শিরোনামঃ
নাচোলে ভূমিসেবা মেলার শুভ উদ্বোধন অতিরিক্ত অধিকাল ভাতার দাবিতে বেনাপোল স্থল বন্দরে মানববন্ধন, এক মাসের আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত। চাঁপাইনবাবগঞ্জে অবৈধ ইটভাটা ও সীসা কারখানার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট, জরিমানা ২৬ লাখ টাকা বেনাপোল বন্দরে ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রেন থেকে মাদক উদ্ধার, চোরাই পণ্য পাচার হচ্ছে যাত্রীবাহী ট্রেনে চাঁপাইনবাবগঞ্জে গৃহশিক্ষিকার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার  বালিয়াডাঙ্গীতে ৩ দিনব্যাপী ভূমি সেবা সপ্তাহ ও মেলা অনুষ্ঠিত ১৭ দিন পর সোনামসজিদ বন্দরে ফের শুরু হচ্ছে পাথর আমদানি নাচোলে ১৪ বছরের কিশোর ইব্রাহিম নিখোঁজ, দিশেহারা পরিবার যশোর শার্শায় পাঁচ সন্তানের জন্ম দিলেন গৃহবধূ, সবার মৃত্যু নাচোলে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে বিভাগীয় কমিশনারের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
News Title :
নাচোলে ভূমিসেবা মেলার শুভ উদ্বোধন অতিরিক্ত অধিকাল ভাতার দাবিতে বেনাপোল স্থল বন্দরে মানববন্ধন, এক মাসের আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত। চাঁপাইনবাবগঞ্জে অবৈধ ইটভাটা ও সীসা কারখানার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট, জরিমানা ২৬ লাখ টাকা বেনাপোল বন্দরে ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রেন থেকে মাদক উদ্ধার, চোরাই পণ্য পাচার হচ্ছে যাত্রীবাহী ট্রেনে চাঁপাইনবাবগঞ্জে গৃহশিক্ষিকার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার  বালিয়াডাঙ্গীতে ৩ দিনব্যাপী ভূমি সেবা সপ্তাহ ও মেলা অনুষ্ঠিত ১৭ দিন পর সোনামসজিদ বন্দরে ফের শুরু হচ্ছে পাথর আমদানি নাচোলে ১৪ বছরের কিশোর ইব্রাহিম নিখোঁজ, দিশেহারা পরিবার যশোর শার্শায় পাঁচ সন্তানের জন্ম দিলেন গৃহবধূ, সবার মৃত্যু নাচোলে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে বিভাগীয় কমিশনারের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

ঘনঘন ভূমিকম্প নিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহর সতর্কবার্তা

জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেছেন, ঘন ঘন ভূমিকম্প শুধুমাত্র ভূতাত্ত্বিক নড়াচড়ার ফল নয়, বরং এটি আমাদের জন্য একটি গভীর সতর্কবার্তা।

তিনি উল্লেখ করেছেন, বড় কোনো বিপদ আসন্ন থাকতে পারে, যা আমরা এখনও জানি না। এই সময় তাওবার সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবিক প্রস্তুতি গ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শায়খ এই মন্তব্যটি সোমবার (২৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে পোস্ট দিয়েছেন।

শায়খ আহমাদুল্লাহ তার পোস্টে বলেন, আমরা বসবাস করি এমন এক ভৌগোলিক এলাকায়, যেখানে জনঘনত্ব ও অপরিকল্পিত নগরায়ণ এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এখানে প্রতিটি অট্টালিকা যেন একেকটি সম্ভাব্য সমাধিসৌধ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকায় যদি ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে, তাহলে এক লাখের বেশি ভবন ধসে যেতে পারে। চিন্তা করুন, এটি কত ভীতিজাগানিয়া পূর্বাভাস!

তিনি বলেন, দুঃখজনক হলো, এমন ভয়াবহ ঝুঁকির বিপরীতে রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতি একেবারেই অপ্রতুল। আধুনিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্ধারকর্মীর সংখ্যা নগণ্য, বড় ধরনের উদ্ধারযুদ্ধ চালানোর মতো ভারী যন্ত্রপাতিও অপর্যাপ্ত। অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর সীমিত সক্ষমতা দিয়ে হাজার হাজার ভগ্ন স্থাপনা সামলানো কেবলই কল্পনা। অথচ বিভিন্ন স্থাপনার নাম পরিবর্তন, ভাস্কর্য নির্মাণ বা অপ্রয়োজনীয় মেগাপ্রকল্পেই নয়, নেতা-নেত্রীদের জন্য তোরণ নির্মাণ, রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ, শোভাযাত্রা, নানা ধরনের আনুষ্ঠানিকতা ও ক্ষমতার প্রদর্শনীতেও বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। দুর্নীতি ও অর্থপাচারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদের যে অপচয় ঘটে, তা এই অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের কাঠামোকে আরো প্রসারিত করে তোলে।

সেই অর্থের সামান্য অংশও যদি দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুতি, ভূমিকম্প-প্রতিরোধী প্রযুক্তি, উদ্ধার সরঞ্জাম ও দক্ষ উদ্ধারকারী বাহিনীর প্রশিক্ষণে ব্যয় করা হতো—তাহলে সেটিই হতো সবচেয়ে যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ। এটি বিবেচিত হতো বর্তমানের সুরক্ষা এবং ভবিষ্যতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে।

কেবল রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতাকেই দায়ী করে ক্ষান্ত হওয়া যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে জনপ্রিয় এ আলোচক বলেন, ‘আমরা যারা বাড়ি নির্মাণ করি, সামান্য আর্থিক লাভ বা অদূরদর্শিতার বশবর্তী হয়ে নির্মাণ বিধিমালা উপেক্ষা করি। প্রকৌশলীদের পরামর্শকে তুচ্ছজ্ঞান করে আমরা নিজ হাতে তৈরি করি আমাদের প্রিয়জনদের জন্য মৃত্যুফাঁদ। এটি কি একপ্রকার সামাজিক আত্মহত্যা নয়? বিপর্যয়-পরবর্তী বিলাপের চেয়ে, বিপর্যয়রোধী প্রস্তুতিই তো বুদ্ধিমান ও দায়িত্বশীল মানুষের কাজ।

রাষ্ট্রের এখনই একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উদ্ধারকাজ, চিকিৎসা, জরুরি আশ্রয়, খাদ্য ও পানীয়ের ব্যবস্থা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, যোগাযোগব্যবস্থা—সব কিছু নিয়ে একটি সুস্পষ্ট জাতীয় রোডম্যাপ তৈরি করা জরুরি। খোলা জায়গা সংরক্ষণ, পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কার, নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ন্ত্রণ ছাড়াও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ এখনই গ্রহণ করা জরুরি। তবে প্রস্তুতি যেন কেবল ভৌত অবকাঠামোর ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ না থাকে।

তিনি আরও বলেন, জাগতিক প্রস্তুতির পাশাপাশি আমাদের আধ্যাত্মিক প্রস্তুতিও গ্রহণ করতে হবে। আল্লাহর রহমত ছাড়া কোনো পরিকল্পনা, প্রস্তুতি ও প্রযুক্তি নিরাপত্তা দিতে পারবে না। মনে রাখতে হবে, প্রতিটি দুর্যোগ আমাদের প্রতি সতর্কবার্তা। আমাদের সমাজের বিস্তৃত দুর্নীতি, জুলুম, অশ্লীলতা ও নৈতিক অবক্ষয় থেকে আমাদের গণতাওবা করা জরুরি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে নিরাপদ রাখুন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

Categories

নাচোলে ভূমিসেবা মেলার শুভ উদ্বোধন

ঘনঘন ভূমিকম্প নিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহর সতর্কবার্তা

Update Time : ০৩:০৯:০৩ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেছেন, ঘন ঘন ভূমিকম্প শুধুমাত্র ভূতাত্ত্বিক নড়াচড়ার ফল নয়, বরং এটি আমাদের জন্য একটি গভীর সতর্কবার্তা।

তিনি উল্লেখ করেছেন, বড় কোনো বিপদ আসন্ন থাকতে পারে, যা আমরা এখনও জানি না। এই সময় তাওবার সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবিক প্রস্তুতি গ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শায়খ এই মন্তব্যটি সোমবার (২৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে পোস্ট দিয়েছেন।

শায়খ আহমাদুল্লাহ তার পোস্টে বলেন, আমরা বসবাস করি এমন এক ভৌগোলিক এলাকায়, যেখানে জনঘনত্ব ও অপরিকল্পিত নগরায়ণ এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এখানে প্রতিটি অট্টালিকা যেন একেকটি সম্ভাব্য সমাধিসৌধ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকায় যদি ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে, তাহলে এক লাখের বেশি ভবন ধসে যেতে পারে। চিন্তা করুন, এটি কত ভীতিজাগানিয়া পূর্বাভাস!

তিনি বলেন, দুঃখজনক হলো, এমন ভয়াবহ ঝুঁকির বিপরীতে রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতি একেবারেই অপ্রতুল। আধুনিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্ধারকর্মীর সংখ্যা নগণ্য, বড় ধরনের উদ্ধারযুদ্ধ চালানোর মতো ভারী যন্ত্রপাতিও অপর্যাপ্ত। অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর সীমিত সক্ষমতা দিয়ে হাজার হাজার ভগ্ন স্থাপনা সামলানো কেবলই কল্পনা। অথচ বিভিন্ন স্থাপনার নাম পরিবর্তন, ভাস্কর্য নির্মাণ বা অপ্রয়োজনীয় মেগাপ্রকল্পেই নয়, নেতা-নেত্রীদের জন্য তোরণ নির্মাণ, রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ, শোভাযাত্রা, নানা ধরনের আনুষ্ঠানিকতা ও ক্ষমতার প্রদর্শনীতেও বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। দুর্নীতি ও অর্থপাচারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদের যে অপচয় ঘটে, তা এই অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের কাঠামোকে আরো প্রসারিত করে তোলে।

সেই অর্থের সামান্য অংশও যদি দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুতি, ভূমিকম্প-প্রতিরোধী প্রযুক্তি, উদ্ধার সরঞ্জাম ও দক্ষ উদ্ধারকারী বাহিনীর প্রশিক্ষণে ব্যয় করা হতো—তাহলে সেটিই হতো সবচেয়ে যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ। এটি বিবেচিত হতো বর্তমানের সুরক্ষা এবং ভবিষ্যতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে।

কেবল রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতাকেই দায়ী করে ক্ষান্ত হওয়া যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে জনপ্রিয় এ আলোচক বলেন, ‘আমরা যারা বাড়ি নির্মাণ করি, সামান্য আর্থিক লাভ বা অদূরদর্শিতার বশবর্তী হয়ে নির্মাণ বিধিমালা উপেক্ষা করি। প্রকৌশলীদের পরামর্শকে তুচ্ছজ্ঞান করে আমরা নিজ হাতে তৈরি করি আমাদের প্রিয়জনদের জন্য মৃত্যুফাঁদ। এটি কি একপ্রকার সামাজিক আত্মহত্যা নয়? বিপর্যয়-পরবর্তী বিলাপের চেয়ে, বিপর্যয়রোধী প্রস্তুতিই তো বুদ্ধিমান ও দায়িত্বশীল মানুষের কাজ।

রাষ্ট্রের এখনই একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উদ্ধারকাজ, চিকিৎসা, জরুরি আশ্রয়, খাদ্য ও পানীয়ের ব্যবস্থা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, যোগাযোগব্যবস্থা—সব কিছু নিয়ে একটি সুস্পষ্ট জাতীয় রোডম্যাপ তৈরি করা জরুরি। খোলা জায়গা সংরক্ষণ, পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কার, নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ন্ত্রণ ছাড়াও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ এখনই গ্রহণ করা জরুরি। তবে প্রস্তুতি যেন কেবল ভৌত অবকাঠামোর ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ না থাকে।

তিনি আরও বলেন, জাগতিক প্রস্তুতির পাশাপাশি আমাদের আধ্যাত্মিক প্রস্তুতিও গ্রহণ করতে হবে। আল্লাহর রহমত ছাড়া কোনো পরিকল্পনা, প্রস্তুতি ও প্রযুক্তি নিরাপত্তা দিতে পারবে না। মনে রাখতে হবে, প্রতিটি দুর্যোগ আমাদের প্রতি সতর্কবার্তা। আমাদের সমাজের বিস্তৃত দুর্নীতি, জুলুম, অশ্লীলতা ও নৈতিক অবক্ষয় থেকে আমাদের গণতাওবা করা জরুরি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে নিরাপদ রাখুন।