শিরোনামঃ
সচিবালয়ে আন্দোলন করায় ৪ কর্মচারী আটক ৪২ ফুট গভীরেও মিলল না সাজিদের হদিস, অনুসন্ধান আরও বাড়াল ফায়ার সার্ভিস ৪২ ফুট গভীরেও মিলল না সাজিদের হদিস, অনুসন্ধান আরও বাড়াল ফায়ার সার্ভিস নাচোলে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস পালিত নাচোলে বেগম রোকেয়া ও আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস পালিত নাচোলে সাংবাদিকদের সঙ্গে জামায়াত প্রার্থীর মতবিনিময় সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে এলো ৬০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ এমপি হলে বরাদ্দের এক পয়সাও না নেয়ার অঙ্গীকার জামায়াত প্রার্থী – মিজানুর রহমান  চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিজিবির অভিযানে মোটরসাইকেল ও মোবাইলসহ আটক ২ বাংলায় কথা বলায়, জোর করে পুশইন, ৪ ভারতীয় দেশে ফেরার অপেক্ষায়
News Title :
সচিবালয়ে আন্দোলন করায় ৪ কর্মচারী আটক ৪২ ফুট গভীরেও মিলল না সাজিদের হদিস, অনুসন্ধান আরও বাড়াল ফায়ার সার্ভিস ৪২ ফুট গভীরেও মিলল না সাজিদের হদিস, অনুসন্ধান আরও বাড়াল ফায়ার সার্ভিস নাচোলে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস পালিত নাচোলে বেগম রোকেয়া ও আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস পালিত নাচোলে সাংবাদিকদের সঙ্গে জামায়াত প্রার্থীর মতবিনিময় সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে এলো ৬০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ এমপি হলে বরাদ্দের এক পয়সাও না নেয়ার অঙ্গীকার জামায়াত প্রার্থী – মিজানুর রহমান  চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিজিবির অভিযানে মোটরসাইকেল ও মোবাইলসহ আটক ২ বাংলায় কথা বলায়, জোর করে পুশইন, ৪ ভারতীয় দেশে ফেরার অপেক্ষায়

সোনামসজিদের পাশ দিয়েই মহাসড়ক, হুমকিতে ছোট সোনামসজিদ

সুলতানি আমলের ঐতিহাসিক নিদর্শন ছোট সোনামসজিদের পাশ দিয়েই চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়ক হওয়ায় প্রতিদিন ২০ থেকে ৭০ টনেরও বেশি পণ্যবাহী আট শতাধিক ভারি যানবাহন চলাচল করে। এতে দুই পাশের ভবনগুলো কম্পন অনুভব করে এবং ক্ষণে ক্ষণে দুলতে থাকে ঐতিহ্যবাহী ছোট সোনামসজিদও।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় সুলতানি আমলের ঐতিহাসিক নিদর্শন ছোট সোনামসজিদ। সোনামসজিদের সীমানার মধ্যে সমাহিত আছেন বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের কবর। পাশেই শায়িত আছেন আরেক বীর মেজর নাজমুল হক। এছাড়া আধা কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে হয়রত শাহনেয়ামোতুল্লার মাজার, তোহাখানা, দারাসবাড়ি মসজিদ ও মাদ্রাসাসহ বেশ কিছু ঐতিহাসিক স্থাপনা।
তবে মসজিদটির পাশ দিয়েই চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়ক। এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ২০ থেকে ৭০ টনেরও বেশি পণ্যবাহী আট শতাধিক ভারি যানবাহন চলাচল করে। ফলে দুই পাশের ভবনগুলো কম্পন অনুভব করে এবং ক্ষণে ক্ষণে দুলতে থাকে ঐতিহ্যবাহী ছোট সোনামসজিদও। এরই মধ্যে ছোট সোনামসজিদের পুরো স্থাপনা জুড়ে দেখা দিয়েছে অসংখ্য ফাটল। পাথরের গাঁথুনি আলগা হয়ে গেছে এবং চিড় ধরা পড়েছে মূল দেয়াল থেকে মিনার পর্যন্ত। সোনামসজিদসহ এসব স্থাপনা দেখতে প্রতিদিন কয়েকশ পর্যটক আসেন। সুলতানি আমলের শিল্পকর্মে মুগ্ধ হলেও, অসংখ্য ফাটল তাদের মন ভেঙে দিচ্ছে।
পর্যটকদের মতোই মসজিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন স্থানীয় বাসিন্দা, মসজিদটির ইমাম ও কেয়ারটেকাররা। ঐতিহাসিক স্থাপনা রক্ষায় বাইপাস সড়ক এবং কম্পন নিরোধক ব্যবস্থা দ্রুত নেয়ার দাবি জানাচ্ছেন গবেষক, স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল। স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম ভুট্টু জানান, ‘দেয়ালের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল শুধুমাত্র বড় বড় পাথরবাহী ট্রাকের কারণে হয়েছে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে বাইপাস সড়ক নির্মাণ করে ঐতিহাসিক এই ইসলামিক স্থাপনা রক্ষা করা উচিত। তা না হলে অচিরেই ধ্বংস হয়ে যাবে। নামাজের সময়ও যখন কোন ট্রাক যায়, মসজিদটি কাঁপতে থাকে।’
স্থানীয় বাসিন্দা ও মসজিদের নিয়মিত মুসল্লী শাহিন শওকত বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিতে আছে ঐতিহাসিক ছোট সোনামসজিদ। পাশেই থাকা সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে দৈনিক শত শত পাথরবাহী ট্রাক যাতায়াত করে। প্রতিটি ট্রাকে থাকে ২০-৭০ মেট্রিক টনের বেশি পাথর। মসজিদের পাশে এই অতিরিক্ত পণ্যবাহী ট্রাকের কারণে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে মসজিদের পাশে বাইপাস সড়ক নির্মাণের দাবি থাকলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।’
ঐতিহ্যের স্বারকের এই পরিস্থিতিতে ছোট সোনামসজিদ রক্ষায় নেয়া বাইপাস সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে ফাইলবন্দি রয়েছে। জানা গেছে, ২০০৪-০৫ অর্থবছরে চারপাশে সীমানা প্রাচীর দেয়া হয়। এরপর আর কোনো কাজ হয়নি। সোনামসজিদের সংরক্ষণের গুরুত্ব বুঝে ২০০৯ সালে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ বাইপাস সড়ক নির্মাণের প্রকল্প প্রস্তাব করে। প্রস্তাবিত প্রকল্পটি ২০১৩ সালে পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটিতে আলোচনার পাশাপাশি একই বছরের ২৩ মে সড়ক ও জনপথ এবং পরিকল্পনা কমিশনের যৌথ প্রতিনিধি দল এলাকা পরিদর্শনও করে। কিন্তু গত ১২ বছরেও এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি।
গবেষকদের মতে, গঠনশৈলী ও প্রাচীনত্বের দিক থেকে সারাবিশ্বে এক অনন্য ইসলামিক নিদর্শন হলো ছোট সোনামসজিদ। এটি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি করছেন লেখক ও গবেষকরা। শিবগঞ্জ আদিনা ফজলুল হক সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ এবং গবেষক প্রফেসর ড. মোজাহারুল ইসলাম বলেন, ‘এমন ঐতিহাসিক স্থাপনা রক্ষায় সরকারের উচিত দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা, কারণ দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে রয়েছে ছোট সোনামসজিদ। এটিকে ধ্বংস হতে দেয়া উচিত নয়।’
প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর জানিয়েছে, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ছোট সোনামসজিদ ধসে পড়ার পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সোনামসজিদ গৌড় গ্রুপ অফ মনুমেন্টস বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক মো. শাহীনুজ্জামান খান বলেন, ‘মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে ঐতিহ্যের ছোট সোনামসজিদ। আমরা দফায় দফায় বিকল্প সড়ক বা বাইপাস সড়ক নির্মাণের জন্য যোগাযোগ করেছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শত শত বছরের ইতিহাসবাহী মসজিদটি ধসে যাবে।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহা. নাহিনুর রহমান বলেন, ‘আপাতত বাইপাস সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা নেই। তবে ঐতিহাসিক গুরুত্বকে বিবেচনায় রেখে মসজিদের সামনে কম্পন নিরোধক স্থাপন এবং ঢালাই সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। শিগগিরই এই কাজ শুরু হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে পণ্যবাহী ট্রাকের কম্পনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে ছোট সোনামসজিদ রক্ষা পাবে।’
উল্লেখ্য, ঐতিহাসিক ছোট সোনামসজিদের বয়স প্রায় ৫৫০ বছর। এটি সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের শাসনামলে ১৪৯৩ থেকে ১৫১৯ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে নির্মিত। দেশীয় দর্শনার্থীদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, চীন, সুইজারল্যান্ড, কুয়েত, ভারত ও পাকিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটকরা প্রতিদিন এটি দেখার জন্য আসে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সচিবালয়ে আন্দোলন করায় ৪ কর্মচারী আটক

সোনামসজিদের পাশ দিয়েই মহাসড়ক, হুমকিতে ছোট সোনামসজিদ

Update Time : ১১:২৩:০৮ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫
সুলতানি আমলের ঐতিহাসিক নিদর্শন ছোট সোনামসজিদের পাশ দিয়েই চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়ক হওয়ায় প্রতিদিন ২০ থেকে ৭০ টনেরও বেশি পণ্যবাহী আট শতাধিক ভারি যানবাহন চলাচল করে। এতে দুই পাশের ভবনগুলো কম্পন অনুভব করে এবং ক্ষণে ক্ষণে দুলতে থাকে ঐতিহ্যবাহী ছোট সোনামসজিদও।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় সুলতানি আমলের ঐতিহাসিক নিদর্শন ছোট সোনামসজিদ। সোনামসজিদের সীমানার মধ্যে সমাহিত আছেন বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের কবর। পাশেই শায়িত আছেন আরেক বীর মেজর নাজমুল হক। এছাড়া আধা কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে হয়রত শাহনেয়ামোতুল্লার মাজার, তোহাখানা, দারাসবাড়ি মসজিদ ও মাদ্রাসাসহ বেশ কিছু ঐতিহাসিক স্থাপনা।
তবে মসজিদটির পাশ দিয়েই চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়ক। এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ২০ থেকে ৭০ টনেরও বেশি পণ্যবাহী আট শতাধিক ভারি যানবাহন চলাচল করে। ফলে দুই পাশের ভবনগুলো কম্পন অনুভব করে এবং ক্ষণে ক্ষণে দুলতে থাকে ঐতিহ্যবাহী ছোট সোনামসজিদও। এরই মধ্যে ছোট সোনামসজিদের পুরো স্থাপনা জুড়ে দেখা দিয়েছে অসংখ্য ফাটল। পাথরের গাঁথুনি আলগা হয়ে গেছে এবং চিড় ধরা পড়েছে মূল দেয়াল থেকে মিনার পর্যন্ত। সোনামসজিদসহ এসব স্থাপনা দেখতে প্রতিদিন কয়েকশ পর্যটক আসেন। সুলতানি আমলের শিল্পকর্মে মুগ্ধ হলেও, অসংখ্য ফাটল তাদের মন ভেঙে দিচ্ছে।
পর্যটকদের মতোই মসজিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন স্থানীয় বাসিন্দা, মসজিদটির ইমাম ও কেয়ারটেকাররা। ঐতিহাসিক স্থাপনা রক্ষায় বাইপাস সড়ক এবং কম্পন নিরোধক ব্যবস্থা দ্রুত নেয়ার দাবি জানাচ্ছেন গবেষক, স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল। স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম ভুট্টু জানান, ‘দেয়ালের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল শুধুমাত্র বড় বড় পাথরবাহী ট্রাকের কারণে হয়েছে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে বাইপাস সড়ক নির্মাণ করে ঐতিহাসিক এই ইসলামিক স্থাপনা রক্ষা করা উচিত। তা না হলে অচিরেই ধ্বংস হয়ে যাবে। নামাজের সময়ও যখন কোন ট্রাক যায়, মসজিদটি কাঁপতে থাকে।’
স্থানীয় বাসিন্দা ও মসজিদের নিয়মিত মুসল্লী শাহিন শওকত বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিতে আছে ঐতিহাসিক ছোট সোনামসজিদ। পাশেই থাকা সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে দৈনিক শত শত পাথরবাহী ট্রাক যাতায়াত করে। প্রতিটি ট্রাকে থাকে ২০-৭০ মেট্রিক টনের বেশি পাথর। মসজিদের পাশে এই অতিরিক্ত পণ্যবাহী ট্রাকের কারণে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে মসজিদের পাশে বাইপাস সড়ক নির্মাণের দাবি থাকলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।’
ঐতিহ্যের স্বারকের এই পরিস্থিতিতে ছোট সোনামসজিদ রক্ষায় নেয়া বাইপাস সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে ফাইলবন্দি রয়েছে। জানা গেছে, ২০০৪-০৫ অর্থবছরে চারপাশে সীমানা প্রাচীর দেয়া হয়। এরপর আর কোনো কাজ হয়নি। সোনামসজিদের সংরক্ষণের গুরুত্ব বুঝে ২০০৯ সালে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ বাইপাস সড়ক নির্মাণের প্রকল্প প্রস্তাব করে। প্রস্তাবিত প্রকল্পটি ২০১৩ সালে পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটিতে আলোচনার পাশাপাশি একই বছরের ২৩ মে সড়ক ও জনপথ এবং পরিকল্পনা কমিশনের যৌথ প্রতিনিধি দল এলাকা পরিদর্শনও করে। কিন্তু গত ১২ বছরেও এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি।
গবেষকদের মতে, গঠনশৈলী ও প্রাচীনত্বের দিক থেকে সারাবিশ্বে এক অনন্য ইসলামিক নিদর্শন হলো ছোট সোনামসজিদ। এটি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি করছেন লেখক ও গবেষকরা। শিবগঞ্জ আদিনা ফজলুল হক সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ এবং গবেষক প্রফেসর ড. মোজাহারুল ইসলাম বলেন, ‘এমন ঐতিহাসিক স্থাপনা রক্ষায় সরকারের উচিত দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা, কারণ দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে রয়েছে ছোট সোনামসজিদ। এটিকে ধ্বংস হতে দেয়া উচিত নয়।’
প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর জানিয়েছে, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ছোট সোনামসজিদ ধসে পড়ার পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সোনামসজিদ গৌড় গ্রুপ অফ মনুমেন্টস বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক মো. শাহীনুজ্জামান খান বলেন, ‘মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে ঐতিহ্যের ছোট সোনামসজিদ। আমরা দফায় দফায় বিকল্প সড়ক বা বাইপাস সড়ক নির্মাণের জন্য যোগাযোগ করেছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শত শত বছরের ইতিহাসবাহী মসজিদটি ধসে যাবে।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহা. নাহিনুর রহমান বলেন, ‘আপাতত বাইপাস সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা নেই। তবে ঐতিহাসিক গুরুত্বকে বিবেচনায় রেখে মসজিদের সামনে কম্পন নিরোধক স্থাপন এবং ঢালাই সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। শিগগিরই এই কাজ শুরু হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে পণ্যবাহী ট্রাকের কম্পনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে ছোট সোনামসজিদ রক্ষা পাবে।’
উল্লেখ্য, ঐতিহাসিক ছোট সোনামসজিদের বয়স প্রায় ৫৫০ বছর। এটি সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের শাসনামলে ১৪৯৩ থেকে ১৫১৯ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে নির্মিত। দেশীয় দর্শনার্থীদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, চীন, সুইজারল্যান্ড, কুয়েত, ভারত ও পাকিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটকরা প্রতিদিন এটি দেখার জন্য আসে।