শিরোনামঃ
বর্ডার পার হয়ে গেল ২০০ গরু, বিএসএফ জানালে জানলো বিজিবি চাঁপাইনবাবগঞ্জে মোটরসাইকেল নিবন্ধনে উপচে পড়া ভিড় এসএসসি পরীক্ষা ঘিরে যান চলাচলে ডিএমপির নির্দেশনা চাঁপাইনবাবগঞ্জে সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় পাপিয়া ও শুচি মহিলালীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে ফুটবল মাঠ ভরাট ও গোরস্থানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আমনুরায় চুক্তি শেষ হওয়ায় ৫০ মেগাওয়াট কেন্দ্র বন্ধ, চাপে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভোলাহাটে মাদকের বিরুদ্ধে ওসি বারিকের বিশেষ অভিযান চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভিমরুলের কামড়ে প্রাণ গেলো বৃদ্ধের, ১০ জনের বেশি আহত প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ বিএমডি’র আধুনিক শেচ প্রযুক্তি ও খাল খননে বদলে যাচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষি
News Title :
বর্ডার পার হয়ে গেল ২০০ গরু, বিএসএফ জানালে জানলো বিজিবি চাঁপাইনবাবগঞ্জে মোটরসাইকেল নিবন্ধনে উপচে পড়া ভিড় এসএসসি পরীক্ষা ঘিরে যান চলাচলে ডিএমপির নির্দেশনা চাঁপাইনবাবগঞ্জে সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় পাপিয়া ও শুচি মহিলালীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে ফুটবল মাঠ ভরাট ও গোরস্থানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আমনুরায় চুক্তি শেষ হওয়ায় ৫০ মেগাওয়াট কেন্দ্র বন্ধ, চাপে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভোলাহাটে মাদকের বিরুদ্ধে ওসি বারিকের বিশেষ অভিযান চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভিমরুলের কামড়ে প্রাণ গেলো বৃদ্ধের, ১০ জনের বেশি আহত প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ বিএমডি’র আধুনিক শেচ প্রযুক্তি ও খাল খননে বদলে যাচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়তে ইরানের হাতে কী কী অস্ত্র আছে?

তেহরানে ইসলামী বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকীতে বিভিন্ন পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উপস্থাপন করা হয় / ছবি- সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর তেহরান অত্যন্ত দ্রুততার সাথে পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ইরান জানিয়েছে, তাদের এই প্রতিশোধমূলক হামলার লক্ষ্যবস্তু হলো ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো।

 

 

আঞ্চলিক শক্তি ও বিশ্ববাজারের সামনে এখন বড় প্রশ্ন হলো— এটি কি কেবল পাল্টাপাল্টি হামলার একটি চক্র হয়ে থাকবে, না কি এটি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতা, তাদের মিত্র বাহিনী এবং জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর চাপের মাধ্যমে একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে রূপ নেবে?

 

এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার এবং তাদের হাতে থাকা অন্যান্য মারণাস্ত্রের মধ্যে।

 

 

কেন এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন?

 

২০২৫ সালের জুন মাসে ইরান যে ১২ দিনের যুদ্ধের মুখোমুখি হয়েছিল, এবারের পরিস্থিতি তার চেয়ে আলাদা। খামেনির হত্যাকাণ্ড তেহরানকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছে যে, এটি এখন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। তেহরানের ভাষ্যমতে, এখন যদি তারা সংযম দেখায় বা প্রতিশোধ নিতে দেরি করে, তবে তাকে দুর্বলতা হিসেবে দেখা হবে এবং তা আরও বড় হামলার পথ প্রশস্ত।

 

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কৌশল : শক্তি, পাল্লা ও পরিকল্পনা

 

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং বৈচিত্র্যময়। আধুনিক বিমান বাহিনীর অভাব দূর করতে তারা ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিসাইলের ওপর চরমভাবে নির্ভরশীল।

 

পাল্লা : ইরানের দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ২,০০০ থেকে ২,৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত যেতে পারে। এর মানে হলো, এগুলো দিয়ে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের যেকোনো মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত করা সম্ভব। তবে ট্রাম্পের দাবি সত্ত্বেও, এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর পক্ষে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

 

স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র (১৫০–৮০০ কিমি)

 

এগুলো মূলত নিকটবর্তী লক্ষ্যবস্তু এবং দ্রুত হামলার জন্য তৈরি। ‘ফাত্তাহ’ ভেরিয়েন্ট, ‘জুলফিকার’, ‘কিয়াম-১’ এবং পুরনো ‘শাহাব-১/২’ এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত। ২০২০ সালে কাসেম সোলাইমানি হত্যার পর ইরাকের আইন আল-আসাদ ঘাঁটিতে এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়েই ইরান হামলা চালিয়েছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম হয়েছিল।

 

মধ্যপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র (১,৫০০–২,০০০ কিমি)

 

এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোই যুদ্ধকে আঞ্চলিক রূপ দেয়। ‘শাহাব-৩’, ‘ইমাদ’, ‘ঘদর-১’, ‘খোররামশাহর’ এবং ‘সেজ্জিল’—এই সিস্টেমগুলো দিয়ে ইরান অনেক দূর পর্যন্ত আঘাত করতে পারে। বিশেষ করে ‘সেজ্জিল’ কঠিন জ্বালানিচালিত হওয়ায় এটি খুব দ্রুত উৎক্ষেপণ করা যায়, যা যুদ্ধের ময়দানে ইরানকে বাড়তি সুবিধা দেয়। এর আওতায় কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন ঘাঁটিগুলো পড়ে।

 

ক্রুজ মিসাইল ও ড্রোন : রাডারের চোখ ফাঁকি দেওয়ার অস্ত্র

 

ক্রুজ মিসাইলগুলো মাটির খুব কাছ দিয়ে উড়ে যায় বলে এগুলো শনাক্ত করা কঠিন। ‘সুমার’ (পাল্লা ২,৫০০ কিমি), ‘ইয়া-আলি’, ‘পাভেহ’ এবং ‘রাদ’ ইরানের শক্তিশালী ক্রুজ মিসাইল। এর সাথে যুক্ত হয় ড্রোন। এগুলো ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে ধীরগতির হলেও সস্তা এবং একসাথে শত শত ড্রোন (ঝাঁক বেঁধে) উৎক্ষেপণ করে শত্রুর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যস্ত রাখা যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বন্দর বা বিমানবন্দর অচল করে রাখতে এটি ইরানের প্রধান হাতিয়ার।

 

ভূগর্ভস্থ ‘মিসাইল সিটি’ : টিকে থাকার লড়াই

 

ইরান বছরের পর বছর ধরে তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বড় অংশ মাটির নিচে সুড়ঙ্গ এবং সুরক্ষিত ঘাঁটিতে লুকিয়ে রেখেছে। একে তারা ‘মিসাইল সিটি’ বলে থাকে। ফলে প্রথম দফার বড় কোনো হামলায় ইরানের সব সক্ষমতা ধ্বংস করা অসম্ভব। এই টিকে থাকার ক্ষমতার কারণেই পশ্চিমা সামরিক পরিকল্পনাকারীরা ইরানের সাথে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের আশঙ্কা করছেন।

 

 

 

হরমুজ প্রণালী : বিশ্ব অর্থনীতিতে আঘাত

 

ইরানের যুদ্ধের ময়দান কেবল স্থলের লক্ষ্যবস্তুতে সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের একটি বিশাল অংশ যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়, তা ইরানের নিয়ন্ত্রণে।

 

নৌ-যুদ্ধ : ইরান তাদের অ্যান্টি-শিপ মিসাইল, নৌ-মাইন এবং দ্রুতগতির অ্যাটাক ক্রাফটের মাধ্যমে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিতে পারে।

 

হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র : ইরান দাবি করেছে তাদের ‘ফাত্তাহ’ সিরিজের হাইপারসনিক মিসাইল অত্যন্ত গতিশীল এবং অপরাজেয়। ইতোমধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম শিপিং গ্রুপ ‘মায়েরস্ক’ (Maersk) এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্থগিত করেছে, যা বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।

 

তেহরানের বার্তা : কোনো ‘সীমিত’ যুদ্ধ নয়

 

ইরানি কর্মকর্তারা দীর্ঘকাল ধরে হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন যে, তাদের মাটিতে কোনো হামলা হলে তাকে কেবল একটি ‘অপারেশন’ হিসেবে দেখা হবে না, বরং একে ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ’ হিসেবে গণ্য করা হবে। খামেনির মৃত্যুর পর এই অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে। ইরান এখন কেবল একটি বড় হামলা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী প্রচারণার (Campaign) ইঙ্গিত দিচ্ছে। এতে লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরাও যোগ দিতে পারে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে ঠেলে দেবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

Categories

বর্ডার পার হয়ে গেল ২০০ গরু, বিএসএফ জানালে জানলো বিজিবি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়তে ইরানের হাতে কী কী অস্ত্র আছে?

Update Time : ০৪:৫৭:৪৪ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

তেহরানে ইসলামী বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকীতে বিভিন্ন পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উপস্থাপন করা হয় / ছবি- সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর তেহরান অত্যন্ত দ্রুততার সাথে পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ইরান জানিয়েছে, তাদের এই প্রতিশোধমূলক হামলার লক্ষ্যবস্তু হলো ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো।

 

 

আঞ্চলিক শক্তি ও বিশ্ববাজারের সামনে এখন বড় প্রশ্ন হলো— এটি কি কেবল পাল্টাপাল্টি হামলার একটি চক্র হয়ে থাকবে, না কি এটি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতা, তাদের মিত্র বাহিনী এবং জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর চাপের মাধ্যমে একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে রূপ নেবে?

 

এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার এবং তাদের হাতে থাকা অন্যান্য মারণাস্ত্রের মধ্যে।

 

 

কেন এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন?

 

২০২৫ সালের জুন মাসে ইরান যে ১২ দিনের যুদ্ধের মুখোমুখি হয়েছিল, এবারের পরিস্থিতি তার চেয়ে আলাদা। খামেনির হত্যাকাণ্ড তেহরানকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছে যে, এটি এখন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। তেহরানের ভাষ্যমতে, এখন যদি তারা সংযম দেখায় বা প্রতিশোধ নিতে দেরি করে, তবে তাকে দুর্বলতা হিসেবে দেখা হবে এবং তা আরও বড় হামলার পথ প্রশস্ত।

 

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কৌশল : শক্তি, পাল্লা ও পরিকল্পনা

 

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং বৈচিত্র্যময়। আধুনিক বিমান বাহিনীর অভাব দূর করতে তারা ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিসাইলের ওপর চরমভাবে নির্ভরশীল।

 

পাল্লা : ইরানের দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ২,০০০ থেকে ২,৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত যেতে পারে। এর মানে হলো, এগুলো দিয়ে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের যেকোনো মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত করা সম্ভব। তবে ট্রাম্পের দাবি সত্ত্বেও, এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর পক্ষে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

 

স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র (১৫০–৮০০ কিমি)

 

এগুলো মূলত নিকটবর্তী লক্ষ্যবস্তু এবং দ্রুত হামলার জন্য তৈরি। ‘ফাত্তাহ’ ভেরিয়েন্ট, ‘জুলফিকার’, ‘কিয়াম-১’ এবং পুরনো ‘শাহাব-১/২’ এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত। ২০২০ সালে কাসেম সোলাইমানি হত্যার পর ইরাকের আইন আল-আসাদ ঘাঁটিতে এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়েই ইরান হামলা চালিয়েছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম হয়েছিল।

 

মধ্যপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র (১,৫০০–২,০০০ কিমি)

 

এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোই যুদ্ধকে আঞ্চলিক রূপ দেয়। ‘শাহাব-৩’, ‘ইমাদ’, ‘ঘদর-১’, ‘খোররামশাহর’ এবং ‘সেজ্জিল’—এই সিস্টেমগুলো দিয়ে ইরান অনেক দূর পর্যন্ত আঘাত করতে পারে। বিশেষ করে ‘সেজ্জিল’ কঠিন জ্বালানিচালিত হওয়ায় এটি খুব দ্রুত উৎক্ষেপণ করা যায়, যা যুদ্ধের ময়দানে ইরানকে বাড়তি সুবিধা দেয়। এর আওতায় কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন ঘাঁটিগুলো পড়ে।

 

ক্রুজ মিসাইল ও ড্রোন : রাডারের চোখ ফাঁকি দেওয়ার অস্ত্র

 

ক্রুজ মিসাইলগুলো মাটির খুব কাছ দিয়ে উড়ে যায় বলে এগুলো শনাক্ত করা কঠিন। ‘সুমার’ (পাল্লা ২,৫০০ কিমি), ‘ইয়া-আলি’, ‘পাভেহ’ এবং ‘রাদ’ ইরানের শক্তিশালী ক্রুজ মিসাইল। এর সাথে যুক্ত হয় ড্রোন। এগুলো ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে ধীরগতির হলেও সস্তা এবং একসাথে শত শত ড্রোন (ঝাঁক বেঁধে) উৎক্ষেপণ করে শত্রুর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যস্ত রাখা যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বন্দর বা বিমানবন্দর অচল করে রাখতে এটি ইরানের প্রধান হাতিয়ার।

 

ভূগর্ভস্থ ‘মিসাইল সিটি’ : টিকে থাকার লড়াই

 

ইরান বছরের পর বছর ধরে তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বড় অংশ মাটির নিচে সুড়ঙ্গ এবং সুরক্ষিত ঘাঁটিতে লুকিয়ে রেখেছে। একে তারা ‘মিসাইল সিটি’ বলে থাকে। ফলে প্রথম দফার বড় কোনো হামলায় ইরানের সব সক্ষমতা ধ্বংস করা অসম্ভব। এই টিকে থাকার ক্ষমতার কারণেই পশ্চিমা সামরিক পরিকল্পনাকারীরা ইরানের সাথে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের আশঙ্কা করছেন।

 

 

 

হরমুজ প্রণালী : বিশ্ব অর্থনীতিতে আঘাত

 

ইরানের যুদ্ধের ময়দান কেবল স্থলের লক্ষ্যবস্তুতে সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের একটি বিশাল অংশ যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়, তা ইরানের নিয়ন্ত্রণে।

 

নৌ-যুদ্ধ : ইরান তাদের অ্যান্টি-শিপ মিসাইল, নৌ-মাইন এবং দ্রুতগতির অ্যাটাক ক্রাফটের মাধ্যমে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিতে পারে।

 

হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র : ইরান দাবি করেছে তাদের ‘ফাত্তাহ’ সিরিজের হাইপারসনিক মিসাইল অত্যন্ত গতিশীল এবং অপরাজেয়। ইতোমধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম শিপিং গ্রুপ ‘মায়েরস্ক’ (Maersk) এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্থগিত করেছে, যা বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।

 

তেহরানের বার্তা : কোনো ‘সীমিত’ যুদ্ধ নয়

 

ইরানি কর্মকর্তারা দীর্ঘকাল ধরে হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন যে, তাদের মাটিতে কোনো হামলা হলে তাকে কেবল একটি ‘অপারেশন’ হিসেবে দেখা হবে না, বরং একে ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ’ হিসেবে গণ্য করা হবে। খামেনির মৃত্যুর পর এই অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে। ইরান এখন কেবল একটি বড় হামলা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী প্রচারণার (Campaign) ইঙ্গিত দিচ্ছে। এতে লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরাও যোগ দিতে পারে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে ঠেলে দেবে।