চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুই উপজেলায় জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছে অ্যাপের মাধ্যমে

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ ও গোমস্তাপুর উপজেলায় মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল সরবরাহে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং অনিয়ম ও কালোবাজারি রোধে অ্যাপসভিত্তিক নতুন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই উদ্যোগের আওতায় এখন থেকে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে।

নতুন এই ব্যবস্থা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মঙ্গলবার সকালে গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির মুন্সির সভাপতিত্বে সভায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে সালমা রুমি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি এবং সকল পেট্রোল পাম্প মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় অ্যাপের মাধ্যমে তেল বিক্রির প্রক্রিয়া, গ্রাহক নিবন্ধন ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। প্রশাসন ও পাম্প মালিকদের প্রত্যাশা, এই আধুনিক ও ডিজিটাল পদ্ধতির ফলে সাধারণ গ্রাহকরা যেমন সহজে সেবা পাবেন, তেমনি জ্বালানি খাতে সুশৃঙ্খল পরিবেশ ফিরে আসবে।

গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির মুন্সি সভায় জানান, এই উদ্যোগের মাধ্যমে তেল বিক্রিতে অনিয়ম ও কালোবাজারি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি সাধারণ গ্রাহকেরা নির্ধারিত নিয়মে সহজে ও স্বচ্ছভাবে তেল ক্রয় করতে পারবেন।

এদিকে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অ্যাপের মাধ্যমে তেল বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিবগঞ্জ উপজেলা কার্যালয়।

ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা যায়, নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে তেল সংগ্রহের সময় প্রত্যেক মোটরসাইকেল চালককে অবশ্যই বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির রেজিস্ট্রেশন সঙ্গে রাখতে হবে। পাম্পে তেল নেওয়ার সময় অ্যাপের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মোটরসাইকেলের নথিপত্র যাচাই করা হবে, তাই নথিপত্রবিহীন কোনো বাইকে তেল সরবরাহ করা হবে না। প্রতিটি মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বরের বিপরীতে গৃহীত তেলের পরিমাণ একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিবার সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে এবং একবার তেল নেওয়ার পর পরবর্তী ৫ দিনের মধ্যে জেলার অন্য কোনো পাম্প থেকে আর তেল নেওয়া যাবে না। যদি কোনো চালক এই সময়ের মধ্যে পুনরায় তেল সংগ্রহের চেষ্টা করেন, তবে অ্যাপের মাধ্যমে ওই বাইকটিকে ‘ব্লক’ করে দেওয়া হবে এবং তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পাম্পগুলোতে শৃঙ্খলা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা বজায় রাখতে আগামীকাল থেকে পর্যায়ক্রমে তেল বিতরণ করা হবে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, সকাল ৮টায় মেসার্স মির্জা ফিলিং স্টেশন, সকাল ৯টায় মেসার্স রাকিব অ্যান্ড ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশন, সকাল ১০টায় মেসার্স সুমন ফিলিং স্টেশন এবং সকাল ১১টায় মেসার্স কেয়া ফিলিং স্টেশনে তেল বিক্রয় কার্যক্রম শুরু হবে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল সচেতন নাগরিককে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও বৈধ রেজিস্ট্রেশন ছাড়া পেট্রোল পাম্পে না আসার জন্য কঠোরভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করতে এবং সরকারি এই নতুন নিয়ম মেনে চলতে সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

শিবগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তৌফিক আজিজ বলেন, পাম্পগুলোতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং কালো বাজারি রোধ করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করি অ্যাপের মাধ্যমে তেল বিক্রি করলে গ্রাহক ভোগান্তি কম হবে।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

Categories

চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুই উপজেলায় জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছে অ্যাপের মাধ্যমে

Update Time : ১১:২২:১৩ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ ও গোমস্তাপুর উপজেলায় মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল সরবরাহে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং অনিয়ম ও কালোবাজারি রোধে অ্যাপসভিত্তিক নতুন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই উদ্যোগের আওতায় এখন থেকে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে।

নতুন এই ব্যবস্থা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মঙ্গলবার সকালে গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির মুন্সির সভাপতিত্বে সভায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে সালমা রুমি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি এবং সকল পেট্রোল পাম্প মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় অ্যাপের মাধ্যমে তেল বিক্রির প্রক্রিয়া, গ্রাহক নিবন্ধন ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। প্রশাসন ও পাম্প মালিকদের প্রত্যাশা, এই আধুনিক ও ডিজিটাল পদ্ধতির ফলে সাধারণ গ্রাহকরা যেমন সহজে সেবা পাবেন, তেমনি জ্বালানি খাতে সুশৃঙ্খল পরিবেশ ফিরে আসবে।

গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির মুন্সি সভায় জানান, এই উদ্যোগের মাধ্যমে তেল বিক্রিতে অনিয়ম ও কালোবাজারি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি সাধারণ গ্রাহকেরা নির্ধারিত নিয়মে সহজে ও স্বচ্ছভাবে তেল ক্রয় করতে পারবেন।

এদিকে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অ্যাপের মাধ্যমে তেল বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিবগঞ্জ উপজেলা কার্যালয়।

ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা যায়, নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে তেল সংগ্রহের সময় প্রত্যেক মোটরসাইকেল চালককে অবশ্যই বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির রেজিস্ট্রেশন সঙ্গে রাখতে হবে। পাম্পে তেল নেওয়ার সময় অ্যাপের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মোটরসাইকেলের নথিপত্র যাচাই করা হবে, তাই নথিপত্রবিহীন কোনো বাইকে তেল সরবরাহ করা হবে না। প্রতিটি মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বরের বিপরীতে গৃহীত তেলের পরিমাণ একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিবার সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে এবং একবার তেল নেওয়ার পর পরবর্তী ৫ দিনের মধ্যে জেলার অন্য কোনো পাম্প থেকে আর তেল নেওয়া যাবে না। যদি কোনো চালক এই সময়ের মধ্যে পুনরায় তেল সংগ্রহের চেষ্টা করেন, তবে অ্যাপের মাধ্যমে ওই বাইকটিকে ‘ব্লক’ করে দেওয়া হবে এবং তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পাম্পগুলোতে শৃঙ্খলা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা বজায় রাখতে আগামীকাল থেকে পর্যায়ক্রমে তেল বিতরণ করা হবে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, সকাল ৮টায় মেসার্স মির্জা ফিলিং স্টেশন, সকাল ৯টায় মেসার্স রাকিব অ্যান্ড ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশন, সকাল ১০টায় মেসার্স সুমন ফিলিং স্টেশন এবং সকাল ১১টায় মেসার্স কেয়া ফিলিং স্টেশনে তেল বিক্রয় কার্যক্রম শুরু হবে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল সচেতন নাগরিককে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও বৈধ রেজিস্ট্রেশন ছাড়া পেট্রোল পাম্পে না আসার জন্য কঠোরভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করতে এবং সরকারি এই নতুন নিয়ম মেনে চলতে সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

শিবগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তৌফিক আজিজ বলেন, পাম্পগুলোতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং কালো বাজারি রোধ করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করি অ্যাপের মাধ্যমে তেল বিক্রি করলে গ্রাহক ভোগান্তি কম হবে।