শিরোনামঃ
স্বপ্ন বনাম ঐতিহ্য, মরক্কো-ব্রাজিল লড়াইয়ের অন্তরালের গল্প নেইমারকে প্রথম ম্যাচে পাবে তো ব্রাজিল? ভোলাহাটে ৬৫ পিস ইয়াবাসহ প্রাইভেটকার জব্দ, আটক ৪ চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএমডিএ’র বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, ৫ বছরে ২৭ লাখ গাছ লাগানোর পরিকল্পনা চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও প্রধানমন্ত্রীর ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত চ্যারিটি ব্লাড ইউনিটের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন নিউজ টোয়েন্টিফোর-এর প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তায় ভাগ্য ফিরল ভোলাহাটের অন্ধ মুখলেসের নাচোলে বিজ্ঞান উদ্ভাবনী প্রজেক্ট প্রদর্শনীর উদ্বোধন যশোর জেনারেল হাসপাতালে আসা রোগী টার্গেট ৫০০ মিটারে ২২বেসরকারি হসপিটাল-ক্লিনিক ট্রাকে করে সীমান্তে আনা হয় মানুষ
News Title :
স্বপ্ন বনাম ঐতিহ্য, মরক্কো-ব্রাজিল লড়াইয়ের অন্তরালের গল্প নেইমারকে প্রথম ম্যাচে পাবে তো ব্রাজিল? ভোলাহাটে ৬৫ পিস ইয়াবাসহ প্রাইভেটকার জব্দ, আটক ৪ চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএমডিএ’র বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, ৫ বছরে ২৭ লাখ গাছ লাগানোর পরিকল্পনা চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও প্রধানমন্ত্রীর ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত চ্যারিটি ব্লাড ইউনিটের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন নিউজ টোয়েন্টিফোর-এর প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তায় ভাগ্য ফিরল ভোলাহাটের অন্ধ মুখলেসের নাচোলে বিজ্ঞান উদ্ভাবনী প্রজেক্ট প্রদর্শনীর উদ্বোধন যশোর জেনারেল হাসপাতালে আসা রোগী টার্গেট ৫০০ মিটারে ২২বেসরকারি হসপিটাল-ক্লিনিক ট্রাকে করে সীমান্তে আনা হয় মানুষ

স্বপ্ন বনাম ঐতিহ্য, মরক্কো-ব্রাজিল লড়াইয়ের অন্তরালের গল্প

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৩৫:০৫ অপরাহ্ণ, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
  • ২৭ Time View

২০২২ সালের ডিসেম্বরের সেই রাত এখনো মরক্কোর ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল স্মৃতিগুলোর একটি। কাতারে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পর্তুগালকে হারানোর পর যখন ইতিহাসের প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে সেমিফাইনালে উঠেছিল মরক্কো, তখন হাজার কিলোমিটার দূরে মারাকেশের জেমা এল-ফনা চত্বর পরিণত হয়েছিল এক বিশাল উৎসবমঞ্চে। ড্রামের তালে তালে গান, পতাকা আর স্লোগানে মুখর হয়ে উঠেছিল শহর। একই দৃশ্য দেখা গিয়েছিল কাসাব্লাঙ্কা, রাবাত, ফেজসহ দেশের প্রায় সব বড় শহরে।

চার বছর পর সেই উন্মাদনা ফিরে আসার সুযোগ আবারও সামনে। তবে এবার প্রতিপক্ষ পর্তুগাল নয়, বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিল।

রোববার ভোরটায় শুরু মরক্কো-ব্রাজিল ম্যাচকে কেবল একটি বিশ্বকাপ ম্যাচ হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি আসলে দুই ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়ানো। একদিকে শতবর্ষের ঐতিহ্য আর পাঁচটি বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস নিয়ে ব্রাজিল, অন্যদিকে গত এক দশকে পরিকল্পিত বিনিয়োগ, প্রবাসী প্রতিভা সংগ্রহ এবং ফুটবল অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে নিজেদের নতুন শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা মরক্কো।

কাতার বিশ্বকাপে মরক্কোর সাফল্যকে অনেকেই শুরুতে অঘটন ভেবেছিলেন। কিন্তু গত চার বছরে তারা বারবার প্রমাণ করেছে, সেটি কোনো দুর্ঘটনা ছিল না। সেই বিশ্বকাপে তারা শুধু পর্তুগালকেই হারায়নি; গ্রুপ পর্বে বেলজিয়াম এবং নকআউট পর্বে স্পেনকেও বিদায় করেছিল। ইউরোপের দুই পরাশক্তিকে হারানোর পর পর্তুগালকে টপকে সেমিফাইনালে পৌঁছানো ছিল একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের দৃশ্যমান ফল।

সেই প্রকল্পের অন্যতম ভিত্তি ছিল ইউরোপে বেড়ে ওঠা মরক্কান বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের জাতীয় দলের পতাকার নিচে আনা। আশরাফ হাকিমি, ব্রাহিম দিয়াজ কিংবা সফিয়ান আমরাবাত-তাদের কেউই মরক্কোয় জন্মগ্রহণ করেননি। কিন্তু জাতীয় পরিচয়ের বন্ধনে তাদের একত্র করেছে মরক্কান ফুটবল ফেডারেশন। আজ জাতীয় দলের সাফল্যের পেছনে সেই কৌশলকে অন্যতম বড় কারণ হিসেবে দেখা হয়।

মরক্কোর অগ্রযাত্রা শুধু জাতীয় দলেই সীমাবদ্ধ নয়। গত বছর ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জিতে দেশটি দেখিয়ে দিয়েছে, ভবিষ্যতের জন্যও তারা প্রস্তুত। সেই যুব দলের কোচ মোহাম্মদ উয়াহবিকেই এখন জাতীয় দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশ্বকাপের সফল কোচ ওয়ালিদ রেগুরাইয়ের বিদায়ের পর নতুন যুগের সূচনা হয়েছে তার হাত ধরেই।

তবে বিশ্বকাপের আগে সবকিছু নিখুঁত নয়। দলের রক্ষণভাগের অন্যতম নির্ভরতা নাইফ আগের্দ এবং আক্রমণভাগের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য আবদে এজ্জালজুলি চোটের কারণে ছিটকে গেছেন। নতুন কোচের জন্য এটি বড় ধাক্কা। তবুও আত্মবিশ্বাসের জায়গা আছে। কারণ দলে রয়েছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা রাইট ব্যাক আশরাফ হাকিমি, যিনি সদ্য পিএসজির হয়ে টানা দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জিতেছেন। গোলপোস্টের নিচে আছেন নির্ভরতার প্রতীক ইয়াসিন বনু। আর আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাহিম দিয়াজ।

মরক্কোর উত্থান শুধু মাঠের ফলাফলে সীমাবদ্ধ নয়। আফ্রিকান ফুটবলের কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতেও দেশটি এগিয়ে যাচ্ছে দ্রুতগতিতে। ২০৩০ বিশ্বকাপ আয়োজন করবে মরক্কো, স্পেন ও পর্তুগাল। সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কাসাব্লাঙ্কার কাছে বেনস্লিমানে নির্মাণ করা হচ্ছে ১ লাখ ১৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার বিশাল স্টেডিয়াম, যেটি বিশ্বকাপ ফাইনালের সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি রাবাত, মারাকেশ, ফেজ, তাঞ্জিয়ার ও আগাদিরের স্টেডিয়াম আধুনিকায়ন এবং যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ চলছে।

এমন এক সময়েই বিশ্বমঞ্চে তাদের সামনে দাঁড়াচ্ছে ব্রাজিল!

তবে ব্রাজিলও আসছে কিছুটা বদলে যাওয়া চেহারায়। দলের সবচেয়ে বড় তারকা নেইমার চোটের কারণে এই ম্যাচে নেই। যদিও তার না খেলার বিষয়টি অনেকটা প্রত্যাশিতই ছিল, কোচ কার্লো আনচেলত্তি শেষ পর্যন্ত সেটি নিশ্চিত করেছেন। নেইমারের অনুপস্থিতি ব্রাজিলের আক্রমণভাগের কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে বাধ্য করছে।

ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, লুকাস পাকেতা প্রথম একাদশে জায়গা পেতে যাচ্ছেন। তবে তিনি সরাসরি নেইমারের জায়গায় নয়, বরং কাসেমিরো ও ব্রুনো গিমারেসের সামনে আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে খেলবেন। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রাফিনিয়া দুই উইং সামলাবেন, আর আক্রমণের কেন্দ্রে দেখা যেতে পারে মাথেউস কুনিয়াকে।

আনচেলত্তির সবচেয়ে বড় চিন্তা হতে পারে মাঠের বাম প্রান্ত। কারণ সেই দিকেই খেলেন ভিনিসিয়ুস, আর তার বিপরীতে থাকবেন আশরাফ হাকিমি। আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ফুলব্যাকদের একজন হাকিমি। তিনি যখন আক্রমণে উঠে আসবেন, তখন ভিনিসিয়ুসকে রক্ষণেও বাড়তি দায়িত্ব নিতে হতে পারে। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত লড়াইগুলোর একটি হবে এই ডুয়েল।

একসময় ব্রাজিল ছিল আনন্দদায়ী ফুটবলের একচ্ছত্র প্রতীক। এখন সেই দর্শনের নতুন বাহক হিসেবে অনেকেই মরক্কোর নাম উচ্চারণ করেন। কাতারের বিশ্বকাপে সাহসী, গতিময় ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল খেলে তারা কোটি সমর্থকের হৃদয় জয় করেছিল।

তাই এই ম্যাচে শুধু জয়-পরাজয়ের হিসাব নেই। এখানে রয়েছে একটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি ফুটবল বিপ্লবের পরীক্ষা। রয়েছে আফ্রিকান ফুটবলের নতুন শক্তির আত্মপ্রকাশকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ। আর রয়েছে ব্রাজিলের মতো ঐতিহ্যবাহী শক্তিকে হারিয়ে বিশ্ব ফুটবলের ক্ষমতার মানচিত্রে নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করার সম্ভাবনা।

মারাকেশের সেই রাতের স্মৃতি এখনো তাজা। প্রশ্ন হলো, ব্রাজিলকে হারানোর মতো আরেকটি রাত কি উপহার দিতে পারবে মরক্কো?

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

Categories

স্বপ্ন বনাম ঐতিহ্য, মরক্কো-ব্রাজিল লড়াইয়ের অন্তরালের গল্প

স্বপ্ন বনাম ঐতিহ্য, মরক্কো-ব্রাজিল লড়াইয়ের অন্তরালের গল্প

Update Time : ০৮:৩৫:০৫ অপরাহ্ণ, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

২০২২ সালের ডিসেম্বরের সেই রাত এখনো মরক্কোর ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল স্মৃতিগুলোর একটি। কাতারে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পর্তুগালকে হারানোর পর যখন ইতিহাসের প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে সেমিফাইনালে উঠেছিল মরক্কো, তখন হাজার কিলোমিটার দূরে মারাকেশের জেমা এল-ফনা চত্বর পরিণত হয়েছিল এক বিশাল উৎসবমঞ্চে। ড্রামের তালে তালে গান, পতাকা আর স্লোগানে মুখর হয়ে উঠেছিল শহর। একই দৃশ্য দেখা গিয়েছিল কাসাব্লাঙ্কা, রাবাত, ফেজসহ দেশের প্রায় সব বড় শহরে।

চার বছর পর সেই উন্মাদনা ফিরে আসার সুযোগ আবারও সামনে। তবে এবার প্রতিপক্ষ পর্তুগাল নয়, বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিল।

রোববার ভোরটায় শুরু মরক্কো-ব্রাজিল ম্যাচকে কেবল একটি বিশ্বকাপ ম্যাচ হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি আসলে দুই ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়ানো। একদিকে শতবর্ষের ঐতিহ্য আর পাঁচটি বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস নিয়ে ব্রাজিল, অন্যদিকে গত এক দশকে পরিকল্পিত বিনিয়োগ, প্রবাসী প্রতিভা সংগ্রহ এবং ফুটবল অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে নিজেদের নতুন শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা মরক্কো।

কাতার বিশ্বকাপে মরক্কোর সাফল্যকে অনেকেই শুরুতে অঘটন ভেবেছিলেন। কিন্তু গত চার বছরে তারা বারবার প্রমাণ করেছে, সেটি কোনো দুর্ঘটনা ছিল না। সেই বিশ্বকাপে তারা শুধু পর্তুগালকেই হারায়নি; গ্রুপ পর্বে বেলজিয়াম এবং নকআউট পর্বে স্পেনকেও বিদায় করেছিল। ইউরোপের দুই পরাশক্তিকে হারানোর পর পর্তুগালকে টপকে সেমিফাইনালে পৌঁছানো ছিল একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের দৃশ্যমান ফল।

সেই প্রকল্পের অন্যতম ভিত্তি ছিল ইউরোপে বেড়ে ওঠা মরক্কান বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের জাতীয় দলের পতাকার নিচে আনা। আশরাফ হাকিমি, ব্রাহিম দিয়াজ কিংবা সফিয়ান আমরাবাত-তাদের কেউই মরক্কোয় জন্মগ্রহণ করেননি। কিন্তু জাতীয় পরিচয়ের বন্ধনে তাদের একত্র করেছে মরক্কান ফুটবল ফেডারেশন। আজ জাতীয় দলের সাফল্যের পেছনে সেই কৌশলকে অন্যতম বড় কারণ হিসেবে দেখা হয়।

মরক্কোর অগ্রযাত্রা শুধু জাতীয় দলেই সীমাবদ্ধ নয়। গত বছর ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জিতে দেশটি দেখিয়ে দিয়েছে, ভবিষ্যতের জন্যও তারা প্রস্তুত। সেই যুব দলের কোচ মোহাম্মদ উয়াহবিকেই এখন জাতীয় দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশ্বকাপের সফল কোচ ওয়ালিদ রেগুরাইয়ের বিদায়ের পর নতুন যুগের সূচনা হয়েছে তার হাত ধরেই।

তবে বিশ্বকাপের আগে সবকিছু নিখুঁত নয়। দলের রক্ষণভাগের অন্যতম নির্ভরতা নাইফ আগের্দ এবং আক্রমণভাগের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য আবদে এজ্জালজুলি চোটের কারণে ছিটকে গেছেন। নতুন কোচের জন্য এটি বড় ধাক্কা। তবুও আত্মবিশ্বাসের জায়গা আছে। কারণ দলে রয়েছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা রাইট ব্যাক আশরাফ হাকিমি, যিনি সদ্য পিএসজির হয়ে টানা দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জিতেছেন। গোলপোস্টের নিচে আছেন নির্ভরতার প্রতীক ইয়াসিন বনু। আর আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাহিম দিয়াজ।

মরক্কোর উত্থান শুধু মাঠের ফলাফলে সীমাবদ্ধ নয়। আফ্রিকান ফুটবলের কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতেও দেশটি এগিয়ে যাচ্ছে দ্রুতগতিতে। ২০৩০ বিশ্বকাপ আয়োজন করবে মরক্কো, স্পেন ও পর্তুগাল। সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কাসাব্লাঙ্কার কাছে বেনস্লিমানে নির্মাণ করা হচ্ছে ১ লাখ ১৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার বিশাল স্টেডিয়াম, যেটি বিশ্বকাপ ফাইনালের সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি রাবাত, মারাকেশ, ফেজ, তাঞ্জিয়ার ও আগাদিরের স্টেডিয়াম আধুনিকায়ন এবং যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ চলছে।

এমন এক সময়েই বিশ্বমঞ্চে তাদের সামনে দাঁড়াচ্ছে ব্রাজিল!

তবে ব্রাজিলও আসছে কিছুটা বদলে যাওয়া চেহারায়। দলের সবচেয়ে বড় তারকা নেইমার চোটের কারণে এই ম্যাচে নেই। যদিও তার না খেলার বিষয়টি অনেকটা প্রত্যাশিতই ছিল, কোচ কার্লো আনচেলত্তি শেষ পর্যন্ত সেটি নিশ্চিত করেছেন। নেইমারের অনুপস্থিতি ব্রাজিলের আক্রমণভাগের কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে বাধ্য করছে।

ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, লুকাস পাকেতা প্রথম একাদশে জায়গা পেতে যাচ্ছেন। তবে তিনি সরাসরি নেইমারের জায়গায় নয়, বরং কাসেমিরো ও ব্রুনো গিমারেসের সামনে আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে খেলবেন। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রাফিনিয়া দুই উইং সামলাবেন, আর আক্রমণের কেন্দ্রে দেখা যেতে পারে মাথেউস কুনিয়াকে।

আনচেলত্তির সবচেয়ে বড় চিন্তা হতে পারে মাঠের বাম প্রান্ত। কারণ সেই দিকেই খেলেন ভিনিসিয়ুস, আর তার বিপরীতে থাকবেন আশরাফ হাকিমি। আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ফুলব্যাকদের একজন হাকিমি। তিনি যখন আক্রমণে উঠে আসবেন, তখন ভিনিসিয়ুসকে রক্ষণেও বাড়তি দায়িত্ব নিতে হতে পারে। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত লড়াইগুলোর একটি হবে এই ডুয়েল।

একসময় ব্রাজিল ছিল আনন্দদায়ী ফুটবলের একচ্ছত্র প্রতীক। এখন সেই দর্শনের নতুন বাহক হিসেবে অনেকেই মরক্কোর নাম উচ্চারণ করেন। কাতারের বিশ্বকাপে সাহসী, গতিময় ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল খেলে তারা কোটি সমর্থকের হৃদয় জয় করেছিল।

তাই এই ম্যাচে শুধু জয়-পরাজয়ের হিসাব নেই। এখানে রয়েছে একটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি ফুটবল বিপ্লবের পরীক্ষা। রয়েছে আফ্রিকান ফুটবলের নতুন শক্তির আত্মপ্রকাশকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ। আর রয়েছে ব্রাজিলের মতো ঐতিহ্যবাহী শক্তিকে হারিয়ে বিশ্ব ফুটবলের ক্ষমতার মানচিত্রে নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করার সম্ভাবনা।

মারাকেশের সেই রাতের স্মৃতি এখনো তাজা। প্রশ্ন হলো, ব্রাজিলকে হারানোর মতো আরেকটি রাত কি উপহার দিতে পারবে মরক্কো?