কারখানার মালিকের গাফিলতির কারণেই অগ্নিকাণ্ড: ফায়ার সার্ভিস

ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার কদমতলী এলাকার গ্যাস লাইটার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে মালিকপক্ষের গাফিলতির বিষয়টি সামনে এসেছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।

 

ঢাকা বিভাগের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক মো. ছালেহ উদ্দিন বলেন, “কারখানাটিতে প্রয়োজনীয় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা মানদণ্ড যথাযথভাবে মানা হয়নি। দাহ্য পদার্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ছিল চরম অবহেলা, যা এই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।”

 

তিনি আরও জানান, কারখানার ভেতরে গ্যাস লাইটার তৈরির জন্য ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থ সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি এবং নিরাপত্তা প্রশিক্ষণেরও ঘাটতি ছিল শ্রমিকদের মধ্যে। ফলে অল্পতেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ রূপ নেয়।

 

ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা বলেন, “এর আগেও একই কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু মালিকপক্ষ কোনো স্থায়ী প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

 

এ ঘটনায় তদন্ত চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

 

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণভাবে পরিচালিত এই কারখানার বিরুদ্ধে আগেই ব্যবস্থা নেওয়া হলে প্রাণহানির মতো মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো যেত।

 

এদিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত পাঁচ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহগুলো নারী না পুরুষ তা বোঝা যাচ্ছে না। পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তিনি আরও জানান, হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে এবং উদ্ধার কাজ এখনো চলমান রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

Categories

কারখানার মালিকের গাফিলতির কারণেই অগ্নিকাণ্ড: ফায়ার সার্ভিস

Update Time : ০৬:৫২:১০ অপরাহ্ণ, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার কদমতলী এলাকার গ্যাস লাইটার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে মালিকপক্ষের গাফিলতির বিষয়টি সামনে এসেছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।

 

ঢাকা বিভাগের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক মো. ছালেহ উদ্দিন বলেন, “কারখানাটিতে প্রয়োজনীয় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা মানদণ্ড যথাযথভাবে মানা হয়নি। দাহ্য পদার্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ছিল চরম অবহেলা, যা এই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।”

 

তিনি আরও জানান, কারখানার ভেতরে গ্যাস লাইটার তৈরির জন্য ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থ সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি এবং নিরাপত্তা প্রশিক্ষণেরও ঘাটতি ছিল শ্রমিকদের মধ্যে। ফলে অল্পতেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ রূপ নেয়।

 

ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা বলেন, “এর আগেও একই কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু মালিকপক্ষ কোনো স্থায়ী প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

 

এ ঘটনায় তদন্ত চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

 

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণভাবে পরিচালিত এই কারখানার বিরুদ্ধে আগেই ব্যবস্থা নেওয়া হলে প্রাণহানির মতো মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো যেত।

 

এদিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত পাঁচ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহগুলো নারী না পুরুষ তা বোঝা যাচ্ছে না। পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তিনি আরও জানান, হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে এবং উদ্ধার কাজ এখনো চলমান রয়েছে।