রপ্তানি জটিলতায় বিপাকে ভোলাহাটের মিষ্টি কুমড়া চাষিরা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার মিষ্টি কুমড়া দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশের বাজারে সুনাম কুড়ানোয়, রপ্তানিনির্ভর এই কৃষিপণ্যকে কেন্দ্র করে নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন চাষিরা। কিন্তু চলতি মৌসুমে রপ্তানি প্রক্রিয়ায় নানা জটিলতার কারণে সেই সম্ভাবনায় ভাটা পড়েছে। কাক্সিক্ষত বাজারমূল্য না পেয়ে আর্থিক চাপে পড়েছেন কৃষকেরা।

 

 

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, ফলিমারী বিল ও তালপল্লী এলাকায় রাস্তার দুপাশে সারি করে সাজানো মিষ্টি কুমড়া নিয়ে ক্রেতার অপেক্ষায় বসে আছেন চাষিরা। তবে পাইকার ও পরিবহন সংকটে অনেক কুমড়া বিক্রি ছাড়াই পড়ে থাকায় লোকসানের আশঙ্কা বাড়ছে।

 

 

 

গোহালবাড়ী এলাকার চাষি রানাউল ইসলাম জানান, গত চার বছর ধরে তিনি মিষ্টি কুমড়া চাষ ও রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত। পূর্ববর্তী মৌসুমগুলোতে বিদেশে রপ্তানির সুযোগ থাকায় ভালো দাম পেয়েছিলেন। কিন্তু এবার রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। তার ভাষায়, চাষাবাদে বিনিয়োগ করেছি বেশি, কিন্তু বিক্রি না হলে সবই লোকসান।

 

 

 

আরেক চাষি রবিউল হাসান বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে এ মৌসুমে উৎপাদন কিছুটা কম হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পরিবহন সংকট, রপ্তানি প্রক্রিয়ার জটিলতা এবং বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা। ফলে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ বেশি হলেও চাহিদা কম থাকায় ন্যায্যমূল্য মিলছে না।

 

 

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুনজের আলম মানিক মনে করেন, শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না। সংরক্ষণ ব্যবস্থা, কোল্ড স্টোরেজ, সরবরাহ চেইন ও বাজার অবকাঠামো শক্তিশালী না হলে রপ্তানির সম্ভাবনা টেকসই হবে না। তার মতে, পরিকল্পিত বিপণন কৌশল ও সরকারি সহায়তা ছাড়া কৃষকেরা দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে পারবেন না।

 

 

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুনতান আলী জানান, চলতি মৌসুমে ভোলাহাট উপজেলায় প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন মিষ্টি কুমড়া উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা। তবে উৎপাদনের সময়সূচির পরিবর্তন ও রপ্তানি জটিলতার কারণে বিপণনে সমস্যা তৈরি হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বাজারসংকট কাটানো না গেলে নির্ধারিত অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জন অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।

 

 

 

উল্লেখ্য, সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে কৃষিপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা যথেষ্ট। কিন্তু আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা, দ্রুত কাস্টমস প্রক্রিয়া, পরিবহন সুবিধা এবং বিকল্প বাজার নিশ্চিত না হলে কৃষকের স্বপ্ন বারবার ধাক্কা খাবে। ভোলাহাটের মিষ্টি কুমড়া তাই এখন সম্ভাবনা ও সংকটের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

Categories

রপ্তানি জটিলতায় বিপাকে ভোলাহাটের মিষ্টি কুমড়া চাষিরা

Update Time : ১২:০৬:১৭ পূর্বাহ্ণ, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার মিষ্টি কুমড়া দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশের বাজারে সুনাম কুড়ানোয়, রপ্তানিনির্ভর এই কৃষিপণ্যকে কেন্দ্র করে নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন চাষিরা। কিন্তু চলতি মৌসুমে রপ্তানি প্রক্রিয়ায় নানা জটিলতার কারণে সেই সম্ভাবনায় ভাটা পড়েছে। কাক্সিক্ষত বাজারমূল্য না পেয়ে আর্থিক চাপে পড়েছেন কৃষকেরা।

 

 

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, ফলিমারী বিল ও তালপল্লী এলাকায় রাস্তার দুপাশে সারি করে সাজানো মিষ্টি কুমড়া নিয়ে ক্রেতার অপেক্ষায় বসে আছেন চাষিরা। তবে পাইকার ও পরিবহন সংকটে অনেক কুমড়া বিক্রি ছাড়াই পড়ে থাকায় লোকসানের আশঙ্কা বাড়ছে।

 

 

 

গোহালবাড়ী এলাকার চাষি রানাউল ইসলাম জানান, গত চার বছর ধরে তিনি মিষ্টি কুমড়া চাষ ও রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত। পূর্ববর্তী মৌসুমগুলোতে বিদেশে রপ্তানির সুযোগ থাকায় ভালো দাম পেয়েছিলেন। কিন্তু এবার রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। তার ভাষায়, চাষাবাদে বিনিয়োগ করেছি বেশি, কিন্তু বিক্রি না হলে সবই লোকসান।

 

 

 

আরেক চাষি রবিউল হাসান বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে এ মৌসুমে উৎপাদন কিছুটা কম হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পরিবহন সংকট, রপ্তানি প্রক্রিয়ার জটিলতা এবং বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা। ফলে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ বেশি হলেও চাহিদা কম থাকায় ন্যায্যমূল্য মিলছে না।

 

 

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুনজের আলম মানিক মনে করেন, শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না। সংরক্ষণ ব্যবস্থা, কোল্ড স্টোরেজ, সরবরাহ চেইন ও বাজার অবকাঠামো শক্তিশালী না হলে রপ্তানির সম্ভাবনা টেকসই হবে না। তার মতে, পরিকল্পিত বিপণন কৌশল ও সরকারি সহায়তা ছাড়া কৃষকেরা দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে পারবেন না।

 

 

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুনতান আলী জানান, চলতি মৌসুমে ভোলাহাট উপজেলায় প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন মিষ্টি কুমড়া উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা। তবে উৎপাদনের সময়সূচির পরিবর্তন ও রপ্তানি জটিলতার কারণে বিপণনে সমস্যা তৈরি হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বাজারসংকট কাটানো না গেলে নির্ধারিত অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জন অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।

 

 

 

উল্লেখ্য, সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে কৃষিপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা যথেষ্ট। কিন্তু আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা, দ্রুত কাস্টমস প্রক্রিয়া, পরিবহন সুবিধা এবং বিকল্প বাজার নিশ্চিত না হলে কৃষকের স্বপ্ন বারবার ধাক্কা খাবে। ভোলাহাটের মিষ্টি কুমড়া তাই এখন সম্ভাবনা ও সংকটের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।