বউ বরণ নয়, ৯ মরদেহ দাফনের অপেক্ষায় স্বজনেরা

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার আগেই নববধূকে নিয়ে মোংলা উপজেলার শেলাবুনিয়ায় নিজ বাড়িতে পৌঁছনোর কথা ছিল বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক ও তার স্বজনদের।

 

আত্মীয় স্বজন ও প্রতিবেশীরা অপেক্ষা করছিলেন বড়-বউকে বরণের জন্য।

 

সবকিছু ঠিক থাকলে আজ শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে গ্রাম বাংলার চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী, নতুন বড়-বউকে নিয়ে খুনটুসি আর খাওয়া-দাওয়া এবং বাচ্চাদের হৈ-হুল্লোরে মুখরিত থাকত বাড়িটি। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে এই বাড়ির হাসি আনন্দ।

 

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে খুলনা মোংলা মহাসড়কে বেলাই ব্রিজ নামক স্থানে নৌবাহিনীর স্টাফ বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় নববধূকে বহনকারী মাইক্রোবাসটির।

 

মুহূর্তেই সকল স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার রাত ১০টা পর্যন্ত মাইক্রোবাস চালকসহ দুই পরিবারের ১৪ জন নিহত হয়েছেন। গভীর রাতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মোংলায় ৯টি, কয়রায় ৪টি এবং রামপালে নেওয়া হয়েছে মাইক্রোবাস চালকের মরদেহ।

 

এখন শেষ বিদায়ের অপেক্ষায় স্বজনরা।

 

মোংলার আব্দুর রাজ্জাকের ৫ ছেলে ও এক মেয়ে। গতকালের দুর্ঘটনায় নিহত ২ ছেলে, মেয়ে, এক পুত্রবধূ ও চার নাতির নিথর দেহ এখন বাড়িতে। আহাজারি করছেন, জীবিত ৩ ছেলে ও তাদের মা এবং স্বজনরা।

 

স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে হারানো জনি বলেন, আমার সব শেষ হয়ে গেছে। স্ত্রীর সন্তান ভাই-বোন সবই হারালাম, আমি একা হয়ে গেলাম। বেশি কথাও বলতে পারছেন না।

 

রাজ্জাকের প্রতিবেশি মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, মরদেহের গোসল হয়ে গেছে। জুমআর পরে দাফন হবে। বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানাজায় অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।

 

কাটাখালি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর আহমেদ বলেন, পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

Categories

বউ বরণ নয়, ৯ মরদেহ দাফনের অপেক্ষায় স্বজনেরা

Update Time : ০২:০৪:১৩ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার আগেই নববধূকে নিয়ে মোংলা উপজেলার শেলাবুনিয়ায় নিজ বাড়িতে পৌঁছনোর কথা ছিল বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক ও তার স্বজনদের।

 

আত্মীয় স্বজন ও প্রতিবেশীরা অপেক্ষা করছিলেন বড়-বউকে বরণের জন্য।

 

সবকিছু ঠিক থাকলে আজ শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে গ্রাম বাংলার চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী, নতুন বড়-বউকে নিয়ে খুনটুসি আর খাওয়া-দাওয়া এবং বাচ্চাদের হৈ-হুল্লোরে মুখরিত থাকত বাড়িটি। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে এই বাড়ির হাসি আনন্দ।

 

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে খুলনা মোংলা মহাসড়কে বেলাই ব্রিজ নামক স্থানে নৌবাহিনীর স্টাফ বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় নববধূকে বহনকারী মাইক্রোবাসটির।

 

মুহূর্তেই সকল স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার রাত ১০টা পর্যন্ত মাইক্রোবাস চালকসহ দুই পরিবারের ১৪ জন নিহত হয়েছেন। গভীর রাতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মোংলায় ৯টি, কয়রায় ৪টি এবং রামপালে নেওয়া হয়েছে মাইক্রোবাস চালকের মরদেহ।

 

এখন শেষ বিদায়ের অপেক্ষায় স্বজনরা।

 

মোংলার আব্দুর রাজ্জাকের ৫ ছেলে ও এক মেয়ে। গতকালের দুর্ঘটনায় নিহত ২ ছেলে, মেয়ে, এক পুত্রবধূ ও চার নাতির নিথর দেহ এখন বাড়িতে। আহাজারি করছেন, জীবিত ৩ ছেলে ও তাদের মা এবং স্বজনরা।

 

স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে হারানো জনি বলেন, আমার সব শেষ হয়ে গেছে। স্ত্রীর সন্তান ভাই-বোন সবই হারালাম, আমি একা হয়ে গেলাম। বেশি কথাও বলতে পারছেন না।

 

রাজ্জাকের প্রতিবেশি মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, মরদেহের গোসল হয়ে গেছে। জুমআর পরে দাফন হবে। বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানাজায় অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।

 

কাটাখালি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর আহমেদ বলেন, পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।