এক মাসের জ্বালানি নিয়ে স্বস্তির আভাস

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও দেশের ডিজেল মজুত পরিস্থিতি নিয়ে স্বস্তির খবর মিলেছে। আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে ধাপে ধাপে প্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার টনের বেশি পরিশোধিত ডিজেল দেশে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

 

বন্দর ও বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে দুটি জাহাজে করে প্রায় ৫৪ হাজার টন ডিজেল চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে। গত ১০ মার্চ ‘লিয়ান হুয়ান হু’ নামের একটি ট্যাংকার প্রায় ২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছে এবং সেদিন সন্ধ্যা থেকেই তেল খালাসের কাজ শুরু হয়। এর আগে ৯ মার্চ ‘শিউ চি’ নামের আরেকটি জাহাজ ২৭ হাজার ২০৪ টন ডিজেল নিয়ে বন্দরে নোঙর করে।

 

এ ছাড়া জ্বালানি আমদানির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আরও কয়েকটি জাহাজের সময়সূচিও ঠিক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ‘এসপিটি থেমিস’ জাহাজে প্রায় ৩০ হাজার ৪৮৪ টন, ১৩ মার্চ ‘র‌্যাফেলস সামুরাই’ জাহাজে প্রায় ৩০ হাজার টন এবং ১৫ মার্চ ‘চাং হাং হং তু’ জাহাজে করে আরও প্রায় ৩০ হাজার টন ডিজেল দেশে আসার কথা রয়েছে।

 

বিপিসির হিসাবে, বর্তমানে দেশে যে হারে ডিজেল ব্যবহার হচ্ছে, তাতে নতুন আমদানি করা এই প্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার টন জ্বালানি দিয়ে প্রায় ১২ দিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার সরবরাহে কিছুটা সাশ্রয়ী নীতি অনুসরণ করছে। সে অনুযায়ী দৈনিক সরবরাহ কমিয়ে প্রায় ৯ হাজার টনে নামিয়ে আনা হয়েছে। এতে এই চালান দিয়ে প্রায় ১৬ দিন চলা সম্ভব হবে।

 

এদিকে বর্তমানে যে পরিমাণ ডিজেল মজুত রয়েছে, তা দিয়ে আরও প্রায় ১৭ দিন চাহিদা মেটানো যাবে। ফলে সব মিলিয়ে আগামী প্রায় এক মাসের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে স্বস্তিতে থাকতে পারবে দেশ।

 

বিপিসির বাণিজ্যিক ও অপারেশন বিভাগের কর্মকর্তা মাসুদ পারভেজ বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি জটিল হলেও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জাহাজ বন্দরে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত খালাস প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় বাজারে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

Categories

এক মাসের জ্বালানি নিয়ে স্বস্তির আভাস

Update Time : ০৯:৩৮:৩৪ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও দেশের ডিজেল মজুত পরিস্থিতি নিয়ে স্বস্তির খবর মিলেছে। আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে ধাপে ধাপে প্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার টনের বেশি পরিশোধিত ডিজেল দেশে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

 

বন্দর ও বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে দুটি জাহাজে করে প্রায় ৫৪ হাজার টন ডিজেল চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে। গত ১০ মার্চ ‘লিয়ান হুয়ান হু’ নামের একটি ট্যাংকার প্রায় ২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছে এবং সেদিন সন্ধ্যা থেকেই তেল খালাসের কাজ শুরু হয়। এর আগে ৯ মার্চ ‘শিউ চি’ নামের আরেকটি জাহাজ ২৭ হাজার ২০৪ টন ডিজেল নিয়ে বন্দরে নোঙর করে।

 

এ ছাড়া জ্বালানি আমদানির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আরও কয়েকটি জাহাজের সময়সূচিও ঠিক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ‘এসপিটি থেমিস’ জাহাজে প্রায় ৩০ হাজার ৪৮৪ টন, ১৩ মার্চ ‘র‌্যাফেলস সামুরাই’ জাহাজে প্রায় ৩০ হাজার টন এবং ১৫ মার্চ ‘চাং হাং হং তু’ জাহাজে করে আরও প্রায় ৩০ হাজার টন ডিজেল দেশে আসার কথা রয়েছে।

 

বিপিসির হিসাবে, বর্তমানে দেশে যে হারে ডিজেল ব্যবহার হচ্ছে, তাতে নতুন আমদানি করা এই প্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার টন জ্বালানি দিয়ে প্রায় ১২ দিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার সরবরাহে কিছুটা সাশ্রয়ী নীতি অনুসরণ করছে। সে অনুযায়ী দৈনিক সরবরাহ কমিয়ে প্রায় ৯ হাজার টনে নামিয়ে আনা হয়েছে। এতে এই চালান দিয়ে প্রায় ১৬ দিন চলা সম্ভব হবে।

 

এদিকে বর্তমানে যে পরিমাণ ডিজেল মজুত রয়েছে, তা দিয়ে আরও প্রায় ১৭ দিন চাহিদা মেটানো যাবে। ফলে সব মিলিয়ে আগামী প্রায় এক মাসের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে স্বস্তিতে থাকতে পারবে দেশ।

 

বিপিসির বাণিজ্যিক ও অপারেশন বিভাগের কর্মকর্তা মাসুদ পারভেজ বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি জটিল হলেও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জাহাজ বন্দরে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত খালাস প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় বাজারে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।