উজানের পানির চাপ, খুলে দেওয়া হলো মুহুরীর ৪০ গেট

  • Md Biplob Ahommed
  • Update Time : ১১:৩৮:৩১ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
  • ৩৩ Time View

পাহাড়ি ঢল আর গত কয়েকদিনের দিনের বর্ষণে ফেনীর মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অতিরিক্ত পানির চাপ সামলাতে এবং দ্রুত বঙ্গোপসাগরে নিষ্কাশনের লক্ষ্যে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ‘মুহুরী সেচ প্রকল্প’-এর ৪০টি জলকপাট বা রেগুলেটর গেট খুলে দিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

পাউবো জানিয়েছে, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর পানি নিষ্কাশনের প্রধান ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে। ভারতের ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা উজানের পানির চাপ নিয়ন্ত্রণে প্রকল্পটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পের সব ৪০টি রেগুলেটর গেট সার্বক্ষণিক খোলা রাখা হয়েছে। ফলে ফেনী নদীর পানির স্তর এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক রয়েছে।

চকরিয়া উপজেলায় বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক এবং মাতামুহুরী উপজেলার বাসিন্দা সাংবাদিক আলাউদ্দিন আলো বলেন, বিকাল ৩ টা থেকে বেতুয়া বাজার বিল, কোনাখালী খাল, কোনাখালী ২ ব্যান্ডের স্লুইসগেট, কোনাখালী বাংলা বাজারের পাশের ২টি মাছের প্রজেক্টের নাশি, ঢেমুশিয়া ক্রসডেম ৫ ব্যান্ডের স্লইজগেটসহ মাতামুহুরী উপজেলার অধিকাংশ জায়গার স্লুইসগেট খোলা আছে এটি যদি আজ রাতে খোলা থাকে এভাবে তাহলে অবশ্যই সম্পূর্ণ পানি নেমে যাবে।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপ অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় সবগুলো গেট একসঙ্গে খুলে দেওয়া হয়েছে। জোয়ারের সময় ছাড়া সারাদিনই পানি নামছে। সার্বিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, জোয়ারের সময় বঙ্গোপসাগর থেকে যাতে উল্টো স্রোতে পানি প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন গড়ে দুইবার প্রায় দুই ঘণ্টা করে গেটগুলো বন্ধ রাখা হয়। জোয়ারের সময় ছাড়া বাকি পুরো সময় গেট খোলা রেখে পানি নিষ্কাশন অব্যাহত রাখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৭-৭৮ অর্থবছরে শুরু হয়ে ১৯৮৫-৮৬ অর্থবছরে সোনাগাজী উপজেলায় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ সেচ প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ হয়। ফেনী নদী, মুহুরী নদী ও কালিদাস পাহালিয়া নদীর সম্মিলিত প্রবাহে বাঁধ দিয়ে ৪০ ফোক্ট (গেট) বিশিষ্ট পানি নিয়ন্ত্রণ কাঠামোটি তৈরি করা হয়।

সিডা, ইইসি ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে জাপানের সিমুজু কোম্পানি প্রায় ১৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এটি নির্মাণ করে। ফেনী সদর, ছাগলনাইয়া, পরশুরাম, ফুলগাজী, সোনাগাজী ও চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের একাংশে বর্ষা মৌসুমে বন্যার প্রকোপ কমানো এবং আমন ফসলে সেচ সুবিধা দেওয়াই এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

বর্তমানে এর মাধ্যমে ২০ হাজার ১৯৪ হেক্টর এলাকায় সরাসরি এবং ২৭ হাজার ১২৫ হেক্টর এলাকায় সম্পূরক সেচ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

Categories

উজানের পানির চাপ, খুলে দেওয়া হলো মুহুরীর ৪০ গেট

Update Time : ১১:৩৮:৩১ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

পাহাড়ি ঢল আর গত কয়েকদিনের দিনের বর্ষণে ফেনীর মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অতিরিক্ত পানির চাপ সামলাতে এবং দ্রুত বঙ্গোপসাগরে নিষ্কাশনের লক্ষ্যে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ‘মুহুরী সেচ প্রকল্প’-এর ৪০টি জলকপাট বা রেগুলেটর গেট খুলে দিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

পাউবো জানিয়েছে, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর পানি নিষ্কাশনের প্রধান ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে। ভারতের ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা উজানের পানির চাপ নিয়ন্ত্রণে প্রকল্পটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পের সব ৪০টি রেগুলেটর গেট সার্বক্ষণিক খোলা রাখা হয়েছে। ফলে ফেনী নদীর পানির স্তর এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক রয়েছে।

চকরিয়া উপজেলায় বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক এবং মাতামুহুরী উপজেলার বাসিন্দা সাংবাদিক আলাউদ্দিন আলো বলেন, বিকাল ৩ টা থেকে বেতুয়া বাজার বিল, কোনাখালী খাল, কোনাখালী ২ ব্যান্ডের স্লুইসগেট, কোনাখালী বাংলা বাজারের পাশের ২টি মাছের প্রজেক্টের নাশি, ঢেমুশিয়া ক্রসডেম ৫ ব্যান্ডের স্লইজগেটসহ মাতামুহুরী উপজেলার অধিকাংশ জায়গার স্লুইসগেট খোলা আছে এটি যদি আজ রাতে খোলা থাকে এভাবে তাহলে অবশ্যই সম্পূর্ণ পানি নেমে যাবে।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপ অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় সবগুলো গেট একসঙ্গে খুলে দেওয়া হয়েছে। জোয়ারের সময় ছাড়া সারাদিনই পানি নামছে। সার্বিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, জোয়ারের সময় বঙ্গোপসাগর থেকে যাতে উল্টো স্রোতে পানি প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন গড়ে দুইবার প্রায় দুই ঘণ্টা করে গেটগুলো বন্ধ রাখা হয়। জোয়ারের সময় ছাড়া বাকি পুরো সময় গেট খোলা রেখে পানি নিষ্কাশন অব্যাহত রাখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৭-৭৮ অর্থবছরে শুরু হয়ে ১৯৮৫-৮৬ অর্থবছরে সোনাগাজী উপজেলায় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ সেচ প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ হয়। ফেনী নদী, মুহুরী নদী ও কালিদাস পাহালিয়া নদীর সম্মিলিত প্রবাহে বাঁধ দিয়ে ৪০ ফোক্ট (গেট) বিশিষ্ট পানি নিয়ন্ত্রণ কাঠামোটি তৈরি করা হয়।

সিডা, ইইসি ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে জাপানের সিমুজু কোম্পানি প্রায় ১৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এটি নির্মাণ করে। ফেনী সদর, ছাগলনাইয়া, পরশুরাম, ফুলগাজী, সোনাগাজী ও চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের একাংশে বর্ষা মৌসুমে বন্যার প্রকোপ কমানো এবং আমন ফসলে সেচ সুবিধা দেওয়াই এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

বর্তমানে এর মাধ্যমে ২০ হাজার ১৯৪ হেক্টর এলাকায় সরাসরি এবং ২৭ হাজার ১২৫ হেক্টর এলাকায় সম্পূরক সেচ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।