শিরোনামঃ
বর্ডার পার হয়ে গেল ২০০ গরু, বিএসএফ জানালে জানলো বিজিবি চাঁপাইনবাবগঞ্জে মোটরসাইকেল নিবন্ধনে উপচে পড়া ভিড় এসএসসি পরীক্ষা ঘিরে যান চলাচলে ডিএমপির নির্দেশনা চাঁপাইনবাবগঞ্জে সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় পাপিয়া ও শুচি মহিলালীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে ফুটবল মাঠ ভরাট ও গোরস্থানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আমনুরায় চুক্তি শেষ হওয়ায় ৫০ মেগাওয়াট কেন্দ্র বন্ধ, চাপে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভোলাহাটে মাদকের বিরুদ্ধে ওসি বারিকের বিশেষ অভিযান চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভিমরুলের কামড়ে প্রাণ গেলো বৃদ্ধের, ১০ জনের বেশি আহত প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ বিএমডি’র আধুনিক শেচ প্রযুক্তি ও খাল খননে বদলে যাচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষি
News Title :
বর্ডার পার হয়ে গেল ২০০ গরু, বিএসএফ জানালে জানলো বিজিবি চাঁপাইনবাবগঞ্জে মোটরসাইকেল নিবন্ধনে উপচে পড়া ভিড় এসএসসি পরীক্ষা ঘিরে যান চলাচলে ডিএমপির নির্দেশনা চাঁপাইনবাবগঞ্জে সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় পাপিয়া ও শুচি মহিলালীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে ফুটবল মাঠ ভরাট ও গোরস্থানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আমনুরায় চুক্তি শেষ হওয়ায় ৫০ মেগাওয়াট কেন্দ্র বন্ধ, চাপে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভোলাহাটে মাদকের বিরুদ্ধে ওসি বারিকের বিশেষ অভিযান চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভিমরুলের কামড়ে প্রাণ গেলো বৃদ্ধের, ১০ জনের বেশি আহত প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ বিএমডি’র আধুনিক শেচ প্রযুক্তি ও খাল খননে বদলে যাচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডিএপি সার পাচার’ ঠেকাল কৃষি উদ্যোক্তরা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএডিসির এক ডিলারের ডিএপি সার ‘পাচারের সময়’ স্থানীয় চাষীরা হাতেনাতে ধরেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে সারগুলো উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তার উপস্থিতিতে আবারও ডিলারের গুদামে পাঠানো হয়েছে। শনিবার জেলার সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের আমনুরা স্টেশন বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও চাষীরা জানান, সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে ১৫ বস্তা ডিএপি সার নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এ সময় কয়েকজন চাষীরা ওই ভ্যানের গতিরোধ করে সার ক্রয়ের মেমো দেখতে চান। কিন্তু ভ্যান চালক কোন মেমো দেখাতে পারেন নি। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে ভ্যানটি সেখানে আটকে রাখা হয়। পরে সেখানে উপস্থিত হন ওই সারের বিক্রেতা আমনুরায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন-বিএডিসি’র সার ডিলার মেসার্স একরামুল হক অ্যান্ড সন্সের সত্বাধিকারী একরামুল হক।
তিনিও মেমো ছাড়া সার বিক্রির কোন সদুত্তোর দিতে পারেন নি। বিষয়টি নিয়ে সেখানে ডিলারের লোকজন ও চাষীদের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে উভয়ের মধ্যে হট্টগোলের পর সেখানে আসেন উপজেলা কৃষি অফিসের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আনিসুল হক মাহমুদ। তিনি উভয়পক্ষকে শান্ত করে সারগুলো আবারও ডিলারের গুদামে নিয়ে যান।
জামতলা এলাকা কৃষি উদ্যোক্তা গোলাম মোস্তফা সুমন বলেন, আমরা ডিলারের কাছে গিয়ে সার চাইলে বলা হয় সার নাই। অথচ গোপনে তারা পাশের উপজেলায় সার পাচার করছে। আবার আমরা পাচারের উদ্দেশ্যে মেমো ছাড়া সার নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে উল্টো আমাদের উপরই চড়াও হয় ডিলারের লোকজন। তিনি বলেন, এভাবেই ১০-১৫ বস্তা করে সার প্রতিনিয়ত পাচার হয়ে যাচ্ছে অন্য উপজেলা বা ইউনিয়নে। ডিলাররা নিজ ইউনিয়নের কৃষককে সার না দিয়ে অন্যত্র বিক্রি করছেন বেশি দামে জন্য।
আরেক কৃষি উদ্যোক্তা আসাদুল আল মাহমুদ বিপ্লব বলেন, সরকারের ভর্তুকির সার প্রকৃত কৃষকদের কাছে বিক্রি না করে অতিরিক্ত দামে বাইরে বিক্রি করছে ডিলাররা। আমরা এসব বিষয় নিয়ে আগামীকাল কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে যাবো। আমরা প্রকৃত কৃষকরা সার পাই না অথচ আমাদের ইউনিয়নের সার অন্য ইউনিয়নে এমনকি অন্য উপজেলাতে চলে যাচ্ছে।
সার ডিলার একরামুল হক বলেন, যে সারগুলো আটকে রেখেছিল সেগুলো বাইরের ডিলার থেকে কিনেছি। এগুলো আমার সরকারি বরাদ্দের সার নয়। যে কারণে সরকারি দামে এগুলো বিক্রি করা সম্ভব নয়। যারা আমার সার আটকে ছিল তারা সরকারি দামে সার কিনতে চেয়েছিল।
সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আনিসুল হক মাহমুদ বলেন, ডিলাররা কিছু সার অন্য উপজেলায় পাঠিয়ে দেয়, এ অভিযোগ সত্য। ঝিলিম ইউনিয়নের সার তানোর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়। আমাদের যারা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আছেন তারা তো আর সব সময় ডিলারের দোকান বা গুদামে বসে থাকতে পারেন না, তাদের অন্য কাজও তো থাকে। তিনি বলেন, আজকে চাষীরা যে সারগুলো আটকে রেখেছিল, সেগুলো ডিলারের গুদামে রাখা হয়েছে। আমরা ওই ডিলারের সার মজুদের পরিমাণও জেনে নিয়েছি। আগামীকাল কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সারগুলো বিক্রি করা হবে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

Categories

বর্ডার পার হয়ে গেল ২০০ গরু, বিএসএফ জানালে জানলো বিজিবি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডিএপি সার পাচার’ ঠেকাল কৃষি উদ্যোক্তরা

Update Time : ১২:২১:৩৬ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ১০ আগস্ট ২০২৫
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএডিসির এক ডিলারের ডিএপি সার ‘পাচারের সময়’ স্থানীয় চাষীরা হাতেনাতে ধরেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে সারগুলো উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তার উপস্থিতিতে আবারও ডিলারের গুদামে পাঠানো হয়েছে। শনিবার জেলার সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের আমনুরা স্টেশন বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও চাষীরা জানান, সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে ১৫ বস্তা ডিএপি সার নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এ সময় কয়েকজন চাষীরা ওই ভ্যানের গতিরোধ করে সার ক্রয়ের মেমো দেখতে চান। কিন্তু ভ্যান চালক কোন মেমো দেখাতে পারেন নি। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে ভ্যানটি সেখানে আটকে রাখা হয়। পরে সেখানে উপস্থিত হন ওই সারের বিক্রেতা আমনুরায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন-বিএডিসি’র সার ডিলার মেসার্স একরামুল হক অ্যান্ড সন্সের সত্বাধিকারী একরামুল হক।
তিনিও মেমো ছাড়া সার বিক্রির কোন সদুত্তোর দিতে পারেন নি। বিষয়টি নিয়ে সেখানে ডিলারের লোকজন ও চাষীদের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে উভয়ের মধ্যে হট্টগোলের পর সেখানে আসেন উপজেলা কৃষি অফিসের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আনিসুল হক মাহমুদ। তিনি উভয়পক্ষকে শান্ত করে সারগুলো আবারও ডিলারের গুদামে নিয়ে যান।
জামতলা এলাকা কৃষি উদ্যোক্তা গোলাম মোস্তফা সুমন বলেন, আমরা ডিলারের কাছে গিয়ে সার চাইলে বলা হয় সার নাই। অথচ গোপনে তারা পাশের উপজেলায় সার পাচার করছে। আবার আমরা পাচারের উদ্দেশ্যে মেমো ছাড়া সার নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে উল্টো আমাদের উপরই চড়াও হয় ডিলারের লোকজন। তিনি বলেন, এভাবেই ১০-১৫ বস্তা করে সার প্রতিনিয়ত পাচার হয়ে যাচ্ছে অন্য উপজেলা বা ইউনিয়নে। ডিলাররা নিজ ইউনিয়নের কৃষককে সার না দিয়ে অন্যত্র বিক্রি করছেন বেশি দামে জন্য।
আরেক কৃষি উদ্যোক্তা আসাদুল আল মাহমুদ বিপ্লব বলেন, সরকারের ভর্তুকির সার প্রকৃত কৃষকদের কাছে বিক্রি না করে অতিরিক্ত দামে বাইরে বিক্রি করছে ডিলাররা। আমরা এসব বিষয় নিয়ে আগামীকাল কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে যাবো। আমরা প্রকৃত কৃষকরা সার পাই না অথচ আমাদের ইউনিয়নের সার অন্য ইউনিয়নে এমনকি অন্য উপজেলাতে চলে যাচ্ছে।
সার ডিলার একরামুল হক বলেন, যে সারগুলো আটকে রেখেছিল সেগুলো বাইরের ডিলার থেকে কিনেছি। এগুলো আমার সরকারি বরাদ্দের সার নয়। যে কারণে সরকারি দামে এগুলো বিক্রি করা সম্ভব নয়। যারা আমার সার আটকে ছিল তারা সরকারি দামে সার কিনতে চেয়েছিল।
সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আনিসুল হক মাহমুদ বলেন, ডিলাররা কিছু সার অন্য উপজেলায় পাঠিয়ে দেয়, এ অভিযোগ সত্য। ঝিলিম ইউনিয়নের সার তানোর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়। আমাদের যারা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আছেন তারা তো আর সব সময় ডিলারের দোকান বা গুদামে বসে থাকতে পারেন না, তাদের অন্য কাজও তো থাকে। তিনি বলেন, আজকে চাষীরা যে সারগুলো আটকে রেখেছিল, সেগুলো ডিলারের গুদামে রাখা হয়েছে। আমরা ওই ডিলারের সার মজুদের পরিমাণও জেনে নিয়েছি। আগামীকাল কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সারগুলো বিক্রি করা হবে।