শিরোনামঃ
নেলসন ম্যান্ডেলা শান্তি পুরস্কার পেলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাহিদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তের মানুষের পাশে ৫৩ বিজিবি, একদিনে চিকিৎসা পেলেন ২ হাজার মানুষ নাচোলে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দূর্ণীতি প্রতিরোধ কমিটির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত জামায়াত এমপি গাজী নজরুলের ভিডিওটি অরিজিনাল, নারীকে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ দাবি জেলা জামায়াতের চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু নাচোলে প্রধান শিক্ষক জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস, সংবাদ সংগ্রহকালে দুই সাংবাদিক লাঞ্ছিত ভোলাহাটে এনজিও কর্মীর বিরুদ্ধে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ: গ্রেফতার ১ ‘আসাদুজ্জামান খানের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের কপি ভারতে পাঠানো হয়েছে’ বিদায়ের সুর, নাকি শেষবারের মতো অপেক্ষা- এখন কী করবেন মেসি ট্রফি হাতে ইয়ামাল-চোখে জল মেসির এবং ইতিহাসের সেই আলিঙ্গন
News Title :
নেলসন ম্যান্ডেলা শান্তি পুরস্কার পেলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাহিদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তের মানুষের পাশে ৫৩ বিজিবি, একদিনে চিকিৎসা পেলেন ২ হাজার মানুষ নাচোলে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দূর্ণীতি প্রতিরোধ কমিটির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত জামায়াত এমপি গাজী নজরুলের ভিডিওটি অরিজিনাল, নারীকে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ দাবি জেলা জামায়াতের চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু নাচোলে প্রধান শিক্ষক জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস, সংবাদ সংগ্রহকালে দুই সাংবাদিক লাঞ্ছিত ভোলাহাটে এনজিও কর্মীর বিরুদ্ধে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ: গ্রেফতার ১ ‘আসাদুজ্জামান খানের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের কপি ভারতে পাঠানো হয়েছে’ বিদায়ের সুর, নাকি শেষবারের মতো অপেক্ষা- এখন কী করবেন মেসি ট্রফি হাতে ইয়ামাল-চোখে জল মেসির এবং ইতিহাসের সেই আলিঙ্গন

নাচোলে প্রধান শিক্ষক জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস, সংবাদ সংগ্রহকালে দুই সাংবাদিক লাঞ্ছিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার কসবা উজিরপুর দরগা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দুর্নীতি, জালিয়াতি এবং অনিয়মের পাহাড় জমে উঠেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল জব্বার ব্যাকডেটে নিয়োগ, স্বাক্ষর জালিয়াতি, লাখ লাখ টাকার ঘুষ বাণিজ্য এবং নৈতিক স্খলনের ভয়াবহ চিত্র উন্মোচিত হয়েছে। এসব অনিয়মের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার আমিনুল ইসলাম এবং দৈনিক গণভক্তি, লোকালয় বার্তা ও এজেড অনলাইনের নিজস্ব প্রতিনিধি মো: সামিরুল ইসলাম লাঞ্ছিত হয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল জব্বার নিজেই জাল সনদের অভিযোগ মাথায় নিয়ে মাউশিতে কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছেন। তা সত্ত্বেও তিনি ম্যানেজিং কমিটি ও নিয়োগ বোর্ডকে ম্যানেজ করে বিশাল অঙ্কের দুর্নীতির সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন।

বিদ্যালয়টিতে ব্যাকডেটে নিয়োগের মাধ্যমে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও ডিজি প্রতিনিধির স্বাক্ষর জাল করে অবৈধভাবে সরকারি সুবিধা গ্রহণের পাঁয়তারা চলছে। অভিযুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের নামের তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো:

১. মোঃ আসাউল ইসলাম – সহকারী শিক্ষক (কৃষি)

২. মোহাম্মদ সারোয়ার – সহকারী শিক্ষক (গণিত)

৩. মোসাঃ ফাতেমা বেগম – সহকারী শিক্ষক (সমাজবিজ্ঞান)

৪. শহীদুল্লাহ – অফিস সহকারী

৫. মোঃ আব্দুল করিম – সহকারী শিক্ষক (শরীরচর্চা)

জানা গেছে, উপরোক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীরা তাদের ভুয়া নিয়োগের বৈধতা দিতে এবং বেতনের জন্য প্রধান শিক্ষককে মারাত্মকভাবে চাপ প্রয়োগ করে চলেছেন। এছাড়া, অফিস সহকারী শহীদুল্লাহর স্ত্রী মোসাম্মৎ সনজিদা-কেও ব্যাকডেটে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ক্লাস না করালেও তার নামে আইএমএস (IMS)-এ তথ্য অন্তুর্ভুক্ত রয়েছে।নিয়োগের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল জব্বার প্রতিটি শিক্ষক-কর্মচারীর নিকট থেকে নিয়োগ বাবদ গড়ে ৩ লক্ষ টাকা করে ঘুষ গ্রহণ করেছেন। কিন্তু এত টাকা নেওয়ার পরও বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নে এক পয়সাও খরচ করেননি। বিদ্যালয়ের বর্তমান যে ৫টি কক্ষ রয়েছে, তার পুরোটাই একটি সংস্থার অনুদানে নির্মিত। অনুসন্ধানে আরো জানা যায় ঐ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষক এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও সদিচ্ছার ফলেই প্রধান শিক্ষক তৎকালীন সময়ে ওই অনুদানের কাজ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একই পদের বিপরীতে ২-৩ জনের নিকট থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বহু প্রমাণ রয়েছে। বিশেষ করে, ২০২৪ সালের দিকে চারজন কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিলেও আজ পর্যন্ত কোনো নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেননি।

শিক্ষক হয়রানি ও সিনিয়র পাঠদান বাণিজ্যের চাল চিত্র

বিদ্যালয়টি ২০২২ সালে এমপিওভুক্ত হলে শিক্ষকদের বেতনের জন্য সিনিয়র পাঠদানের প্রয়োজন দেখা দেয়। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রধান শিক্ষক সিনিয়র পাঠদানের অনুমতি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে শিক্ষকদের নিকট থেকে পুনরায় মোটা অংকের টাকা আদায় করেন এবং ২০২৫ সালে সিনিয়র পাঠদান হাতে পান।

২০২১ সালের নীতিমালা অনুযায়ী তিনজন শিক্ষক সমন্বয়ের মাধ্যমে জুনিয়ারে আসার কথা এবং তাদের বেতনও জুনিয়রের সাথে হওয়ার কথা থাকলেও প্রধান শিক্ষক ব্যক্তিগত স্বার্থে তা আটকে রাখেন। এছাড়া, ২০২৩ সালে বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক -এর নিকট থেকে উপজেলা প্রত্যয়ন বাবদ প্রধান শিক্ষক ৪০ হাজার টাকা নিয়েও অদ্যাবধি কোনো প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করে দেননি। যার ফলে ওই শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে তার প্রাপ্য বেতন ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন ও নারী কেলেঙ্কারির মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।

সংবাদ সংগ্রহকালে দুই সাংবাদিক লাঞ্ছিত

বিদ্যালয়টির এসব পুকুরচুরি ও দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে কসবা উজিরপুর দরগা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে হামলার শিকার হয়েছেন পেশাদার গণমাধ্যমকর্মীরা।

অনুসন্ধানকালে দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার আমিনুল ইসলাম এবং দৈনিক গণভক্তি, লোকালয় বার্তা ও এজেড অনলাইন-এর নিজস্ব প্রতিনিধি মো: সামিরুল ইসলাম অতর্কিতভাবে লাঞ্ছিত হন। প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য বাইরে প্রকাশ পাওয়ার ভয়ে এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর এমন নগ্ন হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক সমাজসহ বিভিন্ন মহল। প্রধান শিক্ষককে তার অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়ে প্রশ্ন করতে গেলে সে সাংবাদিকের উপরে রাগান্বিত হয় এবং সহকারী শিক্ষকদের নিয়ে মানুষকে আচরণ করে। সাংবাদিকেরা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতন মহল অবিলম্বে প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল জব্বার ও তার সিন্ডিকেটের দুর্নীতি, স্বাক্ষর জালিয়াতি, ব্যাকডেটে নিয়োগ এবং সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করার ঘটনার সুনির্দিষ্ট বিচার দাবি করেছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

Categories

নেলসন ম্যান্ডেলা শান্তি পুরস্কার পেলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাহিদ

নাচোলে প্রধান শিক্ষক জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস, সংবাদ সংগ্রহকালে দুই সাংবাদিক লাঞ্ছিত

Update Time : ০৮:৪৪:২১ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার কসবা উজিরপুর দরগা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দুর্নীতি, জালিয়াতি এবং অনিয়মের পাহাড় জমে উঠেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল জব্বার ব্যাকডেটে নিয়োগ, স্বাক্ষর জালিয়াতি, লাখ লাখ টাকার ঘুষ বাণিজ্য এবং নৈতিক স্খলনের ভয়াবহ চিত্র উন্মোচিত হয়েছে। এসব অনিয়মের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার আমিনুল ইসলাম এবং দৈনিক গণভক্তি, লোকালয় বার্তা ও এজেড অনলাইনের নিজস্ব প্রতিনিধি মো: সামিরুল ইসলাম লাঞ্ছিত হয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল জব্বার নিজেই জাল সনদের অভিযোগ মাথায় নিয়ে মাউশিতে কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছেন। তা সত্ত্বেও তিনি ম্যানেজিং কমিটি ও নিয়োগ বোর্ডকে ম্যানেজ করে বিশাল অঙ্কের দুর্নীতির সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন।

বিদ্যালয়টিতে ব্যাকডেটে নিয়োগের মাধ্যমে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও ডিজি প্রতিনিধির স্বাক্ষর জাল করে অবৈধভাবে সরকারি সুবিধা গ্রহণের পাঁয়তারা চলছে। অভিযুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের নামের তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো:

১. মোঃ আসাউল ইসলাম – সহকারী শিক্ষক (কৃষি)

২. মোহাম্মদ সারোয়ার – সহকারী শিক্ষক (গণিত)

৩. মোসাঃ ফাতেমা বেগম – সহকারী শিক্ষক (সমাজবিজ্ঞান)

৪. শহীদুল্লাহ – অফিস সহকারী

৫. মোঃ আব্দুল করিম – সহকারী শিক্ষক (শরীরচর্চা)

জানা গেছে, উপরোক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীরা তাদের ভুয়া নিয়োগের বৈধতা দিতে এবং বেতনের জন্য প্রধান শিক্ষককে মারাত্মকভাবে চাপ প্রয়োগ করে চলেছেন। এছাড়া, অফিস সহকারী শহীদুল্লাহর স্ত্রী মোসাম্মৎ সনজিদা-কেও ব্যাকডেটে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ক্লাস না করালেও তার নামে আইএমএস (IMS)-এ তথ্য অন্তুর্ভুক্ত রয়েছে।নিয়োগের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল জব্বার প্রতিটি শিক্ষক-কর্মচারীর নিকট থেকে নিয়োগ বাবদ গড়ে ৩ লক্ষ টাকা করে ঘুষ গ্রহণ করেছেন। কিন্তু এত টাকা নেওয়ার পরও বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নে এক পয়সাও খরচ করেননি। বিদ্যালয়ের বর্তমান যে ৫টি কক্ষ রয়েছে, তার পুরোটাই একটি সংস্থার অনুদানে নির্মিত। অনুসন্ধানে আরো জানা যায় ঐ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষক এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও সদিচ্ছার ফলেই প্রধান শিক্ষক তৎকালীন সময়ে ওই অনুদানের কাজ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একই পদের বিপরীতে ২-৩ জনের নিকট থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বহু প্রমাণ রয়েছে। বিশেষ করে, ২০২৪ সালের দিকে চারজন কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিলেও আজ পর্যন্ত কোনো নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেননি।

শিক্ষক হয়রানি ও সিনিয়র পাঠদান বাণিজ্যের চাল চিত্র

বিদ্যালয়টি ২০২২ সালে এমপিওভুক্ত হলে শিক্ষকদের বেতনের জন্য সিনিয়র পাঠদানের প্রয়োজন দেখা দেয়। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রধান শিক্ষক সিনিয়র পাঠদানের অনুমতি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে শিক্ষকদের নিকট থেকে পুনরায় মোটা অংকের টাকা আদায় করেন এবং ২০২৫ সালে সিনিয়র পাঠদান হাতে পান।

২০২১ সালের নীতিমালা অনুযায়ী তিনজন শিক্ষক সমন্বয়ের মাধ্যমে জুনিয়ারে আসার কথা এবং তাদের বেতনও জুনিয়রের সাথে হওয়ার কথা থাকলেও প্রধান শিক্ষক ব্যক্তিগত স্বার্থে তা আটকে রাখেন। এছাড়া, ২০২৩ সালে বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক -এর নিকট থেকে উপজেলা প্রত্যয়ন বাবদ প্রধান শিক্ষক ৪০ হাজার টাকা নিয়েও অদ্যাবধি কোনো প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করে দেননি। যার ফলে ওই শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে তার প্রাপ্য বেতন ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন ও নারী কেলেঙ্কারির মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।

সংবাদ সংগ্রহকালে দুই সাংবাদিক লাঞ্ছিত

বিদ্যালয়টির এসব পুকুরচুরি ও দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে কসবা উজিরপুর দরগা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে হামলার শিকার হয়েছেন পেশাদার গণমাধ্যমকর্মীরা।

অনুসন্ধানকালে দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার আমিনুল ইসলাম এবং দৈনিক গণভক্তি, লোকালয় বার্তা ও এজেড অনলাইন-এর নিজস্ব প্রতিনিধি মো: সামিরুল ইসলাম অতর্কিতভাবে লাঞ্ছিত হন। প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য বাইরে প্রকাশ পাওয়ার ভয়ে এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর এমন নগ্ন হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক সমাজসহ বিভিন্ন মহল। প্রধান শিক্ষককে তার অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়ে প্রশ্ন করতে গেলে সে সাংবাদিকের উপরে রাগান্বিত হয় এবং সহকারী শিক্ষকদের নিয়ে মানুষকে আচরণ করে। সাংবাদিকেরা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতন মহল অবিলম্বে প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল জব্বার ও তার সিন্ডিকেটের দুর্নীতি, স্বাক্ষর জালিয়াতি, ব্যাকডেটে নিয়োগ এবং সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করার ঘটনার সুনির্দিষ্ট বিচার দাবি করেছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।