পাহাড়ের উন্নয়নে বাজেটে বড় বরাদ্দ, অবকাঠামো-শিক্ষা-স্বাস্থ্যখাতে নতুন গতি

  • Md Biplob Ahommed
  • Update Time : ১০:০৩:২৫ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • ২১ Time View

পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানকে কেন্দ্র করে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য ১ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৯৫ কোটি টাকা বেশি। গত অর্থবছরের এই বেশি বরাদ্দ এই অঞ্চলের সড়ক, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পর্যটন ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বাড়তি বরাদ্দ পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে সরকারের বিশেষ গুরুত্বের প্রতিফলন।

বাজেট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট বরাদ্দের মধ্যে প্রায় ৯৬৫ কোটি টাকা উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই অর্থ দিয়ে সড়ক ও যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন, জনসেবামূলক স্থাপনা নির্মাণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়ন এবং স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

অন্যদিকে প্রশাসনিক ও পরিচালন ব্যয়ের জন্য প্রায় ৪৯২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আবর্তক ও মূলধন ব্যয়ের জন্য পৃথক বরাদ্দও নির্ধারণ করা হয়েছে, যা চলমান প্রকল্পগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নতুন সড়ক নির্মাণ এবং বিদ্যমান যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। একই সঙ্গে নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং পর্যটন অবকাঠামোর উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষা খাতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য দক্ষতাভিত্তিক ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে নতুন প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এ ছাড়া পার্বত্য অঞ্চলের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পার্বত্য চট্টগ্রামের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বিকাশ আরও ত্বরান্বিত হবে।

কৃষি, বনজ সম্পদ উন্নয়ন এবং বৃক্ষরোপণভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্পেও বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আয়বর্ধক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, বাড়তি এই বরাদ্দ পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে এবং অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

Categories

পাহাড়ের উন্নয়নে বাজেটে বড় বরাদ্দ, অবকাঠামো-শিক্ষা-স্বাস্থ্যখাতে নতুন গতি

Update Time : ১০:০৩:২৫ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানকে কেন্দ্র করে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য ১ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৯৫ কোটি টাকা বেশি। গত অর্থবছরের এই বেশি বরাদ্দ এই অঞ্চলের সড়ক, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পর্যটন ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বাড়তি বরাদ্দ পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে সরকারের বিশেষ গুরুত্বের প্রতিফলন।

বাজেট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট বরাদ্দের মধ্যে প্রায় ৯৬৫ কোটি টাকা উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই অর্থ দিয়ে সড়ক ও যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন, জনসেবামূলক স্থাপনা নির্মাণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়ন এবং স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

অন্যদিকে প্রশাসনিক ও পরিচালন ব্যয়ের জন্য প্রায় ৪৯২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আবর্তক ও মূলধন ব্যয়ের জন্য পৃথক বরাদ্দও নির্ধারণ করা হয়েছে, যা চলমান প্রকল্পগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নতুন সড়ক নির্মাণ এবং বিদ্যমান যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। একই সঙ্গে নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং পর্যটন অবকাঠামোর উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষা খাতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য দক্ষতাভিত্তিক ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে নতুন প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এ ছাড়া পার্বত্য অঞ্চলের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পার্বত্য চট্টগ্রামের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বিকাশ আরও ত্বরান্বিত হবে।

কৃষি, বনজ সম্পদ উন্নয়ন এবং বৃক্ষরোপণভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্পেও বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আয়বর্ধক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, বাড়তি এই বরাদ্দ পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে এবং অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।