
চলতি মৌসুমে বিদেশে আম রপ্তানির স্বপ্ন দেখেছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাষিরা। তবে মৌসুম শেষে চিত্র ঠিক উল্টো। বিপুল পরিমাণ আম উৎপাদন করেও কাক্সিক্ষত রপ্তানি না হওয়ায় চাষিরা বড় ধরনের লোকসান গুনছেন। সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস থাকলেও কার্যকর উদ্যোগের অভাবেই মুখ থুবড়ে পড়েছে আম রপ্তানি এমন অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, এ বছর চীনসহ বিশ্বের ৩৮ দেশে ৫ হাজার টন আম রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। রাজশাহী অঞ্চলে রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন হয়েছে ৬ হাজার ৭২০ টন, যার মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জেই উৎপাদিত হয়েছে ৬ হাজার টন। তবে ৭ আগস্ট পর্যন্ত রপ্তানি হয়েছে মাত্র ২ হাজার ২০০ টন, যা লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকেরও কম।
চাষিরা বলছেন, উত্তম কৃষি চর্চা (গ্যাপ), ট্রেসেবিলিটি, ফাইটো-স্যানিটারি সার্টিফিকেট, প্যাকেজিং হাউস এবং হট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের অভাব আম রপ্তানির বড় বাধা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আমচাষি মো. কামরুল ইসলাম জানান, ‘রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনের লক্ষ্যে বাড়তি যত্ন ও খরচ করে চাষ করেছিলাম। কিন্তু বিদেশে পাঠাতে না পারায় এখন লোকসান গুনছি।
একই ধরনের হতাশার কথা বলেন মো. বুলবুল আলমও। তিনি জানান, ‘ফাইটো-স্যানিটারি সার্টিফিকেটের জটিলতা ও চাষিদের সঙ্গে রপ্তানিকারকদের দুর্বল যোগাযোগের কারণে উৎপাদিত আম বিদেশে পাঠানো যায়নি।
শিবগঞ্জ ম্যাংগো ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব আহসান হাবিব জানান, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে আধুনিক প্যাকেজিং হাউস না থাকায় ঢাকায় নিয়ে আম প্যাক করতে হয়। এতে খরচ
বাড়ে, নষ্ট হয় প্রায় ১০ শতাংশ আম। ফলে চাষি ও ব্যবসায়ীদের আগ্রহ কমে যায়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুনজের আলম মানিক বলেন, ফাইটো-স্যানিটারি সার্টিফিকেট, কোয়ারেন্টাইনের সুবিধা না থাকা, হট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের অভাব, বিমান ভাড়া বেশি হওয়ায় আম রপ্তানিতে গতি আসছে না।
রাজশাহীর বিপন এগ্রোর স্বত্বাধিকারী মো. হাফিজুর রহমান খান বলেন, নিরাপদ প্যাকিং, গ্রেডিং এবং উপযুক্ত পরিবহন না থাকায় আমরা আন্তর্জাতিক বাজারে পিছিয়ে পড়ছি।
রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের আওতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৩৭ চাষি প্রায় ৬ হাজার টন আম উৎপাদন করেছেন। কিন্তু এখান থেকে এখন পর্যন্ত রপ্তানি হয়েছে মাত্র ১৫৩ টন আম। গত বছর রপ্তানি হয়েছিল প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টন।
প্রকল্প পরিচালক আরিফুর রহমান জানান, লক্ষ্যমাত্রা ৫ হাজার টন থাকলেও এ বছর প্রায় ৪ হাজার টন আম রপ্তানি সম্ভব হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
চাষিরা বলছেন, শুধু আশা দিয়ে লাভ নেই প্রয়োজন বাস্তবায়নযোগ্য ও টেকসই রপ্তানি পরিকল্পনা, যেন পরের বছরগুলোয় এ হতাশা আর ফিরে না আসে।
সিফাত রানা, চাঁপাই জনপদ 



















