
ভালোবাসা আর সংসারের স্বপ্ন নিয়ে বিয়ে করেছিলেন রেখা বেগম। প্রথম পর্যায়ে স্বামীর দাবি পূরণে বাবার বাড়ির জমি বিক্রি করিয়ে পাঁচ লাখ টাকা এনে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাতেও শেষ হয়নি যৌতুকের স্বামীর চাহিদা। আরও টাকা আনতে না পারায় শেষ পর্যন্ত স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ হারাতে হয় রেখার।
মামলার বিচার প্রক্রিয়া প্রায় ১০ বছর শেষে রেখা হত্যার ঘটনায় স্বামী মো. জাকির মোল্লাকে (৪৬) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বেলা ২টার দিকে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত জাকির মোল্লা আদালতে উপস্থিত থাকায় পুলিশ পাহারায় তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে ফরিদপুর সদর উপজেলার মঙ্গলকোট এলাকার বাসিন্দা জাকির মোল্লার সঙ্গে সালথা উপজেলার গট্টি এলাকার ভাবুকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা রেখা বেগমের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়।
বিয়ের প্রায় ছয় বছর পর ২০১৫ সালের দিকে জাকির মোল্লা স্ত্রীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। স্বামীর চাপে রেখা বেগম বাবার বাড়িতে গিয়ে জমি বিক্রি করিয়ে সেই টাকা এনে স্বামীর হাতে তুলে দেন। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই সেই টাকা শেষ হলে আবারও স্ত্রীর কাছে নতুন করে যৌতুক দাবি করেন স্বামী জাকির।
দ্বিতীয় দফায় টাকা এনে দিতে না পারায় ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর স্বামী জাকির মোল্লা তার স্ত্রী রেখা বেগমকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
ওই ঘটনার চার দিন পর ঘটনার তিনদিন পর ২৬ অক্টোবর নিহতের চাচা মো. বাচ্চু খান বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। এতে জাকির মোল্লা ও তার বাবা-মাকে আসামি করা হয়।
মামলাটি তদন্ত করেন কোতোয়ালি থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) বিপুল চন্দ্র দে। তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর তিনি জাকির মোল্লাকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
ফরিদপুর নারী ও শিশু আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) গোলাম রব্বানী বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩)-এর ১১(ক) ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “এ ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। যৌতুক আমাদের সমাজের একটি ভয়াবহ ব্যাধি। আদালতের এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।”
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















