
উল্লেখিত সংবাদ সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের জ্ঞাতার্থে জানানো যাচ্ছে যে, রাজশাহী সরকারি নার্সিং কলেজের স্থির চিত্র দিয়ে ও সাবেক প্রশাসক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও গবেষণা কর্মকর্তাকে জড়িয়ে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তা সম্পূর্ণভাবে উদ্দেশ্য প্রনোদিত এবং দূরভিসন্ধীমূলক বলে এতসম্পর্কে নিম্নরুপ বিবৃতি জনমনে বিভ্রান্তি এবং সংশয় দুর করতে পেশ করা হলো:
শিক্ষানগরী হিসেবে পরিচিত রাজশাহী মহনগরীতে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত তেমন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় তৎকালীন মেয়র দক্ষ জনবল সৃষ্টির মাধ্যমে কর্মসংস্থান এর সুযোগ সম্প্রসারণে একাধিক প্রতিষ্ঠান চালু করার উদ্যেগ গ্রহণ করেন। তারই অংশ হিসেবে নগর ভবনের এনেক্স ভবনে স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট, ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাব এবং ডেভেলপার কর্তৃক নির্মিত স্বপ্নচুড়া ভবনে শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান নার্সিং কলেজ ২০২২ সালে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও উপকরণাদি নিশ্চিত করে উপযুক্ত জনবল নিয়োগের জন্য প্রচেষ্টা গ্রহণ করেন। পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে ‘বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই খেয়ালখুশি মত ৭১ জন নিয়োগ’ শিরোনাম এর সাথে সাবেক প্রশাসক জনাব আজিম আহমেদ, সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এবিএম শরীফ উদ্দিন বা সাবেক গবেষণা কর্মকর্তা জনাব মাহবুবুর রহমান কোনভাবেই সংশ্লিষ্ট নন বরং তৎকালীন গভর্নিং বডি, যার সভাপতি মেয়র, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নবীন প্রতিষ্ঠান চালু করার জন্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি চালু করেন।
কলেজের তৎকালিন পরিচালক রাজশাহী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ, জনাব হাবিবুর রহমান তৎকালীন মেয়রকে নার্সিং কলেজ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করেন। নগর ভবনের এনেক্স ভবনে স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট, ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাব চালু হয়। পাশাপাশি নার্সিং কলেজের জনবল নিয়োগের জন্য ২০২৩ সালে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেন। ইতোমধ্যে কলেজটি মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদনের জন্য গঠিত পরিদর্শন টিম পরিদর্শন করার পর জুন ২০২৪ সালে অনুমোদনপ্রাপ্ত হলে সেই আলোকেই তৎকালীন মেয়র এবং কলেজের গভর্নিং বডি প্রয়োজনীয় যোগ্যতার আলোকে নিয়োগ প্রক্রিয়া চুড়ান্ত করেন। কারো ছেলে বা স্ত্রী বা স্বজন বিবেচনায় কেউ নিয়োগপ্রাপ্ত হননি। ১ জুলাই ২০২৪ হতে নিয়োগপ্রাপ্তগণ যোগদান করেন। সাবেক কমিশনার ও প্রশাসক রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন খন্দকার আজিম আহমেদ’র নামে জনবল নিয়োগের বা অধ্যক্ষ নিয়োগের যে সংবাদ পরিবেশিত হয়েছে তা সম্পূর্নরুপে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। নিয়োগপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নির্ধারিত বয়স অতিক্রান্তে বিদায় নিলে তদস্থলে একজন নার্সিং শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন যা কলেজের গভর্নিং বডির সভায় অনুমোদিত।
যথাসময়ে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দেশের রাজনৈতিক উত্তপ্ত পরিস্থিতির জেরে ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার গণ অভ্যুত্থান জনিত বিশেষ পরিস্থিতিতে তৎকালীন মেয়র এবং কলেজ পরিচালক সিটি কর্পোরেশন বা নার্সিং কলেজ হতে অদৃশ্যমান হন। নগর ভবনে ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ এর কারনে উল্লেখিত প্রতিষ্ঠানসমূহের যাবতীয় কাগজপত্র যা মেয়র কর্তৃক সংরক্ষিত ছিলো তাও ভস্মিভূত হয়। ভস্মিভূত স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট ও ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাব পুনরায় চালু করা।সম্ভব হয়নি। নগর ভবনের বাইরে অবস্থিত স্বপ্নচুড়া ভবনে চালুকৃত শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান নার্সিং কলেজটিও দূর্বৃত্তদের আক্রোশের শিকার হয়। প্রতিষ্ঠানের নাম শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান নার্সিং কলেজ এর পরিবর্তে রাজশাহী সিটি নার্সিং কলেজ করার জন্য (মেয়রের অবর্তমানে) নিযুক্ত প্রশাসক কর্তৃক মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব প্রেরিত হলে প্রশাসনিকভাবে অনুমোদিত হয়। চালুকৃত এই প্রতিষ্ঠানের সম্পূর্ণ আর্থিক সচ্ছলতা না আসা পর্যন্ত কর্পোরেশন কর্তৃক বেতনভাতা ও আনুসংঙ্গিক ব্যায় নির্বাহের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেই আলোকেই প্রতিষ্ঠানটিতে দু’টি ব্যাচে শিক্ষার্থীগণ বর্তমানে অধ্যায়নরত। সাবেক প্রশাসক কর্তৃক কলেজটির সার্বিক বিষয় নিরীক্ষা করে প্রতিবেদন সাত (৭) কর্মদিবসের মধ্যে দাখিলের জন্য ১১ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে উক্ত কমিটি প্রতিবেদন দাখিলে কালক্ষেপণ করেন। যথাসময়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ করা হলেও পুনরায় লিখিতভাবে ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ কাগজপত্র দাখিলের জন্য কমিটির আহ্বায়ক (পরিচালক স্বাস্থ্য) স্বাক্ষরিত পত্র পেলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নার্সিং কলেজ ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ সরবরাহ করেন। কিন্তু কমিটির সদস্য সচিব (বাজেট কাম হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন, যিনি ৭ বছরের অধিক কাল এখানে কর্মরত) প্রাপ্ত কাগজপত্র পূর্ণাঙ্গরুপে পেশ না করায় নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বিলম্বের কারণ কাগজ সরবরাহে দেরী উল্লেখ করেন এবং কলেজের প্রকৃত চিত্র উপস্থাপন না করে প্রতিবেদন পেশ করেন। প্রতিবেদনটি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় উপস্থাপিত হয়। প্রকাশিত সংবাদ প্রসঙ্গে সাবেক অধ্যক্ষ রাজশাহী কলেজ ও সাবেক পরিচালক রাজশাহী সিটি নার্সিং কলেজ, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এবং ভেটেরিনারি সার্জন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এর বক্তব্য না নিয়েই তাদের যে উদ্ধৃতি উল্লেখ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণরুপে কল্পণাপ্রসূত এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সর্ম্পকে বিরূপ মনোভাব সৃষ্টির অপপ্রয়াস বলে প্রতিয়ান হয়। অবস্থাদৃষ্টে মনে হতে পারে নার্সিং কলেজটিতে শিক্ষিত দক্ষ জনবল সৃষ্টির উদ্যোগকে নস্যাৎ করে কোন কুচক্রী মহল তদস্থলের অবকাঠামো গ্রাস করে সেখানে ব্যবসায়ীক বা ভিন্নরূপ কর্মকান্ড গ্রহণের নীল নকশা হিসেবে এরুপ সংবাদ পরিবেশনে প্রচার মাধ্যমকে অনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর হীন প্রয়াসে লিপ্ত হয়েছে। এ বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট পত্রিকাসহ সকলের শুভবুদ্ধি ও সহযেগিতা প্রত্যাশা করেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















