সরকারি চাকুরি করেও প্রাইভেট হাসপাতালের মালিক, তদন্তে প্রমাণ মেলায় ডা. ইসমাইলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

সরকারি হাসপাতালে চাকুরি করেও প্রাইভেট হাসপাতালের মালিকানা থাকার অভিযোগের প্রমাণ মেলায় বিভাগীয় মামলা হয়েছে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক্স) ডা. মো. ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি সরেজমিনে পরিদর্শন ও তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে এই বিভাগীয় মামলা করেছে।

জানা যায়, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে চাকুরি করলেও ডা. ইসমাইল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে সরকারি হাসপাতালের উল্টো দিকে রাস্তার ওপারেই গড়ে উঠা ম্যাক্স হাসপাতালে মালিকানা রয়েছে। এনিয়ে সম্প্রতি কয়েকজন ব্যক্তি জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হারুনুর রশীদকে লিখিত অভিযোগ দিলে তা তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানান। এর প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি তাদের তদন্ত এর সত্যতা পেলে ডা. ইসমাইলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করে।

গত ৫ জুলাই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী সাক্ষর করেছেন। প্রজ্ঞাপনে তাকে পত্রপ্রাপ্তির ১০ কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা মোতাবেক তাদের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত অথবা উপযুক্ত দণ্ড প্রদান করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

এদিকে, ম্যাক্স হাসপাতাল ছাড়াও জেলা হাসপাতালের বিপরীতে থাকা আরেকটি প্রাইভেট ক্লিনিকে তার শেয়ার রয়েছে, এমন অভিযোগ রয়েছে। এমনকি গর্ভমেন্ট অর্ডার (জিও) ও নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) ছাড়াই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে বিদেশ ভ্রমণের অভিযোগ রয়েছে। এনওসি ও জিও ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা বিদেশ গেলে, তাকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী শাস্তির মুখোমুখি হতে পারে, যার মধ্যে চাকরিচ্যুতিও অন্তর্ভুক্ত। অনুমতি ছাড়া বিদেশ যাওয়াকে সরকারকে ধোঁকা দেওয়া এবং তথ্য গোপন করে পাসপোর্ট গ্রহণের অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়, যা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

জানা যায়, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক্স) ডা. মো. ইসমাইল হোসেন গতবছরের ০৩ সেপ্টেম্বর থেকে ০৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৭ দিন অবস্থান করেছিলেন ইউরোপের দেশ স্পেনে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ০৩ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে স্পেনগামী এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে স্পেন যান ডা. ইসমাইল হোসেন। ০৯ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসের একটি বিমানে স্পেন থেকে দুপুর ১২টায় ঢাকায় এসে পৌঁছান তিনি।

গর্ভমেন্ট অর্ডার (জিও) ও নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) ছাড়াই তিনি এই ভ্রমণ করেন। এছাড়াও ইমিগ্রেশন পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়, ডা. ইসমাইল হোসেন ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে চীন, একই বছরের ফেব্রুয়ারীতে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ২০২৩ সালে মিশর, ২০১৭ সাল থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ছয় দফায় বিদেশ ভ্রমণ করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

Categories

সরকারি চাকুরি করেও প্রাইভেট হাসপাতালের মালিক, তদন্তে প্রমাণ মেলায় ডা. ইসমাইলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

Update Time : ০২:৩০:২৫ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

সরকারি হাসপাতালে চাকুরি করেও প্রাইভেট হাসপাতালের মালিকানা থাকার অভিযোগের প্রমাণ মেলায় বিভাগীয় মামলা হয়েছে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক্স) ডা. মো. ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি সরেজমিনে পরিদর্শন ও তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে এই বিভাগীয় মামলা করেছে।

জানা যায়, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে চাকুরি করলেও ডা. ইসমাইল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে সরকারি হাসপাতালের উল্টো দিকে রাস্তার ওপারেই গড়ে উঠা ম্যাক্স হাসপাতালে মালিকানা রয়েছে। এনিয়ে সম্প্রতি কয়েকজন ব্যক্তি জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হারুনুর রশীদকে লিখিত অভিযোগ দিলে তা তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানান। এর প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি তাদের তদন্ত এর সত্যতা পেলে ডা. ইসমাইলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করে।

গত ৫ জুলাই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী সাক্ষর করেছেন। প্রজ্ঞাপনে তাকে পত্রপ্রাপ্তির ১০ কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা মোতাবেক তাদের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত অথবা উপযুক্ত দণ্ড প্রদান করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

এদিকে, ম্যাক্স হাসপাতাল ছাড়াও জেলা হাসপাতালের বিপরীতে থাকা আরেকটি প্রাইভেট ক্লিনিকে তার শেয়ার রয়েছে, এমন অভিযোগ রয়েছে। এমনকি গর্ভমেন্ট অর্ডার (জিও) ও নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) ছাড়াই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে বিদেশ ভ্রমণের অভিযোগ রয়েছে। এনওসি ও জিও ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা বিদেশ গেলে, তাকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী শাস্তির মুখোমুখি হতে পারে, যার মধ্যে চাকরিচ্যুতিও অন্তর্ভুক্ত। অনুমতি ছাড়া বিদেশ যাওয়াকে সরকারকে ধোঁকা দেওয়া এবং তথ্য গোপন করে পাসপোর্ট গ্রহণের অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়, যা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

জানা যায়, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক্স) ডা. মো. ইসমাইল হোসেন গতবছরের ০৩ সেপ্টেম্বর থেকে ০৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৭ দিন অবস্থান করেছিলেন ইউরোপের দেশ স্পেনে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ০৩ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে স্পেনগামী এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে স্পেন যান ডা. ইসমাইল হোসেন। ০৯ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসের একটি বিমানে স্পেন থেকে দুপুর ১২টায় ঢাকায় এসে পৌঁছান তিনি।

গর্ভমেন্ট অর্ডার (জিও) ও নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) ছাড়াই তিনি এই ভ্রমণ করেন। এছাড়াও ইমিগ্রেশন পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়, ডা. ইসমাইল হোসেন ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে চীন, একই বছরের ফেব্রুয়ারীতে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ২০২৩ সালে মিশর, ২০১৭ সাল থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ছয় দফায় বিদেশ ভ্রমণ করেন।