
গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে কঠোর আল্টিমেটাম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই প্রণালি খুলে না দিলে ইরানে ‘নরক নেমে আসবে’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৪ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছেন, অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ না খুললে ইরানে ‘নরক নেমে আসবে’।
ট্রাম্প বলেন, সময় শেষ হয়ে আসছে। মনে আছে, আমি ইরানকে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে অথবা হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ১০ দিনের সময় দিয়েছিলাম? এখন হাতে আছে মাত্র ৪৮ ঘণ্টা। এরপরই তাদের ওপর চরম ধ্বংসযজ্ঞ নেমে আসবে।
এদিকে মানবিক দিক বিবেচনায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য’ বহনকারী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান। তবে কোন কোন পণ্য এর আওতায় রয়েছে তা স্পষ্ট করেনি ইরান। পাশপাশি ইরান তাদের শত্রু দেশগুলোর জাহাজের ওপর অবরোধ বহাল রাখবে কি না, তাও স্পষ্ট করেনি। শনিবার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজের বরাতে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
ইরানের বন্দর ও সামুদ্রিক সংস্থার প্রধানের উদ্দেশে লেখা একটি নথিতে বাণিজ্যিক উন্নয়ন বিষয়ক ডেপুটি হুমান ফাথি বলেছেন, অপরিহার্য পণ্য—বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য এবং গবাদি পশুর খাদ্য বহনকারী জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
ইরানি কর্মকর্তা বলেন, আদেশটি ইরানি বন্দরের দিকে আসা অথবা বর্তমানে এই অঞ্চলে অবস্থানরত জাহাজগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। সংশ্লিষ্ট নির্বাহী সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা ইস্যু করা প্রোটোকল অনুযায়ী এই জাহাজগুলোর চলাচল সহজতর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
গাজালি নামের জনৈক কর্মকর্তা জানান, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে চলাচলের জন্য প্রস্তুত জাহাজের একটি তালিকা সমন্বয়ের জন্য পাঠানো হবে।
এর আগে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ শুক্রবার এক নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
নাম প্রকাশ না করা সূত্রটি জানায়, গত বুধবার একটি বন্ধু দেশের মাধ্যমে এ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। দেশটির নাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে সেই প্রস্তাব বা এর সত্যতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য বা নিশ্চিত করার তথ্য পাওয়া যায়নি।
ফার্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনী যখন ক্রমাগত উত্তেজনা ও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে, তখনই এ প্রস্তাব সামনে আসে। বিশেষ করে কুয়েতের বুবিয়ান দ্বীপে একটি মার্কিন সামরিক গুদামে হামলার পর যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরালো হয়েছে। ইরান এই প্রস্তাবের কোনো লিখিত জবাব দেয়নি, বরং হামলার তীব্রতা বাড়িয়ে মাঠেই এর পাল্টা জবাব দিয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















