভের মুখে মালিকপক্ষ ভেতরে থাকা শ্রমিকদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। পরে শ্রমিকরা বের হয়ে তাদের মধ্যে আরও বেশি অসন্তোষ দেখা দেয় এবং উত্তেজিত হয়ে ওঠে।

শ্রমিকরা অভিযোগ করে আরো জানান, কারখানার ডাইং এন্ড ফিনিশিং সেকশনের শ্রমিক সজীব মিয়া প্রতিবাদ করায় তাকে বেঁধড়ক পিটায় মালিকপক্ষের লোকজন। এছাড়া যারা প্রতিবাদ করতেন তাদেরকে ছাড়াই ছাঁটাই করছে।

বকেয়া বেতন ভাতা না পেয়ে এই রমজানে রোজা রেখে তারা খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। মুদি দোকানিরা এবং বাড়িওয়ালারা টাকা পরিশোধের জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন। এমন অবস্থায় শ্রমিকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

কারখানার মালিক নুরুল হক মোহন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংসদ সদস্য হওয়ার সুবাদে তখন শ্রমিকদের নানাভাবে নির্যাতন করেছে।

বর্তমানে কারখানার জিএম শরীফ আহমেদ ও এজিএম নুর ইসলাম হাদী শ্রমিকদের নির্যাতন ও গালমন্দ করে নানা ধরনের হয়রানি করছেন। শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে এ প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।

এদিকে সড়ক অবরোধের ফলে দুরদূরান্ত থেকে আসা যানবাহন ও যাত্রী সাধারণ ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকা পড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হয়। অনেকে শ্রমিকদের সঙ্গে বাকবিতন্ডা জড়িয়ে হাতাহাতি ও মারামারি ঘটনা ঘটে।

বেলা সাড়ে দশটার দিকে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। করে শ্রমিক এবং মালিকপক্ষকে সমঝোতা চেষ্টায় বেশ কয়েকবার বসেন।

যানবাহন চালক ও যাত্রীরা জানান, রমজানে রোজা রেখে শ্রমিকদের অবরোধের কারণে সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকা পড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাত্রী সাধারণ। এভাবে তো চলতে পারে না। শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ভাতা থাকলে মালিকপক্ষের সঙ্গে বসে সমঝোতা করে তা সমাধান করবে সড়কে কেন। এসব ব্যাপারে সমাধান হওয়া দরকার।

এ বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে তারা কোন প্রকার কথা বলতে রাজি হননি।

বেলা সাড়ে ১২টায় এ প্রতিবেদন করা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে শ্রমিকরা অবস্থান করছে। এছাড়া শ্রমিক এবং মালিকপক্ষ সমঝোতার চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সাড়ে ৪ ঘণ্টা ধরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ, ১৫ কিলোমিটার যানজট

Update Time : ০১:১৭:৩৯ অপরাহ্ণ, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বকেয়া বেতন ভাতা শ্রমিক ছাঁটাই ও শ্রমিক নির্যাতনের প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বি-ব্রাদারস নামে একটি রপ্তানি মুক্তি পোশাক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

 

উত্তেজিত শ্রমিকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা অবরোধ করে রেখেছেন । এতে সড়কের উভয় পাশে প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়।

 

ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী সাধারণ থেকে পথচারীরা। আটকা পরে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স।

 

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টায় উপজেলার মইকুলি এলাকার বি ব্রাদার্স কোম্পানি লিমিটেড নামে পোশাক কারখানায় এ শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়।

ভুক্তভোগী শ্রমিকরা জানান, মইকুলি এলাকার বি ব্রাদার্স কোম্পানি লিমিটেড নামে পোশাক কারখানায় প্রায় তিন হাজার শ্রমিক কর্মচারী কাজ করেন।

গত ২০২৫ সালের ডিসেম্বর ও ২০২৬ সালের জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি মাসের বকেয়া বেতন ভাতার দাবি জানিয়ে আসছেন শ্রমিকরা।

মালিকপক্ষ দেয় দিচ্ছি করে বেশ কয়েকদিন ধরে তাদের ঘুরাচ্ছেন। যারা প্রতিবাদ করছেন তাদের আটকে রেখে নির্যাতন চালাচ্ছেন এবং শ্রমিক ছাঁটাই করছেন। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই শ্রমিক এবং মালিকপক্ষ বিরোধ চলে আসছে।

শনিবার সকাল ৭টায় শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে কাজে যোগদান না করে তাদের দাবি দাওয়া নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে কিছু শ্রমিক কারখানার সামনে অবস্থান নেন। বাকি শ্রমিক কারখানা কর্তৃপক্ষ ভেতরেই আটকে রাখেন।

এ নিয়ে কারখানার ভিতরে এবং বাইরের শ্রমিকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বাহিরে থাকা শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। উত্তেজিত শ্রমিকা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে সড়কের উভয় পাশের সকল ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

কারখানার ভেতরে এবং বাইরে শ্রমিকদের বিক্ষোভের মুখে মালিকপক্ষ ভেতরে থাকা শ্রমিকদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। পরে শ্রমিকরা বের হয়ে তাদের মধ্যে আরও বেশি অসন্তোষ দেখা দেয় এবং উত্তেজিত হয়ে ওঠে।

শ্রমিকরা অভিযোগ করে আরো জানান, কারখানার ডাইং এন্ড ফিনিশিং সেকশনের শ্রমিক সজীব মিয়া প্রতিবাদ করায় তাকে বেঁধড়ক পিটায় মালিকপক্ষের লোকজন। এছাড়া যারা প্রতিবাদ করতেন তাদেরকে ছাড়াই ছাঁটাই করছে।

বকেয়া বেতন ভাতা না পেয়ে এই রমজানে রোজা রেখে তারা খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। মুদি দোকানিরা এবং বাড়িওয়ালারা টাকা পরিশোধের জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন। এমন অবস্থায় শ্রমিকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

কারখানার মালিক নুরুল হক মোহন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংসদ সদস্য হওয়ার সুবাদে তখন শ্রমিকদের নানাভাবে নির্যাতন করেছে।

বর্তমানে কারখানার জিএম শরীফ আহমেদ ও এজিএম নুর ইসলাম হাদী শ্রমিকদের নির্যাতন ও গালমন্দ করে নানা ধরনের হয়রানি করছেন। শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে এ প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।

এদিকে সড়ক অবরোধের ফলে দুরদূরান্ত থেকে আসা যানবাহন ও যাত্রী সাধারণ ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকা পড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হয়। অনেকে শ্রমিকদের সঙ্গে বাকবিতন্ডা জড়িয়ে হাতাহাতি ও মারামারি ঘটনা ঘটে।

বেলা সাড়ে দশটার দিকে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। করে শ্রমিক এবং মালিকপক্ষকে সমঝোতা চেষ্টায় বেশ কয়েকবার বসেন।

যানবাহন চালক ও যাত্রীরা জানান, রমজানে রোজা রেখে শ্রমিকদের অবরোধের কারণে সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকা পড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাত্রী সাধারণ। এভাবে তো চলতে পারে না। শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ভাতা থাকলে মালিকপক্ষের সঙ্গে বসে সমঝোতা করে তা সমাধান করবে সড়কে কেন। এসব ব্যাপারে সমাধান হওয়া দরকার।

এ বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে তারা কোন প্রকার কথা বলতে রাজি হননি।

বেলা সাড়ে ১২টায় এ প্রতিবেদন করা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে শ্রমিকরা অবস্থান করছে। এছাড়া শ্রমিক এবং মালিকপক্ষ সমঝোতার চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা