শিরোনামঃ
আমতলী চা বাগানের ব্যবস্থাপককে জড়িয়ে অপপ্রচার, বাগানবাসীর প্রতিবাদ বাহুবলে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস পালিত চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরাঞ্চলে সেচ বিপর্যয়, আশঙ্কায় খাদ্য উৎপাদন বজ্রপাতের ঝুঁকিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ চাঁপাইনবাবগঞ্জে কৃষি ভিত্তিক শিল্পে নয়া দিগন্ত বানিজ্যিক ভাবে শুকনা আনারস উৎপাদন চরের পতিত জমিতে সোনালি ফসল: চিনাবাদাম চাষে বদলে যাচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষি অর্থনীতি শিবগঞ্জের আদি চমচমকে জিআই স্বীকৃতির দাবি জোরালো চাঁদাবাজি বন্ধ ও শ্রমিক অধিকার রক্ষায় দুর্বার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি মহান মে দিবস শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের দিন অর্থের টানাপোড়েনে থমকে যাচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ হার্ট হাসপাতাল
News Title :
আমতলী চা বাগানের ব্যবস্থাপককে জড়িয়ে অপপ্রচার, বাগানবাসীর প্রতিবাদ বাহুবলে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস পালিত চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরাঞ্চলে সেচ বিপর্যয়, আশঙ্কায় খাদ্য উৎপাদন বজ্রপাতের ঝুঁকিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ চাঁপাইনবাবগঞ্জে কৃষি ভিত্তিক শিল্পে নয়া দিগন্ত বানিজ্যিক ভাবে শুকনা আনারস উৎপাদন চরের পতিত জমিতে সোনালি ফসল: চিনাবাদাম চাষে বদলে যাচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষি অর্থনীতি শিবগঞ্জের আদি চমচমকে জিআই স্বীকৃতির দাবি জোরালো চাঁদাবাজি বন্ধ ও শ্রমিক অধিকার রক্ষায় দুর্বার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি মহান মে দিবস শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের দিন অর্থের টানাপোড়েনে থমকে যাচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ হার্ট হাসপাতাল

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির পরাজয়ের কারণ নিয়ে নেতাকর্মীদের বিশ্লেষণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসন দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর হাত ধরে ১৯৭৭ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাবেক প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত সৈয়দ মনজুর হোসেন। তাঁর মৃত্যু (২০০৭) পরবর্তী সময়ে এ আসনে দলীয় নেতৃত্বে পরিবর্তন আসে। ২০০৮ সালে ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হন আলহাজ্ব আমিনুল ইসলাম। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। ২০১৪তে বিএনপি বর্জন করে পরর্বতীতে ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি আবারও বিএনপির টিকিটে বিজয়ী হলেও দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সংসদে যোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সাংগঠনিক দুর্বলতা ও দূরত্বের অভিযোগ স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীর অভিযোগ, দীর্ঘ ১৮ বছরের রাজনৈতিক জীবনে আমিনুল ইসলাম তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনটি তিনটি উপজেলা, দুটি পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হলেও তিনি নিয়মিত এলাকায় অবস্থান করতেন না। ব্যবসায়িক কাজে ব্যস্ত থাকায় দুই-তিন মাস পরপর এলাকায় আসতেন বলে দাবি করা হয়। নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী মামলায় জড়ানো বা হামলার শিকার নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়াননি।

সীমিত কয়েকজন ঘনিষ্ঠ নেতাকর্মীর মধ্যেই যোগাযোগ সীমাবদ্ধ রেখেছেন। সাধারণ কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগে অনীহা দেখিয়েছেন। হাট-বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল কম।সংসদে ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ২০১৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদে সরকারের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো বক্তব্য বা এলাকার উন্নয়নসংক্রান্ত জোরালো ভূমিকা দেখা যায়নি এমন অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা। দলীয় দুর্দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ না করায় তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষোভ বাড়ে বলে জানা গেছে। মনোনয়ন ইস্যু ও ভোটের প্রভাব ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকলেও ত্যাগী ও দীর্ঘদিনের সংগঠক নেতাদের মূল্যায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, সঠিক ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন না দেওয়াই পরাজয়ের অন্যতম কারণ। তাদের দাবি, এ আসনে বিএনপির ঐতিহ্যগত ভোটব্যাংক শক্তিশালী। কিন্তু প্রার্থীর প্রতি অনাস্থা ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অনেক সমর্থক ভোটে নিরুৎসাহিত হন বা বিকল্প প্রার্থীকে সমর্থন করেন। এর ফলেই প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রার্থী বিজয়ী হন বলে তারা মনে করেন। ভবিষ্যৎ করণীয় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিমত, আগামী নির্বাচনে ত্যাগী, তৃণমূলভিত্তিক ও গ্রহণযোগ্য নেতাকে মনোনয়ন দিলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে দল পুনরায় বিজয় অর্জন করতে সক্ষম হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

Categories

আমতলী চা বাগানের ব্যবস্থাপককে জড়িয়ে অপপ্রচার, বাগানবাসীর প্রতিবাদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির পরাজয়ের কারণ নিয়ে নেতাকর্মীদের বিশ্লেষণ

Update Time : ০৪:৩৫:০৬ অপরাহ্ণ, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসন দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর হাত ধরে ১৯৭৭ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাবেক প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত সৈয়দ মনজুর হোসেন। তাঁর মৃত্যু (২০০৭) পরবর্তী সময়ে এ আসনে দলীয় নেতৃত্বে পরিবর্তন আসে। ২০০৮ সালে ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হন আলহাজ্ব আমিনুল ইসলাম। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। ২০১৪তে বিএনপি বর্জন করে পরর্বতীতে ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি আবারও বিএনপির টিকিটে বিজয়ী হলেও দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সংসদে যোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সাংগঠনিক দুর্বলতা ও দূরত্বের অভিযোগ স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীর অভিযোগ, দীর্ঘ ১৮ বছরের রাজনৈতিক জীবনে আমিনুল ইসলাম তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনটি তিনটি উপজেলা, দুটি পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হলেও তিনি নিয়মিত এলাকায় অবস্থান করতেন না। ব্যবসায়িক কাজে ব্যস্ত থাকায় দুই-তিন মাস পরপর এলাকায় আসতেন বলে দাবি করা হয়। নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী মামলায় জড়ানো বা হামলার শিকার নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়াননি।

সীমিত কয়েকজন ঘনিষ্ঠ নেতাকর্মীর মধ্যেই যোগাযোগ সীমাবদ্ধ রেখেছেন। সাধারণ কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগে অনীহা দেখিয়েছেন। হাট-বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল কম।সংসদে ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ২০১৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদে সরকারের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো বক্তব্য বা এলাকার উন্নয়নসংক্রান্ত জোরালো ভূমিকা দেখা যায়নি এমন অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা। দলীয় দুর্দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ না করায় তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষোভ বাড়ে বলে জানা গেছে। মনোনয়ন ইস্যু ও ভোটের প্রভাব ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকলেও ত্যাগী ও দীর্ঘদিনের সংগঠক নেতাদের মূল্যায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, সঠিক ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন না দেওয়াই পরাজয়ের অন্যতম কারণ। তাদের দাবি, এ আসনে বিএনপির ঐতিহ্যগত ভোটব্যাংক শক্তিশালী। কিন্তু প্রার্থীর প্রতি অনাস্থা ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অনেক সমর্থক ভোটে নিরুৎসাহিত হন বা বিকল্প প্রার্থীকে সমর্থন করেন। এর ফলেই প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রার্থী বিজয়ী হন বলে তারা মনে করেন। ভবিষ্যৎ করণীয় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিমত, আগামী নির্বাচনে ত্যাগী, তৃণমূলভিত্তিক ও গ্রহণযোগ্য নেতাকে মনোনয়ন দিলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে দল পুনরায় বিজয় অর্জন করতে সক্ষম হবে।