
চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরাঞ্চলে রাতে একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্র ট্রান্সফর্মার, সেচ পাম্প চুরির হিড়িক পড়েছে। এতে কৃষকরা পড়েছে শঙ্কায়,তবে পুলিশের দাবি একটা দুষ্টচক্র এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। শিগগিরই তাদের ধরা হবে।
সদর উপজেলার শাজাহানপুর ইউনিয়নের নন্দনপুর পশ্চিম মাঠে গত তিন মাসে অন্তত অর্ধশতাধিক পাম্প ও ট্রান্সফর্মার চুরির ঘটনা ঘটেছে।
গত ৩০ মার্চ এক রাতেই ১০টি মটার চুরি হয়েছে। এতে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে সেচ কার্যক্রম। দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। সেচ বন্ধ থাকায় শুকিয়ে যাচ্ছে জমি, ব্যাহত হচ্ছে বোরো ধানের উৎপাদন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার চুরির ঘটনা ঘটলেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই।
এমনকি পল্লিবিদ্যুৎ ও থানায় অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার মিলছে না। তাদের দাবি, পাম্প চুরি বন্ধ না হলে কয়েক শত বিঘা জমির ধান শুকিয়ে যাবে।
সদর উপজেলার শাজাহানপুর ইউনিয়নের কৃষক মো. লতিফুর হামমান বলেন, গত এক বছরে তার ৫টি মটার, একটি ট্রান্সফর্মার চুরি হয়েছে। এদিকে দেখা দিয়েছে জ্বালানি সংকট। পাচ্ছি না তেল। ডিজেল সংকটও রয়েছে।
হাকিম এলাকার কৃষক জাহাঙ্গীর আলম জানান, গত চার দিনে প্রথমে তার একটি মটার চুরি হয়েছে। এছাড়া খলিলের একটি মটার, নাসিরের একটি, মফিজ আলীর তিনটি, মতিউর রহমানের একটি, মতিনের একটি, রশিদের একটি মটার চুরি হয়েছে।
কৃষকরা জানান, একদিকে ডিজেল সংকট, অন্যদিকে কৃষিপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে ফসল উৎপাদনে অতিরিক্ত অর্থ খরচ হচ্ছে তাদের। এসবের মধ্যে পানির মটার ও ট্রান্সফর্মার চুরি হওয়ায় আতঙ্ক বাড়ছে প্রতিনিয়ত।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুনাইন বিন জামান বলেন, চরাঞ্চলে ফসলে অতিরিক্ত সেচ দিতে হয়। সময়মতো সেচ না পেলে ফসল ফলানো যাবে না। তিনি চুরির বিষয়টি জেনে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে আগামীতে সোলার প্যানেল বা পাতকুয়া যুক্ত করার কথাও জানান।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লিবিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার হাওলাদার মো. ফজলুর রহমান বলেন, চুরি প্রতিরোধে কৃষক এবং স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে নিয়মিত সভা ও প্রচারণা চালানো হচ্ছে। নিজ দফতরের কেউ জড়িত থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ একরামুল হোসাইন জানান, একটা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত চলছে শিগগিরই চোর চক্রের হোতাদের ধরা হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















