শিরোনামঃ
News Title :

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে উজানের ঢলে ৪৫০ বিঘা ধান ক্ষতির মুখে

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:০৪:৫৫ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • ২৩ Time View

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে উজানের ঢলে ৪৫০ বিঘা ধান ক্ষতির মুখে

চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত এক সপ্তাহের বৃষ্টি ও গোমস্তাপুর উপজেলায় ভারতের উজান থেকে নেমে আসা আকস্মিক ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে প্রায় সাড়ে ৪০০ বিঘা জমির আধাপাকা ধান। মৌসুমের একেবারে শেষ সময়ে এসে এই বিপর্যয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষকেরা। ইতোমধ্যে অন্তত ৬০ হেক্টর জমির ধান পানির নিচে চলে গেছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলছে কৃষকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তায়।
উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের বিল তিলনা, তিলকুচ, সুখডোবা ও গুমরোহিল এলাকার বিস্তীর্ণ জমিতে গত তিনদিন ধরে পানি ঢুকছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, উজানের ঢল হঠাৎ করে বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকেরা প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাননি। ফলে আধাপাকা ধান এখন পানির নিচে ডুবে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ক্ষতি কমাতে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে সময়ের আগেই ধান কেটে ঘরে তুলছেন। তবে এই পরিস্থিতিতে নতুন করে দেখা দিয়েছে শ্রমিক সংকট। একসঙ্গে অধিকাংশ কৃষক ধান কাটতে নামায় শ্রমিকের চাহিদা বেড়ে কয়েকগুণ হয়েছে। ফলে শ্রমিকের মজুরি বেড়ে দাঁড়িয়েছে অস্বাভাবিক পর্যায়ে।
স্থানীয় কৃষক রবিউল ইসলাম জানান, ১০ বিঘা জমিতে আবাদ করা ধানের মধ্যে ইতোমধ্যে আড়াই বিঘা পানিতে তলিয়ে গেছে। শ্রমিক না পাওয়ায় বাকি ধান কাটাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে রতন আলী বলেন, প্রতি বিঘা ধান কাটতে শ্রমিকদের জনপ্রতি প্রায় ১ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। এর সঙ্গে নৌকা ভাড়ার অতিরিক্ত খরচ যোগ হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়ে দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এতে লাভ তো দূরের কথা, খরচ উঠবে কি না—সেই শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয়ভাবে বিল এলাকায় অস্থায়ী মাটির বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কৃষকদের অভিযোগ, এসব বাঁধ টেকসই নয় এবং প্রবল ঢলের পানির চাপ সামাল দেওয়ার মতো শক্তিশালীও নয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদে এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাকলাইন হোসেন জানান, পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং পানি ঠেকাতে স্থানীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে বাস্তবতা হলো, হঠাৎ করে পানি বৃদ্ধির কারণে অনেক ক্ষেত্রেই কৃষকেরা সময়মতো পদক্ষেপ নিতে পারছেন না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে উজানের ঢল একটি নিয়মিত ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং নদী ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতার কারণে এই ঝুঁকি আরও বাড়ছে। ফলে প্রতিবছরই একই ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকেরা, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি কোনো টেকসই সমাধান এখনও গড়ে ওঠেনি।
এই ক্ষতি শুধু একটি মৌসুমের ফসলহানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি কৃষকের সারাবছরের জীবিকা, ঋণ পরিশোধ এবং পরিবারের খাদ্যনিরাপত্তার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। সময়মতো সহায়তা ও কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা না নিলে এমন পরিস্থিতি আরও ঘন ঘন ঘটবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গোমস্তাপুরের মাঠে দাঁড়িয়ে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এই ক্ষতির ভার কে নেবে, আর কতদিন এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে কৃষকদের জীবন কাটাতে হবে?
 চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ডঃ ইয়াসিন আলী জানান গত এক সপ্তাহের মধ্যে বৃষ্টি ও ঢলে জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নে প্রায় ৪৫০ বিঘা আধাপাকা ধান তলিয়ে গেছে তবে কৃষকরা তাদের জনবল লাগিয়ে ধান কেটে নিচ্ছ। আসলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ কি বা করার আছে। বিষয়টি উর্ধতন কতৃপক্ষ কে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে আগামীত  বাধ নির্মাণ করে কৃষকদের রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

Categories

জুম্মার নামাজের পর বেলপুকুরে মাদকবিরোধী লিফলেট বিতরণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে উজানের ঢলে ৪৫০ বিঘা ধান ক্ষতির মুখে

Update Time : ১০:০৪:৫৫ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত এক সপ্তাহের বৃষ্টি ও গোমস্তাপুর উপজেলায় ভারতের উজান থেকে নেমে আসা আকস্মিক ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে প্রায় সাড়ে ৪০০ বিঘা জমির আধাপাকা ধান। মৌসুমের একেবারে শেষ সময়ে এসে এই বিপর্যয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষকেরা। ইতোমধ্যে অন্তত ৬০ হেক্টর জমির ধান পানির নিচে চলে গেছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলছে কৃষকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তায়।
উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের বিল তিলনা, তিলকুচ, সুখডোবা ও গুমরোহিল এলাকার বিস্তীর্ণ জমিতে গত তিনদিন ধরে পানি ঢুকছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, উজানের ঢল হঠাৎ করে বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকেরা প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাননি। ফলে আধাপাকা ধান এখন পানির নিচে ডুবে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ক্ষতি কমাতে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে সময়ের আগেই ধান কেটে ঘরে তুলছেন। তবে এই পরিস্থিতিতে নতুন করে দেখা দিয়েছে শ্রমিক সংকট। একসঙ্গে অধিকাংশ কৃষক ধান কাটতে নামায় শ্রমিকের চাহিদা বেড়ে কয়েকগুণ হয়েছে। ফলে শ্রমিকের মজুরি বেড়ে দাঁড়িয়েছে অস্বাভাবিক পর্যায়ে।
স্থানীয় কৃষক রবিউল ইসলাম জানান, ১০ বিঘা জমিতে আবাদ করা ধানের মধ্যে ইতোমধ্যে আড়াই বিঘা পানিতে তলিয়ে গেছে। শ্রমিক না পাওয়ায় বাকি ধান কাটাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে রতন আলী বলেন, প্রতি বিঘা ধান কাটতে শ্রমিকদের জনপ্রতি প্রায় ১ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। এর সঙ্গে নৌকা ভাড়ার অতিরিক্ত খরচ যোগ হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়ে দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এতে লাভ তো দূরের কথা, খরচ উঠবে কি না—সেই শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয়ভাবে বিল এলাকায় অস্থায়ী মাটির বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কৃষকদের অভিযোগ, এসব বাঁধ টেকসই নয় এবং প্রবল ঢলের পানির চাপ সামাল দেওয়ার মতো শক্তিশালীও নয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদে এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাকলাইন হোসেন জানান, পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং পানি ঠেকাতে স্থানীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে বাস্তবতা হলো, হঠাৎ করে পানি বৃদ্ধির কারণে অনেক ক্ষেত্রেই কৃষকেরা সময়মতো পদক্ষেপ নিতে পারছেন না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে উজানের ঢল একটি নিয়মিত ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং নদী ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতার কারণে এই ঝুঁকি আরও বাড়ছে। ফলে প্রতিবছরই একই ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকেরা, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি কোনো টেকসই সমাধান এখনও গড়ে ওঠেনি।
এই ক্ষতি শুধু একটি মৌসুমের ফসলহানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি কৃষকের সারাবছরের জীবিকা, ঋণ পরিশোধ এবং পরিবারের খাদ্যনিরাপত্তার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। সময়মতো সহায়তা ও কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা না নিলে এমন পরিস্থিতি আরও ঘন ঘন ঘটবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গোমস্তাপুরের মাঠে দাঁড়িয়ে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এই ক্ষতির ভার কে নেবে, আর কতদিন এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে কৃষকদের জীবন কাটাতে হবে?
 চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ডঃ ইয়াসিন আলী জানান গত এক সপ্তাহের মধ্যে বৃষ্টি ও ঢলে জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নে প্রায় ৪৫০ বিঘা আধাপাকা ধান তলিয়ে গেছে তবে কৃষকরা তাদের জনবল লাগিয়ে ধান কেটে নিচ্ছ। আসলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ কি বা করার আছে। বিষয়টি উর্ধতন কতৃপক্ষ কে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে আগামীত  বাধ নির্মাণ করে কৃষকদের রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।