
নিউইয়র্কে রোববার শুধু একটি বিশ্বকাপ ফাইনাল হবে না। মাঠের এক পাশে দাঁড়াবেন বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি, অন্য পাশে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। এটি শুধু দুই ফুটবল পরাশক্তির লড়াই নয়, বরং এক শিক্ষক ও তার সাবেক ছাত্রের পুনর্মিলন-যেখানে ট্রফির চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে সম্মান, সম্পর্ক এবং ফুটবলের সৌন্দর্য!
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেন ২-০ গোলে ফ্রান্সকে হারিয়ে প্রথমে ফাইনাল নিশ্চিত করে। একদিন পর ইংল্যান্ডকে নাটকীয়ভাবে ২-১ গোলে হারিয়ে সেই ফাইনালে পৌঁছে যায় আর্জেন্টিনা। ফুটবল বিশ্ব পেল এক স্বপ্নের ফাইনাল-ইউরোপের বর্তমান সেরা বনাম বিশ্বের বর্তমান সেরা!
তবে এই ম্যাচের সবচেয়ে বিশেষ গল্পটি দুই কোচকে ঘিরে।
২০১৭ সালে খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করার পর কোচিং শেখার জন্য স্পেনের ফুটবল ফেডারেশনের লাস রোসাস একাডেমিতে ভর্তি হয়েছিলেন লিওনেল স্কালোনি। সেখানে তার অন্যতম শিক্ষক ছিলেন লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তখন হয়তো কেউ কল্পনাও করেননি, কয়েক বছরের মধ্যেই শিক্ষক ও ছাত্র বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে একে অপরের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়াবেন।
স্কালোনি সেই সময়ের কথা এখনও গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকার সময় তিনি বলেছিলেন, ‘লুইস আমাদের কোচিং কোর্সে অসাধারণ সহায়তা করেছিলেন। তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি এবং তাঁর জন্য সবসময় শুভকামনা থাকবে।’
এই শ্রদ্ধা অবশ্য একতরফা নয়। দে লা ফুয়েন্তেও বহুবার স্কালোনির প্রশংসা করেছেন। একসময়ের ছাত্র আজ বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকা জয়ী কোচ। তাই ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার পর দে লা ফুয়েন্তে বলেছিলেন, তিনি খুশি হবেন-কারণ এটি কেবল একটি ম্যাচ নয়, একজন পরিচিত মানুষকে বড় মঞ্চে দেখার আনন্দও!
স্কালোনির সঙ্গে স্পেনের সম্পর্ক কেবল কোচিং লাইসেন্সে সীমাবদ্ধ নয়। তার স্ত্রী এলিসা মনতেরো স্প্যানিশ। তাদের সন্তানদের জন্মও স্পেনে। পরিবার নিয়ে তিনি মায়োর্কায় বসবাস করেন। খেলোয়াড়ি জীবনেও তিনি ডিপোর্তিভো লা করুনা, রেসিং সান্তান্দের ও মায়োর্কার হয়ে স্প্যানিশ ফুটবলে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন।
ফাইনালে স্কালোনি এমন একটি দেশের বিপক্ষে দাঁড়াবেন, যে দেশ তার দ্বিতীয় বাড়ি।
সেমিফাইনালের আগে স্কালোনি দে লা ফুয়েন্তেকে নিয়ে মজার একটি মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘ওর জন্য আমি খুব খুশি। সে অসাধারণ মানুষ। যদি আমরা ফাইনালে না উঠি, তাহলে তাকে ফোন করব। কিন্তু যদি ফাইনালে ওদের সঙ্গেই খেলতে হয়, তাহলে ফাইনালের আগে কোনো ফোন নয়!’
মাঠে অবশ্য আবেগের চেয়ে বড় হবে কৌশলের লড়াই। দে লা ফুয়েন্তের স্পেন বল দখল, দ্রুত পাসিং এবং আক্রমণাত্মক ফুটবলের জন্য পরিচিত। অন্যদিকে স্কালোনির আর্জেন্টিনা কঠিন মুহূর্তে ধৈর্য ধরে ম্যাচে ফিরে আসতে জানে। এই বিশ্বকাপেই মিশর, সুইজারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চাপ সামলে শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা।
একদিকে লামিন ইয়ামালের তরুণ স্পেন, অন্যদিকে ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপ অভিযানের সম্ভাব্য শেষ অধ্যায়। দুই প্রজন্ম, দুই দর্শন এবং দুই কোচের গল্প মিলিয়ে এই ফাইনাল ইতোমধ্যেই ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে।
Md Biplob Ahommed 


















