শিরোনামঃ
সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে পাথর আমদানি অনিশ্চিত ফ্রুট ব্যাগের সংকটে ধুঁকছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম চাষিরা ফারাক্কার প্রভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নদী, ৪৯ বছরেও মেলেনি সমাধান সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় অবশেষে গ্রেপ্তার রাব্বি-সোহেল ডিবি সেজে চাঁদাবাজির অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পলিটেকনিক শিক্ষার্থী আটক রাজৈরের ইশিবপুর ইউনিয়ন সাবেক ৩নং ওয়ার্ডের প্রবাসী ও যুব সমাজের উদ্যগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পিং নাচোলে বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ও ৬ দফা দাবি উত্থাপন রাজশাহীর ৫ ফেরিঘাট মাদক পাচারের নিরাপদ রুট গোমস্তাপুরের আড্ডা রাইহোগ্রাম থেকে চোলাইমদ ও ওয়াশ উদ্ধার, আটক ১ সকাল ৯টার মধ্যে ২ অঞ্চলে ঝড়ের পূর্বাভাস
News Title :
সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে পাথর আমদানি অনিশ্চিত ফ্রুট ব্যাগের সংকটে ধুঁকছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম চাষিরা ফারাক্কার প্রভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নদী, ৪৯ বছরেও মেলেনি সমাধান সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় অবশেষে গ্রেপ্তার রাব্বি-সোহেল ডিবি সেজে চাঁদাবাজির অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পলিটেকনিক শিক্ষার্থী আটক রাজৈরের ইশিবপুর ইউনিয়ন সাবেক ৩নং ওয়ার্ডের প্রবাসী ও যুব সমাজের উদ্যগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পিং নাচোলে বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ও ৬ দফা দাবি উত্থাপন রাজশাহীর ৫ ফেরিঘাট মাদক পাচারের নিরাপদ রুট গোমস্তাপুরের আড্ডা রাইহোগ্রাম থেকে চোলাইমদ ও ওয়াশ উদ্ধার, আটক ১ সকাল ৯টার মধ্যে ২ অঞ্চলে ঝড়ের পূর্বাভাস

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ‘নবাব’, প্রতিদিন খায় ১৫ কেজি খাবার

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৪৮:৫৩ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • ৪০ Time View

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নে মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে বিশালাকৃতির এক গরু, যার নাম রাখা হয়েছে ‘নবাব’। সম্পূর্ণ দেশীয় ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে লালন-পালন করা হলিস্ট্রিয়ান ফ্রিজিয়ান জাতের এই গরুটি বর্তমানে জেলার অন্যতম বড় গরু বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নে মহানন্দা নদীর কোলঘেঁষে গড়ে ওঠা একটি খামারে দীর্ঘ তিন বছর ধরে গরুটিকে পরম মমতায় লালন-পালন করছেন খামারি আক্তার হোসেন। তার নিজস্ব গাভীর বাছুর হিসেবে জন্ম নেওয়া এই গরুটিকে ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে বড় করা হয়েছে। মহানন্দার চরে নিজস্ব জমিতে উৎপাদিত টাটকা কাঁচা ঘাসই গরুটির প্রধান খাদ্য। এর বাইরে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ কেজি দানাদার খাবার হিসেবে গম, ভুট্টা, ছোলা ও গমের ভুষি সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে গরুটির পেছনে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা খরচ হচ্ছে, যা মেটাতে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে খামারিকে।

সরজমিনে খামারে গিয়ে দেখা যায়, শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারি। এতে জড়িত রয়েছেন খামারির পরিবার। এ যেন নিজেদের পরিবারেরই সদস্যে পরিণত হয়েছে গরুটি।

স্থানীয় বাসিন্দা আলী হোসেন বলেন, নবাব নামের এই গরুটি তাদের নিজস্ব গাভীর পেটের বাছুর ছিল। ছোট থেকেই তারা লালন পালন করছে প্রায় তিন বছর হয়ে গেল বয়স। ছোট থেকেই খুব যত্ন করে তাকে লালন পালন করছে। গরুটারকে ঘাস খাওয়ায়, খৈল, গম ও ভুট্টা এগুলোই খাওয়ায়। প্রতিদিন প্রায় ১৫ কেজি খাবার দিতে হয়। আনুমানিক প্রায় ৫০০ টাকা খরচ করে গরুটির পেছনে।

আরেক বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমি গরুটাকে তিনবছর যাবৎ দেখছি এই খামারে। গরুটাকে প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ানো হয়। গরুটি খুব শান্ত স্বভাবের। একটা ছোট বাচ্চাও গরুটিকে টেনে নিয়ে যেতে পারবে। নবাবের আনুমানিক ওজন প্রায় ২৫ মণ হবে।

খামারি আক্তার হোসেন বলেন, গরুটা আমার খামারের। গরুটা ছোট থেকেই লালন-পালন করছি। এর বয়স তিন বছর। আমি প্রতিদিন গরুটাকে যত্ন করে খাওয়াই। এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জে এর থেকে বড় গরু নাই। এর খাবার খরচ প্রতিদিন আনুমানিক পাঁচশ থেকে সাতশ টাকা লাগে। এই গরুর পেছনে প্রতিদিন আমার যে টাকা খরচ হয় সেই টাকা দিয়ে একটা সংসার চলবে। নবাবের আনুমানিক দাম চাচ্ছি ৮ লাখ টাকা। কোরবানি উপলক্ষে গরুটা বিক্রি করব।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শারমিন আক্তার বলেন, জেলায় যে পরিমাণ গবাদি পশুর চাহিদা রয়েছে তার চেয়ে ৩০ ভাগ গরু উদ্বৃদ্ধ রয়েছে। আমাদের এখানে বেশ বড় জাতের ফ্রিজিয়ান গরু রয়েছে। তার মধ্যে একটি গরু রয়েছে যেটি ২৫ মণ ওজনের। আমরা খামারিকে উদ্বুদ্ধ করছি এবং অন্যান্য যারা রয়েছে তারাও এটা দ্বারা উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। প্রাণিসম্পদ এমন একটা সেক্টর যেখানে খুব অল্প টাকাতে অনেক কিছু করা যায়। এছাড়া আমাদের এখানে যে গরুটি হয়েছে সেটি জাত উন্নয়নের মাধ্যমে পালিত হয়েছে। প্রজনন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমাদের এখানেই এটা তৈরি হয়েছে। খামারি গরুটিকে প্রায় ৩ বছর লালন পালন করেছেন। এটার গ্রোথ বেশ ভালো। আশা করি খামারি এটা বিক্রি করে ভালো দাম পাবেন এবং যিনি কিনবেন তিনিও খুশি হবেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

Categories

সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে পাথর আমদানি অনিশ্চিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ‘নবাব’, প্রতিদিন খায় ১৫ কেজি খাবার

Update Time : ১১:৪৮:৫৩ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নে মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে বিশালাকৃতির এক গরু, যার নাম রাখা হয়েছে ‘নবাব’। সম্পূর্ণ দেশীয় ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে লালন-পালন করা হলিস্ট্রিয়ান ফ্রিজিয়ান জাতের এই গরুটি বর্তমানে জেলার অন্যতম বড় গরু বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নে মহানন্দা নদীর কোলঘেঁষে গড়ে ওঠা একটি খামারে দীর্ঘ তিন বছর ধরে গরুটিকে পরম মমতায় লালন-পালন করছেন খামারি আক্তার হোসেন। তার নিজস্ব গাভীর বাছুর হিসেবে জন্ম নেওয়া এই গরুটিকে ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে বড় করা হয়েছে। মহানন্দার চরে নিজস্ব জমিতে উৎপাদিত টাটকা কাঁচা ঘাসই গরুটির প্রধান খাদ্য। এর বাইরে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ কেজি দানাদার খাবার হিসেবে গম, ভুট্টা, ছোলা ও গমের ভুষি সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে গরুটির পেছনে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা খরচ হচ্ছে, যা মেটাতে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে খামারিকে।

সরজমিনে খামারে গিয়ে দেখা যায়, শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারি। এতে জড়িত রয়েছেন খামারির পরিবার। এ যেন নিজেদের পরিবারেরই সদস্যে পরিণত হয়েছে গরুটি।

স্থানীয় বাসিন্দা আলী হোসেন বলেন, নবাব নামের এই গরুটি তাদের নিজস্ব গাভীর পেটের বাছুর ছিল। ছোট থেকেই তারা লালন পালন করছে প্রায় তিন বছর হয়ে গেল বয়স। ছোট থেকেই খুব যত্ন করে তাকে লালন পালন করছে। গরুটারকে ঘাস খাওয়ায়, খৈল, গম ও ভুট্টা এগুলোই খাওয়ায়। প্রতিদিন প্রায় ১৫ কেজি খাবার দিতে হয়। আনুমানিক প্রায় ৫০০ টাকা খরচ করে গরুটির পেছনে।

আরেক বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমি গরুটাকে তিনবছর যাবৎ দেখছি এই খামারে। গরুটাকে প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ানো হয়। গরুটি খুব শান্ত স্বভাবের। একটা ছোট বাচ্চাও গরুটিকে টেনে নিয়ে যেতে পারবে। নবাবের আনুমানিক ওজন প্রায় ২৫ মণ হবে।

খামারি আক্তার হোসেন বলেন, গরুটা আমার খামারের। গরুটা ছোট থেকেই লালন-পালন করছি। এর বয়স তিন বছর। আমি প্রতিদিন গরুটাকে যত্ন করে খাওয়াই। এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জে এর থেকে বড় গরু নাই। এর খাবার খরচ প্রতিদিন আনুমানিক পাঁচশ থেকে সাতশ টাকা লাগে। এই গরুর পেছনে প্রতিদিন আমার যে টাকা খরচ হয় সেই টাকা দিয়ে একটা সংসার চলবে। নবাবের আনুমানিক দাম চাচ্ছি ৮ লাখ টাকা। কোরবানি উপলক্ষে গরুটা বিক্রি করব।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শারমিন আক্তার বলেন, জেলায় যে পরিমাণ গবাদি পশুর চাহিদা রয়েছে তার চেয়ে ৩০ ভাগ গরু উদ্বৃদ্ধ রয়েছে। আমাদের এখানে বেশ বড় জাতের ফ্রিজিয়ান গরু রয়েছে। তার মধ্যে একটি গরু রয়েছে যেটি ২৫ মণ ওজনের। আমরা খামারিকে উদ্বুদ্ধ করছি এবং অন্যান্য যারা রয়েছে তারাও এটা দ্বারা উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। প্রাণিসম্পদ এমন একটা সেক্টর যেখানে খুব অল্প টাকাতে অনেক কিছু করা যায়। এছাড়া আমাদের এখানে যে গরুটি হয়েছে সেটি জাত উন্নয়নের মাধ্যমে পালিত হয়েছে। প্রজনন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমাদের এখানেই এটা তৈরি হয়েছে। খামারি গরুটিকে প্রায় ৩ বছর লালন পালন করেছেন। এটার গ্রোথ বেশ ভালো। আশা করি খামারি এটা বিক্রি করে ভালো দাম পাবেন এবং যিনি কিনবেন তিনিও খুশি হবেন।